ইতিমধ্যেই পরপারে পাড়ি দিয়েছেন ঠাকুমা, নাতনিকে শেষবার দেখার ইচ্ছেটাও পূরণ হয়নি! বিগ বসের ঘরে ক্যামেরার সামনে হাউমাউ করে কেঁদে ফেললেন নন্দিনী, বাবা-মাকে দিলেন কোন বিশেষ নির্দেশ?

বিগ বস বাংলার ঘরে এই মুহূর্তে টানটান উত্তেজনা চলছে। সৃজলা ও অনুষ্কার ঝামেলার পর থেকেই পরিবেশ বেশ অশান্ত। এর মধ্যেই প্রতিযোগীদের জন্য বিশেষ একটি টাস্ক নিয়ে হাজির হয় বিগ বস। দীর্ঘদিন পরিবারের মানুষদের থেকে দূরে থাকা প্রতিযোগীদের প্রিয়জনদের উদ্দেশে চিঠি লেখার সুযোগ দেওয়া হয়। চিঠি লিখতে গিয়ে আবেগ সামলাতে পারেননি অনেকেই। নিজেদের লেখা চিঠি ক্যামেরার সামনে পড়ে শোনানোর সময় একাধিক প্রতিযোগী কান্নায় ভেঙে পড়েন। তবে তাঁদের মধ্যে নন্দিনীর মুহূর্তটি আলাদা করে নজর কেড়েছে। বাবা-মাকে উদ্দেশ্য করে লেখা চিঠি পড়তে গিয়ে ক্যামেরার সামনেই হাউহাউ করে কেঁদে ফেলেন তিনি। ঘরের লড়াই এবং মানসিক চাপের কথাও নিজের চিঠিতে তুলে ধরেন অভিনেত্রী।

তবে নন্দিনীর চিঠির শেষের কথাই সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে। কান্নাভেজা গলায় বাবা-মাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বিশেষ অনুরোধ জানান। নন্দিনী বলেন, “তোমরা প্লিজ বাড়ির বাইরে গিয়ে অবশ্যই সৃজলার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করো।” এরপর নিজের কোনও ভুলের জন্য সৃজলার পরিবার কষ্ট পেয়ে থাকলে তাঁদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেওয়ার কথাও বলেন তিনি। তাঁর কথায়, “খেলার মাঝে যদি আমার কোনও ভুলের জন্য ওরা কষ্ট পেয়ে থাকে, তবে ওদের কাছে মন থেকে ক্ষমা চেয়ে নিও।” বিগ বসের ঘরে যখন প্রতিযোগিতার চাপ এবং একে অপরের সঙ্গে বিরোধ চলছে, তখন সহ-প্রতিযোগীর পরিবারের কাছে ক্ষমা চাওয়ার এই অনুরোধ আলাদা করে নজরে এসেছে। সোশ্যাল মিডিয়াতেও নন্দিনীর এই আচরণ নিয়ে প্রশংসা করেছেন দর্শকদের একাংশ। খেলার বাইরে গিয়ে এমন সৌজন্য দেখানোকে ইতিবাচক দিক হিসেবেই দেখছেন তাঁরা।

কিন্তু বিগ বসের ঘরের এই আবেগঘন মুহূর্তের মধ্যেই নন্দিনীর অজান্তে বাইরে ঘটে গিয়েছে একটি অত্যন্ত দুঃখের ঘটনা। বিগ বসের ঘরে বন্দি থাকার কারণে এখনও তিনি জানতে পারেননি যে তাঁর অত্যন্ত কাছের মানুষ এবং প্রিয় ঠাকুমা মীরা দত্ত আর নেই। বুধবার রাতে দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর মৃত্যু হয়েছে তাঁর ঠাকুমার। নন্দিনীর বাবা সন্দীপ দত্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি আবেগঘন পোস্ট করে এই খবর জানিয়েছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, “মা চিরকালের মতো চলে গেলেন। নন্দিনী এখনও জানে না ওর প্রিয় ঠাকুমা আর নেই।” ফলে একদিকে যখন নন্দিনী বিগ বসের ঘরে নিজের মানসিক চাপ এবং পরিবারের জন্য আবেগের কথা বলছেন, ঠিক সেই সময়েই বাস্তবে তাঁর পরিবারকে সামলাতে হচ্ছে প্রিয়জনকে হারানোর শোক। এই ঘটনার কথা নন্দিনী এখনও জানেন না বলেই জানানো হয়েছে।

নন্দিনীর চিঠির সময়টিও তাই এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আরও আবেগঘন হয়ে উঠেছে। বাবা-মাকে লেখা চিঠিতে তিনি বিগ বসের ঘরের কঠিন পরিস্থিতির কথা বলেছেন। একইসঙ্গে প্রতিযোগিতার মধ্যে নিজের কোনও আচরণে সৃজলার পরিবার কষ্ট পেয়ে থাকলে তাঁদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দায়িত্ব বাবা-মায়ের হাতে তুলে দিয়েছেন। সৃজলা এবং অনুষ্কার সাম্প্রতিক ঝামেলার কারণে যখন ঘরের পরিবেশ উত্তপ্ত, তখন নন্দিনীর এই বক্তব্য অন্য মাত্রা পেয়েছে। প্রতিযোগিতার লড়াইয়ের বাইরে পরিবারের সম্মান এবং অন্যের অনুভূতির কথাও যে তিনি ভাবছেন, সেই বিষয়টি দর্শকদের নজরে এসেছে। তাঁর বক্তব্যের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই নন্দিনীর এই মানসিকতার প্রশংসা করেছেন। তবে একই সময়ে তাঁর নিজের পরিবার যে এমন কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, সে বিষয়ে নন্দিনী সম্পূর্ণ অজ্ঞাত।

আরও পড়ুনঃ ‘তুমি এক্ষুনি বেরিয়ে যাও আমার বাড়ি থেকে…’ অত্যন্ত আপন হওয়া সত্ত্বেও সুখেন দাসকে কেন এইভাবেই একদিন চুড়ান্ত অপমানের পর দুরদুর করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন সুচিত্রা সেন? কী এমন আবদার করেছিলেন প্রিয় ‘ভাই’, যার জেরেই রেগে আ’গুন হয়ে উঠেছিলেন মহানায়িকা? পরে কেন সেই মানুষটির হাতেই মেয়ে মুনমুনের ভবিষ্যৎ তুলে দিয়েছিলেন তিনি?

বিগ বসের নিয়ম অনুযায়ী বাইরের দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন থাকায় প্রতিযোগীরা পরিবারের কোনও খবর পান না। ফলে নন্দিনীর ক্ষেত্রেও ঠাকুমার মৃত্যুর খবর এখনও তাঁর কাছে পৌঁছয়নি। বুধবার রাতে মীরা দত্তের মৃত্যুর পর বাবা সন্দীপ দত্ত যে পোস্ট করেছেন, সেখান থেকেই বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে মেয়েকে এই খবর জানানো সম্ভব হয়নি বলেই উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে একই সময়ে বিগ বসের ঘরে নন্দিনী বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পেয়ে তাঁদের সৃজলার পরিবারের কাছে যাওয়ার অনুরোধ করেছেন। নিজের কোনও ভুল হয়ে থাকলে মন থেকে ক্ষমা চেয়ে নিতে বলেছেন। তাই একদিকে প্রতিযোগিতার চাপ, অন্যদিকে পরিবারের জন্য তাঁর আবেগ এবং বাইরে ঘটে যাওয়া এই ব্যক্তিগত শোক, সব মিলিয়ে নন্দিনীর জীবনে এই মুহূর্তটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে ঠাকুমার মৃত্যুর খবর জানার পর তিনি কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবেন, তা এখনও তাঁর অজানা।

You cannot copy content of this page