“আমি বিশ্বের একমাত্র রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যে অভিনেতা, রিসার্চার ও কর্পোরেট মানুষ!” এক শরীরে এত পরিচয় বিরল মনে করেন হার্ভার্ডের প্রফেসর, জানালেন হিরন চট্টোপাধ্যায়! ‘নিজের ঢাক কি নিজেই পেটাচ্ছেন অভিনেতা?’ প্রশ্ন সমাজ মাধ্যমের!

টলিউডের পর্দায় তাঁকে বহুবার দেখা গেছে শক্তিশালী চরিত্রে। কখনও খলনায়ক, কখনও ধূসর ছায়ার মানুষ বা হিরো—চরিত্র যাই হোক, অভিনয়ে বরাবরই আলাদা ছাপ রেখে গিয়েছেন হিরণ চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু পর্দার বাইরের হিরণকে জানলে বোঝা যায়, তাঁর জীবন শুধু সিনেমার ফ্রেমেই সীমাবদ্ধ নয়। অভিনয়ের আড়ালে রয়েছে অভিজ্ঞতায় ভরা এক বহুমাত্রিক জীবন, যেখানে চিন্তা, দায়িত্ব আর প্যাশন মিলেমিশে একাকার।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের সেই জীবনের নানা দিক তুলে ধরেছেন হিরণ। কথার ফাঁকে উঠে এসেছে এমন কিছু অভিজ্ঞতা, যা অনেকের কাছেই অজানা। কাজের সূত্রে এক সময় তিনি গিয়েছিলেন হার্ভার্ডে। সেখানেই প্রফেসর ও রিসার্চারদের সঙ্গে কফির আড্ডায় আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠেন তিনি নিজেই। তাঁদের মতে, পৃথিবীর ইতিহাসে এমন মানুষ খুব কমই দেখা যায়, যিনি একসঙ্গে অভিনেতা, কর্পোরেট ব্যাকগ্রাউন্ডের সঙ্গে যুক্ত, গবেষণামুখী মানসিকতা রাখেন এবং পাশাপাশি সক্রিয়ভাবে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এই মন্তব্য হিরণের মনে গভীর প্রভাব ফেলেছে বলেই জানান তিনি।

হিরণের বিশ্বাস, মানুষের যদি কোনও বিষয়ে সত্যিকারের প্যাশন থাকে, তবে একাধিক দায়িত্ব সামলানো অসম্ভব নয়। তাঁর মতে, আলাদা আলাদা পরিচয় আসলে একই ব্যক্তিত্বের ভিন্ন দিক। সেই ভাবনাই হয়তো তাঁর অভিনয় জীবনেও প্রতিফলিত হয়েছে। টলিউডে তিনি কাজ করেছেন একাধিক জনপ্রিয় ও বাণিজ্যিকভাবে সফল ছবিতে। ‘লাভ সার্কাস’, ‘রিস্ক’, ‘বাজি’, ‘জামাই ৪২০’, ‘বস ২’—এই ছবিগুলিতে মূলত খলচরিত্র বা শক্তিশালী পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের নজর কেড়েছেন তিনি। নেগেটিভ কিংবা গ্রে শেডের চরিত্রেও তাঁর সাবলীল অভিনয় বরাবর প্রশংসিত।

শুধু অভিনয়েই থেমে থাকেননি হিরণ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি যুক্ত হয়েছেন সক্রিয় রাজনীতিতে। সাধারণ মানুষের সমস্যা, সামাজিক উন্নয়ন এবং সাংস্কৃতিক চর্চার প্রসঙ্গ বারবার উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। রাজনীতিকে তিনি ক্ষমতার লড়াই হিসেবে দেখেন না, বরং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর একটি মাধ্যম হিসেবে ভাবেন। সেই কারণেই অভিনয় আর রাজনীতিকে তিনি আলাদা করে দেখেন না, দুটিকেই নিজের দায়িত্বের অংশ বলে মনে করেন।

আরও পড়ুনঃ শেষকৃ’ত্যে দে’হ ঘিরে দাঁড়াল প্রিয় পোষ্যরা! অবলাদের কা’ন্নার আওয়াজে স্তব্ধ সবাই! মায়ের শেষ মুহূর্তের স্মৃতি ভাগ করলেন কাঞ্চনা মৈত্র! পোষ্যদের চোখের জল দেখে, ভেঙে পড়েছেন অভিনেত্রী!

সব মিলিয়ে হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের জীবন যেন এক চলমান অভিজ্ঞতার গল্প। অভিনয়, কর্পোরেট অভিজ্ঞতা, গবেষণামুখী চিন্তা আর রাজনীতি—সবকিছু মিলিয়ে তিনি বিশ্বাস করেন একটাই কথায়, প্যাশন থাকলে পথ নিজেই তৈরি হয়। কিন্তু অন্যদিকে নেটিজেনরা কটাক্ষ করেছেন তিনি নাকি “নিজের ঢাক নিজেই পেটায়”। কিন্তু হিরন কোন কিছুকে তোয়াক্কা না করে এগিয়ে চলেছেন, নিজের মতো করে, নিজের বিশ্বাসে অবিচল থেকে।

You cannot copy content of this page