“এক রাতেই বাড়ি ছাড়তে বলা হয়েছিল…শেষ দিন পর্যন্ত সংসার বাঁচাতে চেয়েছিলাম!” ১৯ বছরের দাম্পত্য ভাঙার পর বি’স্ফোরক অভিযোগ শ্রেয়ার! দাম্পত্য জীবনের অজানা অধ্যায় সামনে আসতেই, কী প্রতিক্রিয়া জয়জিতের?

প্রায় উনিশ বছরের দাম্পত্য জীবনের শেষে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শ্রেয়া ও জয়জিৎ। তাঁদের একমাত্র ছেলে যশোজিৎ এখন প্রাপ্তবয়স্ক এবং নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নিয়েছে। মা কিংবা বাবার কারও সঙ্গেই না থেকে সে আপাতত থাকছে ঠাকুরদা ও ঠাকুমার কাছেই। এই সিদ্ধান্তে কারও কোনও চাপ নেই বলেই জানিয়েছেন শ্রেয়া। সপ্তাহান্তে ছেলের সঙ্গে সময় কাটান তিনি। শ্রেয়ার কথায়, বয়সের ভারে নুয়ে পড়া ঠাকুরদা ঠাকুমার সঙ্গেই থাকতে চেয়েছে যশোজিৎ, আর সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানো ছাড়া আর কিছু করার নেই।

তবে সম্পর্ক ভাঙার যন্ত্রণা এখানেই শেষ নয়। শ্রেয়ার অভিযোগ, তাঁদের পরিবারের আরেক কনিষ্ঠ সদস্য অর্থাৎ পোষ্য কুকুরটির কোনও দায়িত্ব নেননি জয়জিৎ। প্রায় আড়াই বছর ধরে সেই পোষ্য সম্পূর্ণভাবে শ্রেয়ার কাছেই রয়েছে। আলাদা হওয়ার দিন থেকেই সে তাঁর সঙ্গেই আছে। এই বিষয়টি শ্রেয়ার মনে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, পরিবার মানে শুধু মানুষ নয়, পোষ্যও সমানভাবে পরিবারের অংশ।

শ্রেয়ার অভিযোগ আরও গভীর। তাঁর দাবি, দাম্পত্য জীবনে জয়জিৎ তাঁর সঙ্গে ভাল ব্যবহার করেননি। এমনকি এক রাতে তাঁকে বাড়ি ছাড়তে বলা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সেই রাতেই তিনি ওই বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। তবুও শেষ দিন পর্যন্ত সংসার বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন শ্রেয়া। তিনি মনে করিয়ে দেন, জয়জিতের জীবনের শুরুর সময় থেকে তিনি পাশে ছিলেন। অভাবের দিন, মাটিতে ঘুমোনো, পড়াশোনা ও চাকরির লড়াই সবেতেই তিনি সঙ্গ দিয়েছেন। সেই সঙ্গে শ্বশুর শাশুড়ির অবদানও অস্বীকার করেন না শ্রেয়া।

তবে আক্ষেপ রয়েই গেছে। শ্রেয়ার দাবি, শেষ আড়াই বছরে শ্বশুর শাশুড়ির সঙ্গে কোনও যোগাযোগ হয়নি তাঁর। দীর্ঘ কুড়ি বছরের সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও কেউ খোঁজ নেয়নি তিনি কেমন আছেন। এমনকি অভিযোগ করেন, লোক দেখানোর জন্য ৫০ বছরের বিবাহবার্ষিকীতে তাঁকে ডাকা হলেও তার পরে আর কোনও যোগাযোগ রাখা হয়নি। এই নীরবতাই তাঁকে সবচেয়ে বেশি আঘাত দিয়েছে বলে জানান শ্রেয়া।

আরও পড়ুনঃ “সত্য প্রতিষ্ঠার লড়াই!” বনগাঁ কাণ্ডে নতুন মোড়! অভিযুক্ত তনয় শাস্ত্রীর বিরুদ্ধে শারী’রিক হে’নস্থার অভিযোগে আদালতে গোপন জবানবন্দি দিলেন মিমি চক্রবর্তী!

অন্যদিকে এই সমস্ত অভিযোগ প্রসঙ্গে মুখ খুলতে চাননি জয়জিৎ। তাঁর বক্তব্য, তিনি কাদা ছোড়াছুড়িতে বিশ্বাসী নন। শ্রেয়া তাঁর সন্তানের মা এবং তিনি যা খুশি বলতে পারেন। সময়ই ঠিক করবে কে ঠিক কে ভুল। উল্লেখ্য, ডিসেম্বরে আইনি বিচ্ছেদের আগে আড়াই বছর ধরে আলাদা থাকছিলেন তাঁরা। শ্রেয়া বর্তমানে কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত। আর জয়জিতের কাজের দুনিয়ায় নতুন কোনও চরিত্রে ফেরার জল্পনাও শোনা যাচ্ছে। বিতর্কের মাঝেই এই সম্পর্কের শেষ অধ্যায় আরও একবার আলোচনায় উঠে এল।

You cannot copy content of this page