“হাত ধরে ঘুমিয়ে পড়ি ওই পর্যন্তই, একই বিছানায় শুয়েছি মানেই…” “তোমাকে আমার আপন মনে হয়” প্রেমে থেকে ঘনি’ষ্ঠতার দাবি অস্বীকার, নন্দিনীর সঙ্গে দূরত্ব বাড়তেই আচমকাই কার হাত ধরতে উদ্ধত রাজবীর? ‘বিগ বস বাংলা’র ঘরে কে হতে চলেছে লাভার বয়ের পরবর্তী শিকার?

বিগ বস বাংলার ঘরে রাজবীর দে এবং নন্দিনী দত্তের সম্পর্কের সমীকরণে হঠাৎই বদল দেখা যাচ্ছে। গত কয়েকটি পর্বে দুজনকে বেশ কাছাকাছি দেখা গেলেও এবার তাঁদের মধ্যে তৈরি হয়েছে দূরত্ব। ক্যাপ্টেন্সি টাস্কের পর থেকেই যেন পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নিয়েছে। একসময় রাজবীর ও নন্দিনীকে হাত ধরে ঘুমোতে দেখা যেত। এমনকি রাতে নন্দিনীর চুলও যত্ন করে বেঁধে দিতেন রাজবীর। সেই সম্পর্কেই এবার দেখা দিয়েছে অভিমান এবং মতের অমিল। কাউচে মুখোমুখি বসে রাজবীর স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তাঁদের খেলার লক্ষ্য এক নয় এবং দুজনকে নিজেদের মতো খেলতে হবে।

নন্দিনীও রাজবীরের কথার জবাব দিয়েছেন নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে। তিনি জানিয়েছেন, তিনি নিজের খেলাই খেলছেন এবং গেমে এগিয়ে যাওয়ার জন্য কাউকে ব্যবহার করছেন না। অন্যদিকে রাজবীরের কথায় নন্দিনীকে নিয়ে তাঁর মনের টানও স্পষ্ট হয়েছে। রাজবীরের মতে, নন্দিনী অত্যন্ত শক্ত মনের মানুষ, যেখানে তিনি নিজেকে ততটা শক্ত মনে করেন না। এমনকী তাঁর মাথায় সারাক্ষণ নন্দিনীর কথাই ঘোরে বলেও জানিয়েছেন রাজবীর। অর্থাৎ দূরত্ব তৈরি হলেও নন্দিনীর প্রতি তাঁর পছন্দ একেবারে শেষ হয়ে যায়নি। তবে একইসঙ্গে নন্দিনী তাঁকে এবং মনামী ঘোষকে নিজেদের সুবিধার জন্য ‘অপশন’ হিসেবে দেখছেন বলেও মনে করছেন রাজবীর।

নন্দিনীর প্রতি এই অভিমান থেকেই এবার রাজবীরকে দেখা যায় তনুশ্রী রায় দাসের সঙ্গে কথা বলতে। মজার বিষয় হল, কিছুদিন আগেই তনুশ্রীর সঙ্গে রাজবীরের যথেষ্ট ঝামেলা হয়েছিল। তারপরেও এবার সেই তনুশ্রীর কাছেই গিয়ে নিজের মনের কথা জানান তিনি। রাজবীর তনুশ্রীকে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, তাঁদের মধ্যে যত কিছুই ঘটুক না কেন, তিনি তাঁকে নিজের মানুষ বলেই মনে করেন। তনুশ্রীর সঙ্গে নতুন করে হাত মেলানোর ইচ্ছাও প্রকাশ করেন তিনি। রাজবীরের কথায়, “যাই ঘটুক না কেন, তোমাকে আমার আপন মনে হয়। তাই এবার তোমার সঙ্গে হাত মেলাতে চাই।” ফলে নন্দিনীর সঙ্গে টানাপোড়েনের মধ্যেই তনুশ্রীর সঙ্গে তাঁর নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলেছে।

তবে রাজবীরের এই প্রস্তাব শুনে তনুশ্রীও সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দেন। তিনি জানতে চান, নিজের পার্টনারই যখন তাঁকে ছেড়ে দিয়েছেন, তখন তাঁর কাছ থেকে রাজবীর ঠিক কী প্রত্যাশা করছেন। জবাবে রাজবীর তনুশ্রীকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন যে তাঁকে বিশ্বাস করা যেতে পারে। একইসঙ্গে নন্দিনীর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার বিষয়টিও নিজের মতো করে ব্যাখ্যা করেন তিনি। রাজবীর বলেন, “আমরা একই বিছানায় শুই বলেই নন্দিনীকে গেমের কোনও কথা বলি না। শুধু পাশাপাশি শুয়ে হাত ধরে ঘুমিয়ে পড়ি।” অর্থাৎ ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতা থাকলেও খেলার কৌশল তিনি নন্দিনীর সঙ্গে ভাগ করেন না বলেই দাবি করেছেন। রাজবীরের কথা শোনার পর তনুশ্রীও জানিয়েছেন, খেলার প্রয়োজনে তাঁর সঙ্গে হাত মেলানোর কথা তিনি ভাবতে পারেন।

আরও পড়ুনঃ বিয়ের কয়েক মাসে কাটতেই বিচ্ছেদের গুঞ্জন, এর মাঝেই বদলে গেল সুর? রণজয়ের সঙ্গে সম্পর্কের জল্পনায় নীরবতা ভেঙে এবার কী ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা শ্যামৌপ্তির? উঠছে নতুন প্রশ্ন!

এবার দেখার বিষয়, রাজবীর ও নন্দিনীর সম্পর্কের এই দূরত্ব আগামী দিনে কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়। তাঁদের এতদিনের ঘনিষ্ঠ সমীকরণ কি সত্যিই ভেঙে যাচ্ছে, নাকি সাময়িক অভিমানেই এই পরিবর্তন, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে কৌতূহল। একইসঙ্গে তনুশ্রীর সঙ্গে রাজবীরের নতুন করে বোঝাপড়া তৈরি হয় কি না, সেটিও নজরে থাকবে। চলতি মরশুমের বিগ বস বাংলা শুরু হয়েছে গত ৩০ অগস্ট থেকে। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঞ্চালনায় শুরু হওয়া এই সিজনে ওয়াইল্ড কার্ড হিসেবে প্রবেশ করেছেন রাজবীর দে এবং জিতু কমল। এখন রাজবীর নন্দিনীর সঙ্গে পুরনো সমীকরণ ফিরিয়ে আনেন, নাকি তনুশ্রীর সঙ্গে নতুন জোট তৈরি করেন, সেটাই দেখার। বিগ বসের ঘরে সম্পর্ক এবং খেলার সমীকরণ যেভাবে বদলাচ্ছে, তাতে এই বিষয়টি আগামী পর্বগুলিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

You cannot copy content of this page