টলিউডের ইন্ডাস্ট্রি যেন এক বড় ধরনের শোকের মধ্যে ডুবে আছে, এই পরিস্থিতিতেই এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন অভিনেতা ‘ভিভান ঘোষ’ (Vivaan Ghosh)! গত ২৯ মার্চ, রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rahul Arunoday Banerjee) আকস্মিক প্রয়াণের পর থেকেই টলিউডে এক অস্থির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। রাহুলের মৃ’ত্যুর তদন্ত নিয়ে যে অস্বচ্ছতা এবং ক্ষোভ দেখা দিয়েছে, তা একদিকে যেমন শোকাহত, তেমনই অন্যদিকে ক্ষোভের সৃষ্টি করছে। এই ঘটনার পর থেকে প্রযোজনা সংস্থা ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’-এর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বেশ কিছু শিল্পী।
যারা জানাচ্ছেন, যতক্ষণ না রাহুলের মৃ’ত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে, ততক্ষণ তারা এই সংস্থার সঙ্গে কাজ করবেন না। এমনকি গতকালের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় প্রযোজনা সংস্থাটিকে বয়কট হচ্ছে, আর এর পরেই কিছু ধারাবাহিক বন্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম ছিল ‘চিরসখা’। এতটা তিক্ত পরিস্থিতির মধ্যে, ভিভান ঘোষ নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন। তার এক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, “বেকার ভাতার ফর্ম কোথায় পাওয়া যায়, একটু জানাবেন? আজ থেকে ‘চিরসখা’র সবাই বেকার। আমাদের কি দোষ ছিল, বলুন তো?”
এই মন্তব্যের পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। কিছু মানুষ ভিভানকে বলছেন, “আপনি তো শাসকদলের প্রিয়, তাহলে বেকার ভাতা কেন চাইছেন?” আবার অন্যরা প্রশ্ন তুলছেন, “আপনি কি মনে করেন, ম্যাজিক মোমেন্টস ছাড়া আর কেউ কাজ দেয় না?” অভিনেতার এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসার পর, টলিউডের নামকরা প্রযোজক ‘রানা সরকার’ও (Rana Sarkar) পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তার বক্তব্য ছিল, “বেকার ভাতা কেন? এই নাটক কে করতে বললো? যোগ্যতা থাকলে অন্য প্রোডাকশন হাউসে কাজ খোঁজো।
কাজ না পেলে বোঝো এতদিন যোগ্যতায় নয়, পক্ষপাতিত্ব-এর জন্যই কাজ পেয়েছো। সেটা মানতে পারলে বেকার ভাতা চাও…” এই কঠোর মন্তব্যে ভিভান ঘোষের প্রতি এক ধরনের তীব্র সমালোচনা যেমন প্রকাশ পেয়েছে, তেমনই সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এদিকে, শোকের পাশাপাশি রাহুল অরুণোদয়ের মৃত্যুর ঘটনা ইন্ডাস্ট্রির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। যেহেতু প্রযোজনা সংস্থা ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’ এখনও বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি, তাই শিল্পীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে, যে শিল্পীরা রাহুলকে ভালবাসতেন এবং তাকে মঞ্চের একজন শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে জানতেন, তাদের কাছে এই শূন্যতা খুবই যন্ত্রণাদায়ক। তাদের জন্য, রাহুলের মৃ’ত্যু শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, পুরো ইন্ডাস্ট্রির জন্য একটা বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভিভান ঘোষের ওই পোস্টের পর আরও একবার ইন্ডাস্ট্রির ভেতর এক ধরনের মানসিক চাপ তৈরি হয়েছে। কিছু মানুষ তাঁর সমর্থনে মন্তব্য করছেন, আবার কিছু মানুষ তাকে একেবারে একপেশে এবং দায়িত্বহীন মনে করছেন।
আরও পড়ুনঃ বাড়ি ফেরার পথেই বিপত্তি! গত সপ্তাহে একাধিক স্ট্রো’কের পর আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন অগ্নিদেব! আজ স্বামীকে আনতে গিয়েই চরম অসুস্থ সুদীপা, হাসপাতালেই পড়ে যান! কী হয়েছে, এখন কেমন আছেন অভিনেত্রী?
প্রতিবাদী হয়ে তিনি নিজের কর্মস্থলের বিরুদ্ধে কথাও বলেছেন, কিন্তু সেই প্রতিবাদ কখনোই সমাজের প্রতি দায়িত্ব এবং সমবেদনা জানানো ছাড়া সম্ভব নয়। শিল্পীরা এমন একটি পরিবেশে কাজ করেন যেখানে সম্মান এবং মর্যাদার বিষয়টি একেবারে মূল স্তম্ভ, আর যে কোনও বিচ্ছিন্ন বা অপ্রত্যাশিত ঘটনা সেই পরিবেশে বড় ধরনের ছাপ ফেলতে পারে। এখন প্রশ্ন উঠছে, এই সমস্ত ঘটনার পর টলিউডের ভবিষ্যত কী হবে? একদিকে যেমন শিল্পীরা এবং প্রযোজনা সংস্থাগুলি একে অপরের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, অন্যদিকে তাদের মনোভাবও একে অপরকে দোষারোপ করতে বাধ্য করছে।






