বাংলা বিগ বসের ঘরে এখন রোজই নতুন নতুন ঘটনা সামনে আসছে। প্রতিযোগীদের মধ্যে ঝগড়া, কান্না, প্রেম, রাগ সবকিছু মিলিয়ে জমে উঠেছে শো। ইতিমধ্যেই অনিন্দ্য সেনগুপ্ত এবং জয়িতা এই যাত্রা থেকে বিদায় নিয়েছেন। অন্যদিকে ঘরে প্রবেশ করেছেন রাজবীর দে এবং জিতু কমল। শুরু থেকেই রাজবীরকে বেশ সক্রিয়ভাবে খেলতে দেখা যাচ্ছে। জিতুর আগমন নিয়েও তাঁর অনুরাগীদের মধ্যে যথেষ্ট উৎসাহ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলা বিগ বসের প্রতিযোগীদের নিয়েই মজার রোস্ট ভিডিও বানালেন ইউটিউবার কিরণ দত্ত।
কিরণ দত্ত সাধারণত নিজের ভিডিওতে পুরনো বাংলা সিনেমার নানা ভুলভ্রান্তি মজার ছলে তুলে ধরেন। এবার সেই একই ধরনের মজার ছলে বাংলা বিগ বসের ঘরের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। কাউকে তাঁর পছন্দ হয়েছে, কাউকে নিয়ে করেছেন প্রশ্ন, আবার কাউকে নিয়ে করেছেন সরাসরি কটাক্ষ। সৃজলাকে নিয়ে তাঁর প্রথম প্রশ্নই ছিল রান্না প্রসঙ্গে। কিরণের কথায়, “সৃজলা কেন প্রায় সব রান্নাতেই উচ্ছে দিয়ে ফেলছে, সেটাই আমার মাথায় ঢুকছে না।” তনুশ্রীকে অবশ্য তাঁর ভালো লেগেছে, কিন্তু তাঁর চিৎকার নিয়ে রয়েছে আপত্তি। কিরণ মজা করে বলেছেন, “তনুশ্রীর চিৎকার এতটাই জোরে যে শুনতে শুনতে আমার টিভির স্পিকারই যেন নষ্ট হয়ে যাওয়ার জোগাড়।”
জয়িতাকেও কিরণের রোস্ট থেকে বাদ দেননি তিনি। বিভিন্ন প্রসঙ্গে তাঁকে কটাক্ষ করার পাশাপাশি জয়িতাকে বোকা বলেও মন্তব্য করেছেন কিরণ। তবে একইসঙ্গে বুঝিয়ে দিয়েছেন, এই মন্তব্যের অর্থ এই নয় যে জয়িতাকে তাঁর খারাপ মানুষ মনে হয়েছে। অর্থাৎ তাঁর চোখে জয়িতার কিছু আচরণ বোকামির মতো লাগলেও তাঁকে অপছন্দ করার কথা বলেননি তিনি। তাপস পালের মেয়ে সোহিনীকে আবার বেশ ভালোই বলেছেন কিরণ। অন্যদিকে আলেকজান্দ্রা টেলরকে নিয়েও করেছেন মজার মন্তব্য। কিরণের বক্তব্য, বিদেশি হলেই যে কেউ খুব বুদ্ধিমান বা অত্যন্ত স্মার্ট হবেন, এমনটা তিনি আলেকজান্দ্রাকে দেখে মনে করেননি।
রাজবীরকে নিয়ে কিরণের পর্যবেক্ষণও বেশ আলাদা। তাঁর মতে, বাংলার বহু মানুষ মুম্বইয়ে গিয়ে কাজ করার সুযোগ খোঁজেন। সেখানে রাজবীর মুম্বই থেকে কলকাতায় এসে কাজ করছেন এবং বাংলা বিগ বসে অংশ নিয়েছেন। শুধু ঘরে ঢোকাই নয়, রাজবীর ইতিমধ্যেই অন্যদের রাগানো এবং নিজের মতো করে খেলা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতাও দেখাচ্ছেন। কিরণের চোখে অন্তত এখনও পর্যন্ত রাজবীর এমনভাবে খেলছেন না যে সবার কাছে ভালো ছেলে হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করাই তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। নিরঞ্জনকে নিয়েও তাঁর কটাক্ষ থামেনি। কিরণ সরাসরি বলেছেন, “নিরঞ্জন, তুই শেষ পর্যন্ত বিগ বসের ঘরে গেলি কেন?” পাশাপাশি তাঁর দাবি, দু’মাস আগে থেরাপি বন্ধ হলেও শো শেষ হওয়ার পর নাকি আবার থেরাপির প্রয়োজন হতে পারে।
সায়ককে নিয়েও নিজের পুরনো ধারণার সঙ্গে বর্তমান অভিজ্ঞতার তুলনা করেছেন কিরণ। তাঁর কথায়, আগে সায়ককে তাঁর অনেক বেশি কুচুটে বলে মনে হত। কিন্তু বিগ বসের ঘরে গিয়ে সেই সায়ককেই তাঁর তুলনায় অনেক শান্ত মনে হচ্ছে। নিজের ভ্লগে যিনি অনেক কথা বলেন, বিগ বসের ঘরে তাঁকে যেন অন্যরকমভাবে দেখা যাচ্ছে বলেই মন্তব্য করেছেন কিরণ। এর পাশাপাশি সায়কের গল্প বলার ধরনও তাঁর বেশ মজার লেগেছে। সৃজলা এবং নন্দিনীর প্রসঙ্গও কিরণের নজর এড়ায়নি। রাজবীরকে ঘিরে তাঁদের আচরণ নিয়ে তাঁর প্রশ্ন, “রাজবীরকে নিয়ে তোমরা এমন করছ কেন?” তাঁর মন্তব্যে মনে হয়েছে, নন্দিনীর কাছে গোটা পরিস্থিতিটাই যেন এক ধরনের খেলা।
ঝিলমের গান নিয়েও মজা করেছেন কিরণ দত্ত। তবে তাঁর বক্তব্যের মূল কথা ছিল, অন্যকে নিয়ে ঠাট্টা করলে নিজের ক্ষেত্রেও একই ধরনের মজা মেনে নেওয়ার মানসিকতা থাকা দরকার। কিরণ বলেছেন, “নিজের মুখ যদি এত শক্ত হয়, তাহলে অন্যের কথা শোনার জন্য কানকেও ততটাই শক্ত রাখতে হবে।” এরপর বিগ বসের ঘরের কান্না নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর কথায়, “সবাই এত কাঁদছে কেন? বিগ বস কি মারা গিয়েছে নাকি? তোমরা কি বিগ বসের শ্রাদ্ধবাড়িতে গিয়ে বসে আছ?” মনামীকেও তাঁর রোস্ট থেকে বাদ দেননি কিরণ। তাঁর প্রশ্ন, “কী ধরনের পোশাক পরছে আর সবকিছু নিয়েই বা কী বলছে?” সব মিলিয়ে মনামীর ক্ষেত্রে বিগ বসের ঘরের পরিস্থিতিকে তিনি অনেকটাই ‘যেমন খুশি সাজো’ ধরনের বলে মজা করেছেন।
আরও পড়ুনঃ যে রাজবীরকে নিয়ে নন্দিনীর সঙ্গে জিতুর বিবাদ, সেই রাজবীরই মধ্যরাতে টানাটানি করলেন সৃজলার পা ধরে! অন্যদিকে রাজবীরকে ভুলে ‘শত্রু’ জিতুর বাহুলগ্না নন্দিনী! আচমকাই উল্টে গেল সব সমীকরণ, ‘বিগ বস বাংলা’র ঘরে একই রাতে আর কী কী হলো?
তবে এত প্রতিযোগীর মধ্যে কিরণের পছন্দের নামও স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। দুর্নিবারকে তাঁর বিশেষভাবে ভালো লেগেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। দুর্নিবারকে নিয়ে এমন মজার মন্তব্য করেছেন যে, বিগ বসের ঘরে আগুন লাগলেও তাঁর রান্না বন্ধ হবে না। কিরণের রসিকতা, “পৃথিবীর শেষ দিন এসে গেলেও দুর্নিবার তখনও বসে ওমলেট বানিয়ে খাবে।” অর্থাৎ যত বড় পরিস্থিতিই তৈরি হোক, তাঁর কাছে খাবার এবং রান্নার গুরুত্ব নাকি একই থাকবে। এখন পর্যন্ত রাজবীর এবং জিতুর মধ্যে খেলার সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন কিরণ। সবশেষে সঞ্চালক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কেও রেহাই দেননি তিনি, তাঁর প্রশ্ন, “সৌরভ সবাইকে বকছেন না কেন? মনে হচ্ছে যেন থার্ড আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বসে আছেন!”






