দীর্ঘ বিরতির পর আবার কলকাতায় পা রেখেছেন এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মৌসুমী চ্যাটার্জি। এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তাঁকে দেখা গেল অনেকদিন পর খোলামেলা আড্ডায়। ‘বালিকা বধূ’, ‘ওগো বধূ সুন্দরি’ থেকে শুরু করে তাঁর শেষ দিকের ছবি ‘আড়ি’— কেরিয়ারের নানা স্মৃতি উঠে এসেছে কথোপকথনে। তবে শুধু সিনেমা নয়, ব্যক্তিগত জীবন, দুঃখ, দর্শন— সব মিলিয়ে সাক্ষাৎকারটি যেন এক আত্মস্বীকারোক্তি।
প্রায় সাত-আট বছর পর শহরে এসে তিনি স্বীকার করেন, বড় মেয়ে পায়েলের অকালমৃত্যুর পর জীবন অনেকটাই বদলে গেছে। স্বামীকে একা রেখে কোথাও যেতে স্বচ্ছন্দ নন তিনি। মজার ছলে বলেন, তাঁকে না দেখলে স্বামী নাকি দুপুরের খাবারই এড়িয়ে যান। ব্যক্তিগত শোকের কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, আধ্যাত্মিকতা তাঁকে ভেঙে পড়া থেকে বাঁচিয়েছে। বাবার একটি কথা উদ্ধৃত করে বলেন, “মৃত্যুটা একটা আশীর্বাদ।” তাঁর বিশ্বাস, দুঃখকে বড় না করে মানুষের মধ্যে আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়াই বড় কাজ।
সাক্ষাৎকারে বাংলা ও হিন্দি চলচ্চিত্র জগতের তুলনাও টানেন তিনি। তাঁর মতে, ‘হিরোইজম’ মানে শুধু জনপ্রিয়তা নয়, ব্যক্তিত্ব ও শালীনতা। হিন্দি ছবিতে কাজের অভিজ্ঞতা থেকে উদাহরণ দেন বিনোদ খান্না ও ধর্মেন্দ্র-র কথা— নতুন কেউ সেটে এলে তাঁরা নাকি নিজের চেয়ার ছেড়ে দিতেন। সেই ব্যবহার তাঁকে প্রভাবিত করেছে। পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ার বাড়াবাড়ি নিয়েও সমালোচনা করেন। তাঁর কথায়, “ভালো চাকরি ছেড়ে শুধু নাচের ভিডিও পোস্ট করাটা বোকামি।” শালীনতা ও আত্মসম্মান বজায় রাখার উপর জোর দেন তিনি। উদাহরণ হিসেবে স্মরণ করেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়-এর সরল জীবনযাপন।
সাক্ষাৎকারের ফাঁকে উঠে আসে এক চমকপ্রদ ঘটনা। ব্যাঙ্গালোরের কাছে চিত্রদুর্গার জঙ্গলে শুটিং করতে গিয়ে তিনি না বুঝেই একটি সাপ ধরে ফেলেছিলেন। সঙ্গে ছিলেন ঋষি কাপুর ও নীতু কাপূর। সাপটিকে শক্ত করে ধরতেই সেটি তাঁর শরীরে জড়িয়ে যায়। শুটিং স্পটে হইচই পড়ে যায়। খবর পেয়ে স্বামী ছুটে এসে রীতিমতো ভয় পেয়ে যান। মজার ছলে তিনি নাকি বলেছিলেন, “এখনই সাপটা না ছাড়লে ডিভোর্স করে দেব!” যদিও পুরো ঘটনাই ছিল আতঙ্ক আর হাসির মিশেল।
আরও পড়ুনঃ বি’চ্ছেদের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে সম্পর্ক! স্বামী প্রবাহর কাছে নাকি খোরপোশ চেয়ে আবেদন করেছেন ভাইরাল গায়িকা দেবলীনা নন্দী? নতুন গুঞ্জনে তোলপাড় টলিপাড়ায়
সবশেষে কলকাতা নিয়ে খানিক আক্ষেপও শোনালেন অভিনেত্রী। তাঁর মতে, এ শহরে মানুষ এখন কম্প্রোমাইজ নয়, শুধু ‘এডজাস্টমেন্ট’ করছে— আর তাতেই নাকি অনেক কিছু হারাচ্ছে। একসময়ের প্রাণবন্ত শহরকে তিনি মিস করেন। তবে স্পষ্ট, জীবনের উত্থান-পতন, প্রেম, শোক— সব পেরিয়েও মৌসুমী চ্যাটার্জি আজও নিজের মতো করেই বাঁচতে জানেন।






