“ধ’র্ষণের হুম’কি, বৃদ্ধা মাকেও রেহাই দেয়নি” “এই রাজ্যটিকে কি আপনারা উত্তরপ্রদেশ, মণিপুর বা গুজরাট বানাতে চাইছেন?” দ্বিতীয় দফার প্রাক্কালে, বিজেপিকে তুলোধোনা! নাম না করে প্রধানমন্ত্রীকেও তীব্র কটাক্ষ রূপাঞ্জনা মিত্রের!

রাজনৈতিক দল বদল নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে অভিনেত্রী রূপাঞ্জনা মিত্র। বিজেপি থেকে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তাকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আক্রমণ শুরু হয়েছে। রূপাঞ্জনা জানালেন, রাজনৈতিক মতাদর্শের পার্থক্যের কারণে শুধু গালিগালাজই নয়, ধর্ষণের মতো হুমকিও পাচ্ছেন তিনি। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হল, তার বৃদ্ধা মা-ও এই আক্রমণ থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। এমন পরিস্থিতিতে রূপাঞ্জনা ফের একবার বিজেপিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন।

রূপাঞ্জনা অভিযোগ করেছেন, বিজেপির সমর্থকরা তার বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্য করছে এবং তাকে ধর্ষণের হুমকি দিচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, যেই দল নারী সুরক্ষার কথা বলে, তারা কি এমন আচরণ করবে? “আপনারা না দাবি করেছিলেন যে রাত দখল করেছেন? অভয়া নিয়ে কথা বলেন? আর আমি তো একজন নারী, তাহলে আমাকে এগুলো কীভাবে বলছেন?” এই প্রশ্ন তুলে তিনি বিজেপি সমর্থকদের সমালোচনা করেছেন। তার মতে, এই আচরণ সত্যিই অগ্রহণযোগ্য এবং তা মহিলাদের সম্মানহানি করে।

এছাড়া, বিজেপি সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “যে সব লোক এসব বলছেন, তারা নিজেদের বাড়ির নারীদের কিভাবে সম্মান করেন? আপনারা কি চান, রাজ্যটিকে মণিপুর, উত্তরপ্রদেশ বা গুজরাটের মতো করে ফেলুন?” তার এই মন্তব্য তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। রূপাঞ্জনার ভাষ্য, বিজেপি রাজ্যে ত্রাস সৃষ্টি করতে চায় এবং বিভাজনমূলক রাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি গুজরাটের গণহত্যার মতো ভয়াবহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং সেই দলের সমর্থকদের তিনি আর সম্মান করতে পারবেন না।

মণিপুর ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নীরবতার বিষয়েও রূপাঞ্জনা প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, “মোদী সাহেব কি মণিপুরে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে কিছু বলবেন?” গত কিছুদিন আগে, আইপ্যাকের অফিস ও প্রতীকের জৈনের বাড়িতে ইডি হানা দেওয়া নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন রূপাঞ্জনা। তাকে ‘ইংরেজের দালাল’, ‘স্যাডিস্ট’, এবং ‘ফ্যাসিস্ট’ বলে তিনি দলটির সমালোচনা করেন।

আরও পড়ুন: “মাত্র ৯ বছর বয়সে বাবা আমাদের ফেলে রেখে চলে যায়, মাকে কাঁদতে বারণ করেছি” অন্ধকার শৈশব থেকে, লকডাউনের রাস্তায় দাঁড়িয়ে সবজি বিক্রি, কঠিন জীবন সংগ্রামের গল্প শোনালেন ঋত্বিক মুখার্জী! কীভাবে সমস্ত প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে আজকের অবস্থানে পৌঁছালেন অভিনেতা?

এছাড়া, নিজের জীবনযাত্রা নিয়ে ট্রোলের জবাবেও রূপাঞ্জনা বেশ দৃঢ় অবস্থানে ছিলেন। নাম না করে তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদীকে খোঁচা দিয়েছেন এবং বলেছেন, “স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় ক’জন বিজেপি সমর্থক সেলুলার জেলে অত্যাচারিত হয়েছিল?” তিনি আরও বলেন, “আমি রোজ বিকেলে মুড়ি খাই, ঝাড়গ্রামে আমার বাড়ি আছে, সেখানকার মুড়ির স্বাদও জানি।” এই মন্তব্যে তিনি নিজের জীবনের সাধারণতা তুলে ধরেন এবং ট্রোলের প্রতিবাদ জানান।

রূপাঞ্জনার এই মন্তব্যগুলো স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেয়, রাজনৈতিক দলের বদলানোর পর তিনি আর চুপ থাকবেন না। তার বিরুদ্ধে চলা আক্রমণের পরেও তিনি কড়া ভাষায় বিজেপি এবং তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এই পরিস্থিতি রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে এবং এখনো সেই উত্তেজনা চলছে।

You cannot copy content of this page