“আমার স্বামী যদি আগের স্ত্রীর কাছে ফিরে যায়…” দ্বিতীয় বিয়ের পরেও স্বামীর বাড়িতে প্রাক্তন স্ত্রীর আসা-যাওয়া, নিরাপত্তাহীনতা থেকে সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে অকপট কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়! খোলামেলা স্বীকারোক্তিতে নিজের জীবনের কোন অজানা দিক সামনে আনলেন অভিনেত্রী?

বিনোদন জগতের ঝলমলে আলো আর ক্যামেরার সামনে তারকাদের হাসিমুখ যতটা দর্শকের কাছে পরিচিত, তার আড়ালে লুকিয়ে থাকে অসংখ্য ব্যক্তিগত গল্প, সংগ্রাম, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং জীবনের কঠিন বাস্তবতা। জনপ্রিয় অভিনেতা-অভিনেত্রীদের জীবনকে সাধারণ মানুষ অনেক সময় নিখুঁত বলে ভাবলেও, তাঁদের প্রতিটি সাফল্যের পেছনে থাকে নানা চড়াই-উতরাইয়ের ইতিহাস। সম্প্রতি নিবেদিতা দে অর্থাৎ নিবেদিতা অনলাইন চ্যানেলে দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে নিজের ব্যক্তিগত জীবন, প্রেম, বিয়ে, সংসার এবং পেশাগত সংগ্রামের নানা অজানা অধ্যায় তুলে ধরলেন টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেত্রী কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়।

অল্প বয়সেই অভিনয় জগতে পা রেখেছিলেন কনীনিকা। ‘এক আকাশের নিচে’ থেকে শুরু করে একের পর এক জনপ্রিয় ধারাবাহিক ও ছবিতে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের মন জয় করেছেন। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে বহু উত্থান-পতনের সাক্ষী থেকেছেন তিনি। বিয়ে, মাতৃত্ব এবং কিছুটা বিরতির পর বর্তমানে তিনি জনপ্রিয় রান্নার অনুষ্ঠান ‘রান্নাঘর’-এর সঞ্চালক হিসেবে দর্শকদের কাছে পরিচিত মুখ। সাক্ষাৎকারে কনীনিকা জানান, রান্না তাঁর কাছে শুধু খাবার তৈরি নয়, বরং স্মৃতি, আবেগ এবং পরিবারের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক বিশেষ অনুভূতি। মায়ের হাতের রান্নার স্বাদ আজও তিনি খুঁজে বেড়ান, আর নিজের মেয়ের মুখে প্রশংসা শুনেই তিনি সবচেয়ে বেশি আনন্দ পান।

কথোপকথনের এক পর্যায়ে উঠে আসে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ও বিয়ের প্রসঙ্গ। কনীনিকা জানান, তাঁর স্বামী সুরজিৎ আগে বিবাহিত ছিলেন এবং সেই সম্পর্ক থেকে তাঁর একটি ছেলে রয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবেই বলেন, বিয়ের আগে থেকেই এই বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন। এমনকি বিয়ের পরেও স্বামীর প্রাক্তন স্ত্রী তাঁদের বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন। বিষয়টি নিয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল অত্যন্ত বাস্তবসম্মত। অভিনেত্রীর মতে, একটি সন্তানের স্বার্থে বাবা-মায়ের যোগাযোগ থাকা স্বাভাবিক। তাই তিনি কখনও চাননি সম্পর্কগুলো গোপনে চলুক। বরং সবকিছু স্বচ্ছ এবং খোলামেলা থাকুক, সেটাই তিনি পছন্দ করতেন। তাঁর বক্তব্য, “যা করার সামনে করো, লুকিয়ে নয়।” এতে সম্পর্কের মধ্যে অযথা সন্দেহ বা অস্বস্তি তৈরি হওয়ার সুযোগ কমে যায়।

আরও পড়ুন: ‘মাথায় হেলমেট তো পরেছেন যুবরাজ, আর কোথায় কোথায় কী পরতে হবে…” সোনারপুরের ঘটনায়, আরজি কর কাণ্ডের অভয়ার কথা মনে করিয়ে অভিষেক বন্দোপাধ্যায়কে ‘কর্মফল’-এর খোঁচা শ্রীলেখা মিত্রের! আর কী বললেন অভিনেত্রী?

সাক্ষাৎকারে আরও এক ধাপ এগিয়ে কনীনিকা এমন একটি মন্তব্য করেন, যা অনেকেরই দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে। তিনি বলেন, যদি কোনওদিন তাঁর স্বামী আগের স্ত্রীর কাছে ফিরে যেতে চান, তাতেও তিনি আপত্তি করবেন না। কারণ তাঁর মতে, বিয়ের মাধ্যমে তিনি শুধু একজন স্বামীকেই পাননি, পেয়েছেন একটি বড় পরিবার, পেয়েছেন সন্তানদের স্নেহ। তিনি বলেন, “বিয়ে করেছি বলে কিয়াকে পেয়েছি, দ্রোণকে পেয়েছি।” যদিও তিনি স্বীকার করেন, মানুষের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা নিরাপত্তাহীনতা কাজ করতে পারে, তবুও সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিশ্বাস এবং সততাকেই তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, লুকোছাপার চেয়ে সত্যি কথা জানা অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক।

নিজের অভিনয় জীবনের শুরুর দিকের একটি কষ্টকর অভিজ্ঞতার কথাও শেয়ার করেন কনীনিকা। তিনি জানান, একটি ছবির কাজের সময় চুলে পার্মিং করাতে গিয়ে ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন। ভুল রাসায়নিক ব্যবহারের ফলে তাঁর মাথার একটি বড় অংশের চুল নষ্ট হয়ে যায়। সেই সময় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। এমনকি কাজ হারানোর আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল। কনীনিকার দাবি, সেই কঠিন সময়ে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন অভিনেত্রী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেন এবং কনীনিকাকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়া থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করেন। আজও সেই ঘটনার কথা মনে করলে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন অভিনেত্রী।

সাক্ষাৎকারের শেষভাগে কনীনিকা জীবনের প্রতি নিজের দর্শনের কথাও তুলে ধরেন। তিনি মনে করেন, খ্যাতি, অর্থ বা গ্ল্যামার জীবনের শেষ কথা নয়। মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক, পরিবারের সঙ্গে কাটানো সময় এবং ছোট ছোট সুখই আসল সম্পদ। তিনি বলেন, অনেক মানুষকে দেখেছেন সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও হাসিমুখে জীবন কাটাতে। সেই দৃশ্যই তাঁকে বারবার মনে করিয়ে দেয়, জীবনের প্রকৃত আনন্দ লুকিয়ে আছে একসঙ্গে থাকার মধ্যে। অভিনয়, সংসার, মাতৃত্ব এবং জীবনের নানা অভিজ্ঞতা তাঁকে অনেক বেশি পরিণত করেছে বলেও জানান কনীনিকা। আর সেই কারণেই আজ তিনি জীবনকে দেখেন অনেক বেশি সহজ, বাস্তব এবং ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে।

You cannot copy content of this page