“সবে সবে ভোটে জিতলে গলার আওয়াজ বাড়ে, কাজ করার ক্ষমতা নেই বলেই তো ঘৃ’ণা উস্কে…” ভোটের মার্জিনের সঙ্গে চিৎকারের মার্জিনও বেড়েছে? যাদবপুর কাণ্ডে নাম না করেই শর্বরী মুখোপাধ্যায়কে তীব্র কটা’ক্ষ ঋদ্ধি সেনের! এসএফআই ও এবিভিপির সংঘর্ষে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি, অভিনেতা কেন কাঠগড়ায় তুললেন নতুন সরকারকে?

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে এসএফআই এবং এবিভিপি-র মধ্যে সংঘর্ষকে ঘিরে ইতিমধ্যেই উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। বুধবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে দফায় দফায় গণ্ডগোলের ঘটনায় এবিভিপি নেতৃত্বের দাবি, তাঁদের অন্তত ৬ থেকে ৭ জন সমর্থক গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার খবর পেয়ে দলীয় কর্মী সমর্থকদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছন বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়। সেখানেই অভিযুক্ত ছাত্রদের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দেন তিনি। শর্বরী বলেন, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয়কে নকশাল, মাওবাদী এবং দেশবিরোধী শক্তি দিয়ে ভর্তি করে রাখা চলবে না।’ পাশাপাশি সিপিআইএম নেতা সৃজন ভট্টাচার্যকে নাম করে নিশানা করে তাঁর দাবি, অভিযুক্ত ছাত্রদের এক ঘণ্টার মধ্যে সারেন্ডার না করানো হলে তাঁদের টেনে হিঁচড়ে বার করে দেওয়া হবে। বিধায়কের এই মন্তব্যের পরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।

শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের এই বক্তব্যের পর এবার সরব হলেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা ঋদ্ধি সেন। যদিও নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তিনি সরাসরি কারও নাম উল্লেখ করেননি, তাঁর বক্তব্যের নিশানা যে বিজেপি বিধায়কের দিকেই, তা নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। ঋদ্ধি লেখেন, ‘সবে সবে ভোটে জিতলে গলার আওয়াজ বাড়ে বৈকি, ভোটের মার্জিনের সাথে সাথে চিৎকারের মার্জিনও বাড়ে, বাড়ে বাজে কথাও! বিশেষ করে তখন, যখন জয়ী প্রার্থী জানে যে কাজ বা পরিশ্রম দিয়ে এই জয় ধরে রাখার ক্ষমতা তার নেই।’ এরপর অভিনেতার আরও দাবি, কাজ করার ক্ষমতা না থাকায় চিৎকার করে এবং ঘৃণা উস্কে দিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখার মরিয়া চেষ্টা চলছে। তাঁর বক্তব্য, শাক দিয়ে যে কোনও দিন মাছ ঢাকা যায় না। এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসতেই তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।

শুধু রাজনৈতিক মন্তব্যেই থামেননি ঋদ্ধি সেন। শর্বরীর কথা বলার ধরন নিয়েও নিজের বক্তব্যের মাধ্যমে কটাক্ষ করেছেন তিনি। অভিনেতা লেখেন, ‘আপাতত কিছুদিন অভিনয়টা আরেকটু মন দিয়ে করতে হবে। সাজ পোশাক ঠিক আছে, তবে vocal modulation (গলার স্বরের ওঠানামা) আরেকটু বেটার করতে হবে। নাগাড়ে উঁচু স্কেলে সাংবাদিকদের উত্তর দিয়ে গেলে একঘেয়ে লাগছে শুনতে!’ অর্থাৎ বিধায়কের সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় গলার স্বর নিয়ে অভিনয়ের ভাষায় পরামর্শ দেওয়ার ভঙ্গিতেই তাঁকে খোঁচা দিয়েছেন ঋদ্ধি। তাঁর এই পোস্ট ইতিমধ্যেই নেটপাড়ায় নজর কেড়েছে। যাদবপুরের সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে যখন রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে, তখন ঋদ্ধির এই মন্তব্য নতুন করে সেই বিতর্কে অন্য মাত্রা যোগ করেছে।

টলিউডে নিজের স্পষ্ট বক্তব্যের জন্য পরিচিত ঋদ্ধি সেন এর আগেও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ে প্রকাশ্যে মতামত জানিয়েছেন। বিগত সরকারের বিরুদ্ধেও একাধিকবার মুখ খুলেছেন তিনি। এমনকী, ফেডারেশনের সঙ্গে সংঘাতের জেরে একটা সময়ে তাঁকে ‘নিষিদ্ধ’ও হতে হয়েছিল বলে জানা যায়। সেই পরিস্থিতিতেও নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি অভিনেতা। এবারও যাদবপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিধায়কের বক্তব্যের পর পাল্টা কটাক্ষ করলেন তিনি। তাঁর সাম্প্রতিক পোস্টে ভোটে জেতার পর রাজনৈতিক নেতাদের আচরণ, কাজের ক্ষমতা এবং বক্তব্যের ধরন নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলা হয়েছে। যদিও শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের নাম সরাসরি উল্লেখ করেননি ঋদ্ধি, যাদবপুর কাণ্ডের পর তাঁর মন্তব্যের সময় এবং বক্তব্যের ধরন ঘিরে নেটিজেনদের একাংশের মনে হয়েছে, নিশানা স্পষ্ট।

আরও পড়ুনঃ টলিউডের হাইপ্রোফাইল বৈঠকে উপস্থিত সব তারকারা, অথচ কোথাও নেই দেবশ্রী রায়! শুভেন্দু অধিকারী, মিঠুন চক্রবর্তীদের ডাকা বৈঠকে কেন দেখা গেল না তাঁকে? বাদ পড়ার কারণ নিয়ে মুখ খুলতেই বি*স্ফোরক অভিনেত্রী!

এদিকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর অব্যাহত। একদিকে এবিভিপি-র তরফে তাদের কর্মী সমর্থকদের আহত হওয়ার দাবি সামনে এসেছে, অন্যদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাম এবং বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক তরজা আরও বেড়েছে। এরই মধ্যে শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের এক ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের আত্মসমর্পণের হুঁশিয়ারি এবং তার পরেই ঋদ্ধি সেনের তীব্র সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। অভিনেতার বক্তব্যে উঠে এসেছে ভোটের পর ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা, চিৎকার এবং ঘৃণা উসকে দেওয়ার অভিযোগ। পাশাপাশি ‘vocal modulation’ নিয়ে তাঁর কটাক্ষও নজর কেড়েছে। ফলে যাদবপুরের সংঘর্ষের রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই ঋদ্ধি এবং শর্বরীর এই বাকযুদ্ধ আগামী দিনে আরও কোন দিকে গড়ায়, এখন সেদিকেই নজর।

You cannot copy content of this page