“তুই সোজা শিরদাঁরা নিয়েই মহাপ্রস্থানে গেলি, লোকে একটা আস্ত মেরুদন্ড নিয়ে হাঁটতে পারছে না” রহস্য ঘনীভূত রাহুলের অকাল মৃ’ত্যুকে ঘিরে, প্রশ্নের মুখে প্রযোজনা সংস্থা! তবুও চুপ ইন্ডাস্ট্রি? দায় এড়ানোর অভিযোগে মুখ খুললেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়!

অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমেছে টলিউডে। তাঁর চলে যাওয়া অনেকের কাছেই এখনও অবিশ্বাস্য। প্রাণবন্ত এবং সোজাসাপ্টা স্বভাবের মানুষ হিসেবে ইন্ডাস্ট্রিতে পরিচিত ছিলেন তিনি। হঠাৎ এই মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না সহকর্মীরা। বিশেষ করে অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় গভীরভাবে ভেঙে পড়েছেন। তাঁর সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে একরাশ দুঃখ, স্মৃতি আর আক্ষেপ। রাহুলের সঙ্গে পরিকল্পনা থাকা সত্ত্বেও তা আর বাস্তবায়িত না হওয়ায় তিনি নিজেকেই দোষ দিচ্ছেন। একাধিক অসমাপ্ত কথা আর না বলা অনুভূতি তাঁকে কষ্ট দিচ্ছে বারবার।

স্বস্তিকা জানিয়েছেন, ফেসবুকের পুরনো স্মৃতি বারবার তাঁকে অতীতে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তিনি লিখেছেন, অন্য সময় হলে হয়তো হাসিমুখে সেই ছবি রাহুলকে পাঠাতেন। কিন্তু এখন সেই সুযোগ আর নেই। কয়েক সপ্তাহ আগেই তাঁদের শেষ কথা হয়েছিল। তখন তিনি অরুণাচল যাচ্ছিলেন এবং ফিরে এসে দেখা করার কথা ছিল। রাহুলকেও বলেছিলেন একটি ছবি দেখে রাখতে, যাতে পরে আলোচনা করা যায়। এর আগে রাহুল মাঝে মাঝে ফোন করতেন, নানা বিষয়ে কথা বলতে। সেই ফোনালাপগুলোই এখন তাঁর কাছে সবচেয়ে প্রিয় স্মৃতি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি আরও জানান, বারবার পরিকল্পনা করা হলেও সময় মিলছিল না দুজনের। কাজের চাপে সেই দেখা পিছিয়েই যাচ্ছিল। তবে এবার সব ঠিক হয়ে গিয়েছিল বলে মনে হচ্ছিল। দুজনেই আউটডোর শুটিং থেকে ফিরে সময় বের করে আড্ডা দেওয়ার কথা ছিল। জীবন, কাজ আর সাধারণ নানা বিষয় নিয়ে কথা বলার পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি আর পূরণ হলো না। এই না হওয়া মুহূর্তগুলিই এখন স্বস্তিকার কাছে সবচেয়ে বড় আক্ষেপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাহুল সম্পর্কে বলতে গিয়ে স্বস্তিকা জানিয়েছেন, তিনি ছিলেন এককথার মানুষ এবং নিজের মতের উপর অটল। ইন্ডাস্ট্রিতে যেখানে অনেকেই আপস করেন, সেখানে রাহুল নিজের অবস্থান ধরে রেখেছিলেন। এই গুণটিকেই তিনি শ্রদ্ধা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এই মৃত্যু তাঁকে অনেক কিছু শিখিয়ে দিল। নিজের কাজ এবং সিদ্ধান্ত নিয়ে আরও দৃঢ় থাকার সাহস পেয়েছেন তিনি। কাজ পাওয়া না পাওয়া নিয়ে ভাবনা না করে নিজের বিশ্বাসে অটল থাকার কথাও জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

এদিকে রাহুলের মৃত্যুকে ঘিরে শুটিং ফ্লোরের গাফিলতি নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। জানা গেছে, সমুদ্র সৈকতে শুটিংয়ের অনুমতি ছিল না, তবুও সেখানে কাজ করা হচ্ছিল। কেন এমন ঝুঁকি নেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। স্বস্তিকাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এই বিষয়ে। তাঁর বক্তব্য, ইন্ডাস্ট্রি অনেক সময় দায়িত্ব এড়িয়ে যায়। এমন দুর্ঘটনার পরেও দায় কেউ নেয় না, বরং মৃত ব্যক্তির উপরই দোষ চাপানোর চেষ্টা হয়। তিনি বলেন, এই ঘটনা প্রমাণ করে দিয়েছে যে ইন্ডাস্ট্রিতে সবাই অনেকটাই একা এবং সহজেই বদলে ফেলা যায়।

আরও পড়ুনঃ ‘আমার জীবনে প্রথম আর শেষ প্রেম মানেই প্রিয়াঙ্কা, প্রেম ছিল উন্মাদের মতো…কংগ্রেসের শেষ সাফল্যই রাহুল-প্রিয়াঙ্কা’ মৃ’ত্যুর আগে প্রিয়াঙ্কাকে ভালোবাসা নিয়ে কী বলেছিলেন রাহুল অরুণোদয়? এত টান থাকা সত্ত্বেও কেন বিচ্ছেদ, একসঙ্গে থাকলেন না আর?

স্বস্তিকার ব্যক্তিগত জীবনেও মার্চ মাস এখন এক বেদনাদায়ক সময় হয়ে উঠেছে। এই মাসেই তিনি আগেই হারিয়েছেন তাঁর বাবাকে, আর এবার হারালেন রাহুলকে। তিনি লিখেছেন, আগে মার্চ মানেই ছিল অন্যরকম অনুভূতি, কিন্তু এখন তা কেবল শোকের স্মৃতি হয়ে রইল। জন্মদিনের মতো মৃত্যুর দিনও যে জীবনের ক্যালেন্ডারে জায়গা করে নেয়, সেই কথাও মনে পড়ছে তাঁর। রাহুল এখন আর নেই, এই সত্যিটা মেনে নিতে সময় লাগবে বলেই জানিয়েছেন তিনি। শোক, আক্ষেপ আর স্মৃতির ভেতর দিয়েই এগিয়ে চলার চেষ্টা করছেন স্বস্তিকা।

You cannot copy content of this page