নায়িকা নন, খলনায়িকা হয়েই বছরের পর বছর দর্শকের মনে রাজত্ব! প্রয়াত রীতা কয়রাল, ডলি বসু, ঊষসী থেকে স্বাগত ও মৌমিতা, পর্দায় এমন ‘নেগেটিভ’ চরিত্রে নজর কেড়েছেন যে আজও তাঁদের ভুলতে পারেননি দর্শক! তাহলে কি নায়িকার জনপ্রিয়তার থেকেও খলনায়িকার প্রভাব বেশি? আপনাদের কোন অভিনেত্রীর কোন চরিত্রটি আজও দাগ কেটে আছে মনে?

বিনোদন জগতে গল্পের প্রতিটি চরিত্রেরই আলাদা গুরুত্ব থাকে। নায়ক-নায়িকার পাশাপাশি পার্শ্বচরিত্র, কমেডি চরিত্র কিংবা নেতিবাচক চরিত্রও একটি গল্পকে পূর্ণতা দেয়। অনেক সময় এমন কিছু চরিত্র দর্শকের মনে এতটাই গভীর ছাপ ফেলে যে, মূল চরিত্রের পাশাপাশি সেই চরিত্রগুলিও হয়ে ওঠে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। বিশেষ করে খলনায়িকা বা নেতিবাচক চরিত্রের ক্ষেত্রে অভিনেতাদের অভিনয় দক্ষতার আসল পরীক্ষা হয়।

কারণ পর্দায় এমনভাবে চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে হয়, যাতে দর্শক সেই চরিত্রকে অপছন্দ করেন, কখনও বা রীতিমতো ঘৃণা করেন। আর সেই ঘৃণাটাই যখন অভিনয়ের সাফল্যের মাপকাঠি হয়ে ওঠে, তখন বোঝা যায় অভিনেত্রী কতটা বিশ্বাসযোগ্যভাবে চরিত্রটিকে পর্দায় তুলে ধরতে পেরেছেন। বাংলা বিনোদন জগতের এমনই একাধিক অভিনেত্রী রয়েছেন, যারা নায়িকা না হয়েও খলনায়িকা বা নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের মনে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন।

এই তালিকায় অন্যতম পরিচিত নাম প্রয়াত অভিনেত্রী রীতা কয়রাল। একাধিক ধারাবাহিক ও সিনেমায় তাঁর নেতিবাচক চরিত্র দর্শকের মনে এতটাই দাগ কেটেছিল যে, তাঁর অভিনয় আজও দর্শকদের স্মৃতিতে উজ্জ্বল। তাঁর প্রয়াণের পরেও অভিনয় নিয়ে প্রশংসা থামেনি। অন্যদিকে, ডলি বসুও খল চরিত্রে অভিনয়ের ক্ষেত্রে বাংলা দর্শকের কাছে অত্যন্ত পরিচিত মুখ। ‘রাশি’ ধারাবাহিকে তাঁর নেতিবাচক চরিত্র এক সময় দর্শকের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল।

বর্তমানে নিয়মিত অভিনয়ে তাঁকে দেখা না গেলেও সেই চরিত্রের স্মৃতি এখনও ধারাবাহিকপ্রেমীদের মনে রয়ে গিয়েছে। শুধু রীতা কয়রাল বা ডলি বসুই নন, রূপাঞ্জনা মিত্র, ঊষসী চক্রবর্তী, স্বাগত মুখার্জি, মৌমিতা গুপ্তা-সহ আরও বহু অভিনেতা-অভিনেত্রী রয়েছেন। যারা ইতিবাচক চরিত্রের পাশাপাশি নেতিবাচক চরিত্রেও নিজেদের অভিনয় প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন। কখনও শাশুড়ি, কখনও ষড়যন্ত্রকারী, কখনও প্রতিপক্ষ বিভিন্ন চরিত্রে তাঁদের অভিনয় গল্পের উত্তেজনা বাড়িয়েছে।

আরও পড়ুনঃ “বুম্বা চলে গেল, আমার কথাটা রাখলো না!” “দশ মিনিট আমাকে সময় দিল না, যেহেতু অনেক বড়ো হয়ে গেছে…ভাবলেই আজও কান্না পায়!” বাবা ছেড়ে চলে যান, মা প্রযোজকদের দরজায় দরজায় গিয়ে বলতেন, ‘আমার ছেলেকে নাও, ও ঠিক পারবে’! সেই প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের জন্য একদিন কেন চোখের জল ফেলতে হয়েছিল অনামিকা সাহাকে?

নায়ক-নায়িকা দর্শকের ভালোবাসা পান, কিন্তু একজন দক্ষ খলচরিত্রাভিনেত্রী দর্শকের মনে যে বিরক্তি, রাগ কিংবা ঘৃণা তৈরি করতে পারেন, সেটিও অভিনয়ের এক বড় সাফল্য। আর সেই কারণেই বাংলা বিনোদন জগতে এই অভিনেত্রীদের অনেকের নাম আজও আলাদা করে মনে রাখেন দর্শক। আপনাদের মধ্যে বাংলা টেলিভিশনের সব থেকে সেরা খলনায়িকাকে? জানাতে ভুলবেন না আমাদের!

You cannot copy content of this page