একসময় স্টার জলসার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘মেমবউ’ দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। সেই ধারাবাহিকের মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করে রাতারাতি পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন বিনীতা চট্টোপাধ্যায়। সৌরভের বিপরীতে তাঁর অভিনয় দর্শকদের নজর কেড়েছিল। তবে ধারাবাহিকটির সাফল্যের পরেও তাঁকে আর বাংলা টেলিভিশনের পর্দায় দেখা যায়নি। দীর্ঘদিন ধরে এই প্রশ্ন ঘুরে বেড়াচ্ছিল, এত জনপ্রিয়তা পাওয়ার পরেও কেন তিনি বাংলা ইন্ডাস্ট্রি থেকে দূরে সরে গেলেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই কারণ নিয়েই মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী। তাঁর বক্তব্য ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে টলিপাড়ায়। রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে তাঁর মন্তব্য আরও বেশি করে নজর কেড়েছে।
সম্প্রতি টলি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিনীতা জানান, বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করার সময় তিনি এমন একটি পরিবেশ দেখেছিলেন, যা তাঁর কাছে স্বস্তিদায়ক ছিল না। অভিনেত্রীর কথায়, “আমি যে সময় ধারাবাহিককে অভিনয় করছিলাম তখন আমি এইটুকুই দেখলাম যে বাংলায় অভিনয় করতে গেলে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় থাকতে হবে। কিন্তু আমি একেবারে সেটা চাইছিলাম না।” তিনি আরও বলেন, “তাই আমি ধীরে ধীরে মুম্বইতে কাজ শুরু করি। ওয়েব সিরিজ থেকে সিরিয়াল সবেতেই অভিনয় করি। ওখানেই আমার বিয়ে হয়। এখন একটা নিজেদের প্রোডাকশন হাউজও আছে।” নিজের পেশাগত জীবনের নতুন অধ্যায়ের কথাও এই সাক্ষাৎকারে তুলে ধরেছেন তিনি।
বাংলা ছেড়ে মুম্বইয়ে গিয়ে নতুনভাবে কেরিয়ার গড়ে তুললেও বাংলার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক যে কখনও ছিন্ন হয়নি, সেটাও স্পষ্ট করেছেন বিনীতা। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আবার বাংলায় কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী। তিনি বলেন, “খুব তাড়াতাড়ি আমি আবার বাংলায় ফিরে আসব। একজন অভিনেত্রী এবং প্রযোজক হিসাবে।” শুধু নিজের কথা নয়, তাঁর মতো আরও অনেক শিল্পীর প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। অভিনেত্রীর মতে, “আমার মতো অনেকেই যারা শুধুমাত্র কাজ করতে চেয়েছিলেন, রাজনীতি করতে চাননি আমার মনে হয় তারা সকলে এবার ফিরে আসবেন।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে বিনোদন মহলে।
ইন্ডাস্ট্রিতে রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে নিজের অবস্থানও স্পষ্ট করেছেন বিনীতা। তিনি বলেন, “প্রত্যেকটা মানুষের একটি রাজনৈতিক মতামত রয়েছে। সেটা ভেঙে যদি কোন সরকার জোর করে নিজেদের রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার জন্য বলে সেটা একেবারেই উচিত নয়।” অভিনেত্রীর দাবি, শিল্পীদের কাজের মূল্যায়ন হওয়া উচিত তাঁদের প্রতিভার ভিত্তিতে। সেই কারণেই তিনি আশা করছেন নতুন পরিস্থিতিতে কাজের সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় কোনও বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। তাঁর কথায়, “আমি চাই নতুন সরকার যাতে শুধুমাত্র ট্যালেন্টের ওপর জোর দিয়েই মানুষকে কাজ দেন। ইন্ডাস্ট্রিতে রাজনৈতিক প্রভাব বন্ধ হোক এইটুকুই চাই আমি।” এই বার্তাই তিনি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন।
আরও পড়ুনঃ বাংলা ইন্ডাস্ট্রির সুদিন ফেরালেও সম্মানে ব্রাত্য অঞ্জন চৌধুরী! “মা-মাটি-মানুষের সরকারের তরফ থেকেও বাবাকে নিয়ে ভাবা হয়নি” বাবা প্রাপ্য সম্মান না পাওয়ায় ক্ষোভ উগরে দিলেন কন্যা রীণা চৌধুরী!
প্রসঙ্গত, অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ‘ক্লোন’ ছবিতে অভিনয় করেছিলেন বিনীতা চট্টোপাধ্যায়। যদিও সেই ছবি এখনও মুক্তির মুখ দেখেনি। সাক্ষাৎকারে রাহুলের প্রসঙ্গ উঠতেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন অভিনেত্রী। তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বিনীতা বলেন, এমন পরিবর্তনের সময় যদি রাহুল উপস্থিত থাকতেন, তাহলে তিনি খুব খুশি হতেন। তবে সেই সুযোগ আর তাঁর হয়নি বলেই আক্ষেপ প্রকাশ করেন অভিনেত্রী। দীর্ঘদিন পর বাংলায় ফেরার ইচ্ছার কথা জানিয়ে ভবিষ্যতে অভিনেত্রী ও প্রযোজক হিসেবে নতুনভাবে কাজ শুরু করারও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।






