টেলিভিশন জগতে খুব অল্প সময়েই জনপ্রিয় হয়ে ওঠা অভিনেতা ঋত্বিক মুখার্জীকে(Writwik Mukherjee)ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ বরাবরই বেশি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে খোলামেলা আলাপে নিজের ব্যক্তিগত জীবন, শৈশবের কষ্ট, পারিবারিক বিচ্ছেদ থেকে শুরু করে ক্যারিয়ারের ওঠাপড়া এবং সমাজ নিয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন তিনি। সহজ-সরল ভাষায় বলা এই কথোপকথন ইতিমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
ঋত্বিক জানান, মাত্র ৯ বছর বয়সে তিনি বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ প্রত্যক্ষ করেন, যদিও তখন বিষয়টির গভীরতা তিনি পুরোপুরি বুঝতে পারেননি। তার ভাষায়, ছোটবেলায় তিনি কখনও সরাসরি অভাব বা একাকীত্ব অনুভব করেননি, কারণ মা তাকে বড় করার ক্ষেত্রে কোনো ঘাটতি রাখেননি। পরবর্তীতে বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি বুঝতে পারেন যে বাবা-মায়ের আলাদা হয়ে যাওয়া একটি বাস্তব ঘটনা ছিল। তবে তিনি স্পষ্টভাবেই বলেন, বাবার প্রতি তার কোনো রাগ বা ক্ষোভ নেই। বরং তিনি মনে করেন, তার বাবা নিজের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জীবন বেছে নিয়েছেন এবং সেই সিদ্ধান্তকে তিনি সম্মান করেন।
অভিনেতা ঋত্বিক মুখার্জী এবং অভিনেত্রী শ্রীতমা মিত্রর সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই টলিপাড়ায় জল্পনা চলেছে। জানা যায়, ‘মন দিতে চাই’ ধারাবাহিকে একসঙ্গে কাজ করার সময় থেকেই তাদের পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা বাড়ে, যা পরবর্তীতে প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয় বলে গুঞ্জন ছড়ায়। যদিও দু’জনের কেউই কখনও প্রকাশ্যে তাদের সম্পর্কের কথা স্বীকার করেননি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ঋত্বিক মুখার্জী এ বিষয়ে বলেন, সম্পর্ক জীবনের স্বাভাবিক একটি অংশ এবং সময়ের সঙ্গে তা আসে ও পরিবর্তিতও হয়, তাই ব্যক্তিগত বিষয়কে তিনি খুব বেশি আলোচনায় আনতে চান না। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে, অতীত সম্পর্ক নিয়ে অতিরিক্ত ব্যাখ্যা দেওয়ার চেয়ে বর্তমান জীবন ও কাজের দিকেই তিনি বেশি মনোযোগ দিতে চান। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের শেষের দিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় একে অপরকে আনফলো করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের বিচ্ছেদের ইঙ্গিত স্পষ্ট হয় বলে মনে করেন অনেকে, যা নিয়ে টলিপাড়ায় আরও আলোচনা শুরু হয়।
সোশ্যাল মিডিয়ায় নারীদের পোশাক নিয়ে চলমান বিতর্ক প্রসঙ্গেও তিনি নিজের মতামত দেন। ঋত্বিক বলেন, অনেক সময় দেখা যায় বয়স্ক কিছু মানুষ বা সমাজের একাংশ মেয়েদের ছোট পোশাক বা ক্লিভেজ প্রদর্শন নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন, অথচ একই মানুষ আবার সেই বিষয়গুলোই মেসেজ বা শেয়ার করে ছড়িয়ে দেন। তার মতে, এটি এক ধরনের দ্বিচারিতা। তিনি মনে করেন, পোশাক ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিষয় এবং সেটিকে সম্মান করা উচিত। কারও পোশাক নিয়ে বিচার করা সমাজের সংকীর্ণ মানসিকতার প্রতিফলন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আরও পড়ুন: ৩৯ বছর বয়সে অবশেষে চুপিচুপি বিয়ে করলেন রিমঝিম মিত্র! সিঁথিতে সিঁদুর, লাল বেনারসিতে পাশে স্বামীকে নিয়ে ছবি পোস্ট! পাত্রের পরিচয় কী? কার গলায় মালা দিলেন অভিনেত্রী?
কেরিয়ারের শুরু নিয়েও তিনি খোলামেলা কথা বলেন। ঋত্বিক জানান, লকডাউনের সময় তার জীবনে বড় আর্থিক সংকট দেখা দেয়, এমনকি তখন সবজি বিক্রি পর্যন্ত করতে হয়েছে তাকে। তবে তিনি এটিকে কখনও ছোট করে দেখেন না। তার মতে, সেই সময় তাকে জীবনের বাস্তবতা শিখিয়েছে এবং মানুষের কষ্ট কাছ থেকে বুঝতে সাহায্য করেছে। পরে ধীরে ধীরে তিনি ধারাবাহিক নাটকে সুযোগ পান এবং সেখান থেকেই তার অভিনয় জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হয়।
জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর নিজের পরিবর্তন নিয়েও তিনি কথা বলেন। ঋত্বিক জানান, তিনি খুব দ্রুত জনপ্রিয়তা পেয়েছেন বলে অনেক সময় নিজেই অবাক হয়েছেন। শুরুতে এই খ্যাতি ধরে রাখতে পারবেন কি না সেই ভয় কাজ করত, তবে ধীরে ধীরে তিনি তা মেনে নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, জনপ্রিয়তা চলে গেলে মানসিকভাবে খারাপ লাগা স্বাভাবিক, তবে জীবনে সবকিছুই পরিবর্তনশীল এবং সেই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াই আসল শিক্ষা।
সাক্ষাৎকারের শেষ দিকে তিনি নিজের জীবনের দর্শন নিয়ে কথা বলেন। ঋত্বিক মুখার্জীর মতে, জীবন কখনও স্থির নয় কখনও সাফল্য, কখনও ব্যর্থতা, আবার কখনও নতুন শুরু। তার জীবনের অভিজ্ঞতা তাকে শিখিয়েছে, যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে মানিয়ে নিতে হয়। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ, লকডাউনের সংগ্রাম, কিংবা ক্যারিয়ারের ওঠাপড়া সবকিছু মিলিয়ে তিনি আজকের অবস্থানে পৌঁছেছেন। আর সেই কারণেই তিনি জীবনের প্রতিটি অভিজ্ঞতাকে সম্মানের সঙ্গে দেখেন, কোনো কিছুতেই অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ না হয়ে বাস্তবতাকে গ্রহণ করাই তার মূল শিক্ষা।






