বাংলা টেলিভিশনের জগতে ঋতা দত্ত চক্রবর্তী এমন এক নাম, যাঁকে আলাদা করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছেন বারবার। ছোট পর্দায় তাঁর উপস্থিতি মানেই গল্পে এক আলাদা গভীরতা। চরিত্র ছোট হোক বা বড়, রিতা দত্ত চক্রবর্তী নিজের অভিনয় দিয়ে সেটিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে বরাবরই সফল।
বহু ধারাবাহিকে নানা রকম চরিত্রে তাঁকে দেখা গিয়েছে। কখনও স্নেহশীল অভিভাবক, কখনও কঠোর বাস্তববাদী নারী, আবার কখনও দর্শকের বিরাগের কারণ হয়ে ওঠা চরিত্র—সব ক্ষেত্রেই তিনি সাবলীল। পর্দার চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে এমনভাবে মিশিয়ে দেন যে দর্শক খুব সহজেই তাঁকে আপন করে নেয়। এই ধারাবাহিকতা এবং নিষ্ঠাই তাঁকে টলিপাড়ায় এক বিশেষ জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে।
দু’দশকেরও বেশি সময় ধরে ঋতা দত্ত চক্রবর্তী দর্শকদের মনোরঞ্জন করে আসছেন। তবে শুধু অভিনয় নয়, তাঁর চিন্তাভাবনা, কথা বলার ভঙ্গি এবং জীবনদর্শনও দর্শকের ভালোবাসার বড় কারণ। পর্দার বাইরে তিনি যেভাবে নিজের মতামত তুলে ধরেন, তাতেও একধরনের সংবেদনশীলতা ধরা পড়ে। তাই অনেক দর্শকের কাছেই তিনি শুধু অভিনেত্রী নন, একজন সচেতন মানুষ হিসেবেও সমানভাবে গ্রহণযোগ্য।
সম্প্রতি এক কথোপকথনে অভিনেত্রী মানুষের জীবন নিয়ে নিজের ভাবনার কথা শেয়ার করেছেন। তিনি জানান, মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার জন্য আমরা যে বিশেষ সুবিধাগুলি পাই, তার জন্য তিনি গভীরভাবে শ্রদ্ধাশীল। তাঁর মতে, এই সুযোগগুলোকে কখনও হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়, বরং এর মূল্য বোঝা জরুরি।
আরও পড়ুনঃ নতুন বছরের শুরুতেই বড়পর্দায় নতুন চমক শুভস্মিতার! কোন সিনেমায় কোন চরিত্রে দেখা যাবে লক্ষ্মী ঝাঁপির নায়িকাকে?
ঋতা দত্ত চক্রবর্তী আরও বলেন, পৃথিবীতে মানুষের পাশাপাশি আরও অনেক প্রাণী রয়েছে, যাদের প্রাণ আছে, অনুভূতি আছে, কিন্তু তারা মানুষের মতো সুযোগ-সুবিধা পায় না। এই ভাবনাই তাঁকে আরও সংবেদনশীল করে তোলে। অভিনেত্রীর কথায়, মানুষ হিসেবে আমাদের দায়িত্ব শুধু নিজের জন্য নয়, চারপাশের সব প্রাণের প্রতিও সহানুভূতিশীল হওয়া। এই মননশীল দৃষ্টিভঙ্গিই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে।






