৩১ বছর ধরে মনের মধ্যে লালন করা স্বপ্ন অবশেষে পূরণ হলো অম্বরীশ ভট্টাচার্যের! ১৯৯৫ থেকে অপেক্ষা, এত বছর পর এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ! খুশিতে আপ্লুত অভিনেতা, কী এমন পেলেন তিনি?

বাংলা বিনোদন জগতের পরিচিত অভিনেতা অম্বরীশ ভট্টাচার্য দীর্ঘদিন ধরেই দর্শকদের মন জয় করে আসছেন। প্রথমদিকে ‘রাজা গজা’ ধারাবাহিকের হাত ধরে দর্শকদের কাছে পরিচিতি পেয়েছিলেন তিনি। তারপর একের পর এক ছবিতে ও ধারাবাহিকে নানা ধরনের চরিত্রে দেখা গিয়েছে তাঁকে। মূলত পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করলেও অম্বরীশের অভিনীত চরিত্র আলাদা করে নজর কেড়েছে বারবার। নিজের অভিনয়ের দক্ষতায় ছোট চরিত্রকেও দর্শকদের মনে জায়গা করে দিতে পেরেছেন অভিনেতা। তবে অভিনয়ের এত বছরের পথচলার মধ্যেও তাঁর মনে একটি অপূর্ণ ইচ্ছে রয়ে গিয়েছিল। দীর্ঘ ৩১ বছর পর অবশেষে সেই ইচ্ছেই পূরণ হয়েছে।

অম্বরীশ জানিয়েছেন, অভিনয় জগতে নিজের জায়গা তৈরি করার চেষ্টা করার সময়ই শিবপ্রসাদকে প্রথম আলাদা করে তাঁর নজরে এসেছিল। পড়াশোনা শেষ করে যখন ধীরে ধীরে অভিনয়ের জগতে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন, তখন একটি ধারাবাহিকে শিবপ্রসাদের অভিনয় দেখেছিলেন তিনি। সেই অভিনয় তাঁকে এতটাই মুগ্ধ করেছিল যে, তখন থেকেই শিবপ্রসাদের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছে তৈরি হয়। কিন্তু সময় পেরিয়ে গেলেও সেই সুযোগ আর আসেনি। ১৯৯৫ সাল থেকে মনে লালন করা সেই ইচ্ছা এত বছর ধরেই অপূর্ণ থেকে গিয়েছিল। অবশেষে শিবপ্রসাদের নতুন ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে সেই অপেক্ষার অবসান হয়েছে। নিজের বহু বছরের স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই অম্বরীশের আনন্দের শেষ নেই।

অভিনেতার কথায়, ১৯৯৫ সাল থেকে যে স্বপ্ন তিনি দেখেছিলেন, শেষ পর্যন্ত এই ছবির হাত ধরেই তা সত্যি হয়েছে। শিবপ্রসাদের সঙ্গে একই ছবিতে অভিনয় করতে পেরে তিনি যে কতটা খুশি, সেটিও জানিয়েছেন অম্বরীশ। ‘বহুরূপী দ্য গোল্ডেন ডাকু’ ছবিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে তাঁকে। এতগুলো ছবিতে কাজ করার পর অবশেষে শিবপ্রসাদের ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়াকে বিশেষ প্রাপ্তি হিসেবেই দেখছেন অভিনেতা। তাঁর দীর্ঘ অভিনয় জীবনে এই কাজটি তাই নিছক আর পাঁচটি ছবির মতো নয়। বরং বহুদিনের একটি ব্যক্তিগত ইচ্ছা পূরণের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এই ছবির সুযোগ। শিবপ্রসাদকে পাশে নিয়েই নিজের সেই স্বপ্নপূরণের কথা জানিয়েছেন অম্বরীশ।

‘বহুরূপী দ্য গোল্ডেন ডাকু’ ছবিতে শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে আবারও বিক্রম প্রামাণিকের চরিত্রে দেখা যাবে। তাঁর বিপরীতে রয়েছেন যিশু সেনগুপ্ত, যাঁকে বেশ কিছুদিন পর পুলিশের ভূমিকায় দেখা যাবে। ছবিতে সোহিনী সেনগুপ্তকেও একেবারে অন্য ধরনের চরিত্রে দেখা যাবে বলে জানা গিয়েছে। ঝিমলি চরিত্রে অভিনয় করছেন কৌশানি মুখোপাধ্যায়। এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন রজতাভ দত্ত, চন্দন সেন, অনুজয় চট্টোপাধ্যায়, শান্তিলাল মুখোপাধ্যায় এবং অনিমেষ গরুই। উইন্ডোজ প্রোডাকশন হাউসের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এটি সংস্থার দ্বিতীয় নিবেদন। ছবিতে একাধিক চমক থাকছে বলেও জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ “প্রাপ্তবয়স্কদের আমি একেবারেই পছন্দ করি না, কারণ ওরা বাচ্চাদের…” বাবার মৃ’ত্যুর আগেই সহজের মনে জমেছিল কত কথা! ছোট্ট ছেলের সেই উপলব্ধি আজ যেন বেশি করে কাঁদাচ্ছে, রাহুল অরুণোদয়ের শেষ সময়ে ছেলের বলা কথায় আবেগতাড়িত নেটপাড়া! কী এমন জানিয়েছিল সে, যা শুনে থমকে যেতে পারেন আপনিও?

ছবিটির শুটিংও হয়েছে একাধিক জায়গায় এবং বড় পরিসরে। বারাসাত, টাকি, বর্ধমান, বিষ্ণুপুর, মালদা এবং হাসনাবাদ সহ মোট ৯৬টি লোকেশনে ছবির শুটিং হয়েছে। ফলে গল্পের পাশাপাশি ছবির লোকেশনও দর্শকদের জন্য অন্যতম আকর্ষণ হতে চলেছে। এই ছবির হাত ধরেই অম্বরীশের দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। যে অভিনেতাকে এতদিন মূলত পার্শ্বচরিত্রে দেখেই দর্শক চিনেছেন, তাঁর জন্য এই কাজ নিঃসন্দেহে বিশেষ একটি অধ্যায়। শিবপ্রসাদের সঙ্গে একই ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়াকে তাই নিজের অভিনয় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ প্রাপ্তি হিসেবেই দেখছেন অম্বরীশ। ১৯৯৫ সালে দেখা সেই স্বপ্ন অবশেষে ২০২৬ সালে এসে বাস্তব রূপ পেল।

You cannot copy content of this page