যে রাজবীরকে নিয়ে নন্দিনীর সঙ্গে জিতুর বিবাদ, সেই রাজবীরই মধ্যরাতে টানাটানি করলেন সৃজলার পা ধরে! অন্যদিকে রাজবীরকে ভুলে ‘শত্রু’ জিতুর বাহুলগ্না নন্দিনী! আচমকাই উল্টে গেল সব সমীকরণ, ‘বিগ বস বাংলা’র ঘরে একই রাতে আর কী কী হলো?

মধ্যরাতে হঠাৎ রান্নাঘরের চারটি গ্যাস বার্নার উধাও, তা ঘিরেই বুধবার রাতে তুমুল হইচই শুরু হল ‘বিগ বস বাংলা’র ঘরে। পর্বের একেবারে শেষ দিকে দেখা যায়, বার্নার খুঁজতে ঘুম থেকে সকলকে তুলে দেন রাজবীর দে। থালা পিটিয়ে তিনি সবাইকে জাগিয়ে জানান, যার কাছে বার্নার রয়েছে, সে যেন তা ফিরিয়ে দেয়। শুধু তাই নয়, বার্নার না পাওয়া গেলে প্রত্যেকের জিনিসপত্র পরীক্ষা করার কথাও বলেন তিনি। ড্রয়ার থেকে শুরু করে ঘরের বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ শুরু হয়। সেই সময় অবশ্য সৃজলা কম্বল মুড়ি দিয়ে নিজের বিছানায় ঘুমোচ্ছিলেন। তাঁকে ওইভাবে ঘুমোতে দেখে রাজবীরই সন্দেহ করেন যে বার্নার সরানোর পিছনে সৃজলার হাত থাকতে পারে।

এরপর কয়েকজন প্রতিযোগীকে সঙ্গে নিয়ে সৃজলার কাছে গিয়ে বার্নার ফেরত দেওয়ার জন্য বলা হয়। সৃজলা বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং ঘুম থেকে উঠতেও চাননি। তখনই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, সৃজলার পা ধরে তাঁকে বিছানা থেকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন রাজবীর। এই ঘটনায় একমাত্র বাধা দিতে দেখা যায় সোনামণি সাহাকে। তিনি জানান, সৃজলার শরীর ভালো নেই, তাই এভাবে তাঁর সঙ্গে আচরণ না করাই উচিত। এদিকে বাড়িরই কারও কারও ধারণা হয়, এটি হয়তো কোনও প্রতিযোগীর গোপন টাস্ক হতে পারে। তাঁদের মতে, যদি সত্যিই তেমন কিছু হয়ে থাকে, তাহলে সকালে হয়তো নিজের থেকেই বার্নারের হদিশ মিলবে।

তবে রাজবীর সেই যুক্তিতে থামতে চাননি, বরং বারবার বলেন এখনই বার্নার খুঁজে বের করা দরকার। তাঁর যুক্তি ছিল, এই মুহূর্তে সকলের পেট ভরা থাকলেও সকালে খাবার তৈরি করতে না পারলে সমস্যায় পড়তে হবে। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও যখন চারটি বার্নারের কোনও সন্ধান মেলে না, তখন শেষ পর্যন্ত সৃজলা ঘুম থেকে উঠে পড়েন। উঠেই প্রথমে রাজবীরকে মারতে দেখা যায় তাঁকে। তারপর তিনিও অন্যদের সঙ্গে বার্নার খুঁজতে শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত সোফার পাশেই একটি বার্নার পড়ে থাকতে দেখা যায়। তবে সেটি কে সেখানে রেখেছিল বা চারটি বার্নারের বাকি অংশের কী হয়েছিল, তা স্পষ্ট হয়নি।

বার্নার কাণ্ডের রহস্য অবশ্য সেখানেই শেষ হয়নি, কারণ বাড়ির সদস্যদের মধ্যে তা নিয়ে শুরু হয় নানা জল্পনা। কেউ কেউ মনে করেন, সৃজলাই হয়তো বার্নার সরিয়েছিলেন। আবার কারও সন্দেহ গিয়ে পড়ে জিতু কমল বা নিরঞ্জনের দিকে। আরও একজনের বক্তব্য, বাইরের ঘরে দীপেন্দু একাই ঘুমোচ্ছিলেন, তাই কাজটি তাঁরও হতে পারে। অন্যদিকে এই ঘটনার পাশাপাশি ‘বিগ বস’ ঘরে ধরা পড়ে আরও একেবারে অন্য ছবি। এর আগে রাজবীরকে কেন্দ্র করে নন্দিনী দত্তকে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছিলেন জিতু কমল। সেই মন্তব্য থেকেই দুজনের মধ্যে তুমুল বিবাদ হয়েছিল, কিন্তু বুধবারের পর্বে সেই রাগ ভুলেই একসঙ্গে নাচতে দেখা গেল নন্দিনী ও জিতুকে।

আরও পড়ুনঃ ‘আমি খেলেই সবার এত সমস্যা কেন?’ নন্দিনীর হাত ছেড়ে ধরেছিলেন তনুশ্রীর হাত, এবার তাঁর সঙ্গেই বচসা! রাজবীরের ‘দুধ কাণ্ড’ নিয়ে ফের গণ্ডগোল ‘বিগ বস’-এর ঘরে? এর আগে কারণ ছিল ডিম, এবার হলো টা কী?

এদিনের লাক্সারি বাজেট টাস্কে মনামী ঘোষকে বাড়ির রানি করা হয়। মুকুট পরে সিংহাসনে বসে তিনি একে একে প্রতিযোগীদের বিভিন্ন কাজের নির্দেশ দিতে থাকেন। কাউকে গান গাইতে, কাউকে নাচতে এবং কাউকে চা বানানোর মতো কাজও দেন তিনি। বিনোদনের জন্য জিতু কমল ও রাজবীর দেকে মুখোমুখি পাঞ্জা লড়তে বলেন মনামী। প্রথম দিকে রাজবীর খেলা নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিলেও শেষ পর্যন্ত জয় পান জিতুই। এরপর নন্দিনীকে একা নাচতে না দিয়ে জিতুর সঙ্গে নাচার নির্দেশ দেন বাড়ির রানি। মনামীর নির্দেশ মেনে আগের বিবাদ ভুলে জিতুর বাহুলগ্না হয়ে নাচ করেন নন্দিনী, আর দুর্নিবার সাহা গেয়ে ওঠেন ‘হয়তো তোমারই জন্য’ গানটি।

You cannot copy content of this page