বাবা কিংবদন্তি ফুটবলার, তাঁর হাতেই তৈরি একের পর এক তারকা! তবুও ছেলেকে কেন ফুটবল মাঠেই নামতে দিলেন না সুব্রত ভট্টাচার্য ? ‘কথা’-র এভি ওরফে সাহেব ভট্টাচার্য ফাঁস করলেন বাবার সেই কঠিন সিদ্ধান্তের আসল কারণ!

বিনোদন জগতে এমন বহু তারকা রয়েছেন, যাঁদের পারিবারিক পরিচয় তাঁদের জীবনের শুরু থেকেই আলাদা একটা জায়গা তৈরি করে দিয়েছে। কারও বাবা অভিনেতা, কারও মা গায়িকা, আবার কারও পরিবারের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে খেলাধুলা বা অন্য কোনও পেশা। তবে পারিবারিক পরিচয় থাকলেই যে সন্তান সেই একই পথে হাঁটবেন, এমনটা নয়। অনেক সময় নিজের পছন্দ, পরিস্থিতি কিংবা পরিবারের সিদ্ধান্তেই একেবারে অন্য জগতে পা রাখেন তাঁরা। তেমনই এক ভিন্ন পথের গল্প অভিনেতা সাহেব ভট্টাচার্যের।

বাংলা বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ সাহেব ভট্টাচার্য। ছোট-বড় পর্দায় নিজের অভিনয় দিয়ে দর্শকের নজর কেড়েছেন তিনি। এর আগে ‘কথা’ ধারাবাহিকে ‘এভি’ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মন জয় করেছিলেন অভিনেতা। তবে সাহেবের পরিচয় শুধু অভিনেতা হিসেবেই নয়, তিনি বাংলা ফুটবলের কিংবদন্তি সুব্রত ভট্টাচার্যের ছেলে। ফলে তাঁর জীবনের সঙ্গে ফুটবলের যোগ যে ছোটবেলা থেকেই ছিল, তা বলাই যায়। কিন্তু বাবার মতো ফুটবল মাঠে তাঁকে কখনও দেখা যায়নি।

প্রশ্ন উঠতেই পারে, স্বনামধন্য ফুটবলারের ছেলে হয়েও ফুটবল কি সাহেবকে টানেনি? কলকাতা ময়দানে তিনিও কি তাঁর বাবার মতো নিজের ছাপ রাখতে চাননি? যে সুব্রত ভট্টাচার্যের হাত ধরে একাধিক প্রতিভাবান ফুটবলার তৈরি হয়েছেন, সেই তিনিই কেন নিজের ছেলেকে মাঠ থেকে দূরে রাখলেন? সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই অজানা অধ্যায়ের কথাই সামনে এনেছেন ‘কথা’-র এভি ওরফে সাহেব ভট্টাচার্য। তাঁর কথায়, ছোটবেলায় ফুটবলের প্রতি তাঁর যথেষ্ট আগ্রহ ছিল। এমনকি ভালোই খেলতেন তিনি। কিন্তু ফুটবলার হওয়ার স্বপ্নকে এগিয়ে নিয়ে যেতে দেননি তাঁর বাবা সুব্রত ভট্টাচার্য।

এর পিছনে অবশ্য ফুটবলের প্রতি কোনও বিরাগ ছিল না। বরং নিজের দীর্ঘ খেলোয়াড় জীবনের অভিজ্ঞতা থেকেই ছেলেকে নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সুব্রত। দীর্ঘ ১৭ বছর ময়দানে খেলেছেন তিনি, মোহনবাগানকে একাধিক সাফল্য এনে দিয়েছেন এবং পেলের মতো বিশ্বখ্যাত ফুটবলারের বিরুদ্ধেও মাঠে নেমেছেন। কিন্তু খেলোয়াড় জীবনের শেষদিকে ফুটবলারদের প্রতি অবহেলা, অনিশ্চয়তা এবং নানা বঞ্চনার দিকটিও খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন তিনি। তাই ছেলেকে সেই অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিতে চাননি। তাঁর চাওয়া ছিল, সাহেব আগে পড়াশোনা শেষ করুন এবং নিজের জন্য একটি স্থায়ী কেরিয়ার তৈরি করুন।

আরও পড়ুনঃ “হাত ধরে ঘুমিয়ে পড়ি ওই পর্যন্তই, একই বিছানায় শুয়েছি মানেই…” “তোমাকে আমার আপন মনে হয়” প্রেমে থেকে ঘনি’ষ্ঠতার দাবি অস্বীকার, নন্দিনীর সঙ্গে দূরত্ব বাড়তেই আচমকাই কার হাত ধরতে উদ্ধত রাজবীর? ‘বিগ বস বাংলা’র ঘরে কে হতে চলেছে লাভার বয়ের পরবর্তী শিকার?

সুব্রত ভট্টাচার্যের আরও একটি বিষয় ছিল স্পষ্ট ফুটবল খেলতে গিয়ে যেন ছেলের পড়াশোনা নষ্ট না হয়। পাশাপাশি ময়দানের রাজনীতি, তোষামোদ বা ‘চামচাগিরি’র সংস্কৃতিও তিনি পছন্দ করতেন না। নিজের জীবনে কারও তোষামোদ না করে চলা সুব্রত চেয়েছিলেন, তাঁর ছেলেও যেন সেই পরিবেশের বাইরে নিজের পরিচয় তৈরি করে। শেষ পর্যন্ত বাবার সেই কঠোর সিদ্ধান্তেই ফুটবলের মাঠ থেকে সরে এসে অভিনয়ের জগতে পা রাখেন সাহেব। আজ ফুটবলার না হয়েও অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন তিনি। তবে বাবার সততা, আত্মসম্মান এবং ব্যক্তিত্বই যে তাঁর জীবনের অন্যতম বড় শিক্ষা, তা বারবারই জানিয়েছেন সাহেব।

You cannot copy content of this page