বিগ বস বাংলার ঘরে প্রতিদিনই বদলাচ্ছে সমীকরণ। প্রতিযোগীদের ঝামেলা, বন্ধুত্ব, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং একে অপরকে নিয়ে মন্তব্য সব মিলিয়ে দর্শকদের নজর এখন পুরোপুরি আটকে রয়েছে এই রিয়্যালিটি শোয়ে। এর মধ্যেই নন্দিনী দত্তকে ঘিরে তৈরি হয়েছে একাধিক বিতর্ক। বিশেষ করে সৃজলার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার পর নন্দিনীর মানসিক অবস্থাকে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাঁর বাবা-মা। সম্প্রতি নন্দিনীর বাড়িতে গিয়ে তাঁর বাবা সন্দীপ দত্ত ও মা পূজা দত্তের সঙ্গে কথা বলেছে সংবাদমাধ্যম। সেখানেই মেয়ের খেলা, বিতর্ক, সৃজলার পরিবারের কাছে ক্ষমা চাওয়া থেকে শুরু করে রাজবীরের সঙ্গে নন্দিনীর সম্পর্ক একাধিক বিষয়ে মুখ খুলেছেন তাঁরা।
নন্দিনীর বাবা-মা জানিয়েছেন, সৃজলার সঙ্গে ঘটনার পর গত দু’সপ্তাহ ধরে তাঁদের মেয়ে মানসিকভাবে ভালো নেই। এমনকি বাড়িতে সৃজলার পরিবারের উদ্দেশে ক্ষমাও চেয়েছেন তাঁরা। নন্দিনীর মা বলেন, “আমি ওনাদের কাছে সত্যি ক্ষমা চাইছি আমার মেয়ের জন্য। আপনার মেয়ে ব্যথা পেয়েছে, আজকে আমার মেয়েও যদি এরকম ব্যথা পেত তাহলে হয়তো আমরাও রিঅ্যাক্ট করতাম। তো ক্ষমা করে দেবেন।” তাঁর দাবি, নন্দিনীর অনুতাপ কোনও অভিনয় নয়। মেয়ের লেখা চিঠি দেখার পর তিনি কেঁদেছেন বলেও জানান। একইসঙ্গে নন্দিনীর পরিবারের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে, তাঁরা সৃজলাকে বা তাঁর পরিবারকে দায়ী করছেন না। বরং নন্দিনীর ভুল হয়ে থাকলে সেটি স্বীকার করে নিয়ে সম্পর্কটা ভবিষ্যতে স্বাভাবিক হোক, সেটাই তাঁদের প্রত্যাশা।
তবে নন্দিনীর বাবা-মায়ের কথায় সবচেয়ে বেশি উঠে এসেছে রাজবীরের প্রসঙ্গ। রাজবীরকে নিয়ে তাঁদের বক্তব্যে স্পষ্ট, তাঁরা তাঁকে শুধু নন্দিনীর সহ-প্রতিযোগী হিসেবে দেখছেন না। নন্দিনীর মা বলেন, “আমার মেয়ের পছন্দই আমাদের পছন্দ।” এমনকি রাজবীরকে যদি ভবিষ্যতে মেয়ের পছন্দের মানুষ হিসেবে দেখা যায়, তাতেও তাঁদের আপত্তি নেই বলে ইঙ্গিত দেন তিনি। রাজবীরের ব্যক্তিত্ব নিয়েও তাঁর প্রশংসা, “আমার কিন্তু ভালো মনের মানুষ মনে হয়। আমি যতটুকু দেখেছি… আমি চাই আমার মেয়েকে কেয়ার করুক।” রাজবীরকে নিয়ে দর্শকদের বিপুল সমর্থনের প্রসঙ্গেও নন্দিনীর বাবা বলেন, “১০০ জন যদি ভোট দেয়, তার ৫০টা ভোট রাজবীর পাচ্ছে… তাহলে কিছু তো কারণ রয়েছে।” অর্থাৎ রাজবীরের জনপ্রিয়তার পিছনে কোনও কারণ রয়েছে বলেই তাঁর ধারণা।
নন্দিনীর বাবা-মা মনে করেন, বিগ বসের ঘরে রাজবীরকে বারবার কোণঠাসা করার চেষ্টা হলেও নন্দিনী অনেক সময় তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে। তাঁদের মতে, নন্দিনীর আত্মবিশ্বাস অনেক বেশি এবং সে নিজের মতো করে খেলতে জানে। একইসঙ্গে অনুষ্কার প্রবেশের পর বাইরে ঘটে যাওয়া বিষয় নন্দিনীকে জানানো এবং হ্যাশট্যাগ নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নন্দিনীর মা। তাঁর কথায়, “এটা ওকে বলে ওর মনোবলটা ভাঙার চেষ্টা।” এমনকি তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, নন্দিনী আরও পরে শোয়ে ঢুকলে হয়তো পরিবারের অসুস্থতার খবরও তাকে জানিয়ে দেওয়া হতে পারত। তবে পুরো বিষয়টি নিয়ে চ্যানেলের উপর আস্থা রাখার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা। নন্দিনীর মায়ের আরও বক্তব্য, “রেসপেক্ট কি শুধু ছোটরাই বড়দের করবে? বড়রা কি ছোটদের রেসপেক্ট করবে না?” তাঁর মতে, নন্দিনী কাউকে আগে থেকে আঘাত করেনি, বরং যেখানে আঘাত পেয়েছে সেখানেই জবাব দিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ “আগের সরকারের সময়ে কোথাও না গিয়ে তো নিজের কেরিয়ারের অনেক ক্ষ’তি হয়েছে, তখন চাইনি বলে এখন…” “আমরা দু’জন সম্পূর্ণ দুই মেরুর মানুষ, তবু উনি আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন” হঠাৎ অগ্নিমিত্রা পালের ভূয়সী প্রশংসায় শ্রীলেখা মিত্র! বিজেপি নেত্রীকে চরম কটা’ক্ষের পর উল্টো হয়ে পাল্টি খেলেন অভিনেত্রী? তৈরি হচ্ছে নতুন সমীকরণ?
সবশেষে নন্দিনীর বাবা-মায়ের কথায় উঠে এসেছে বিগ বসের সম্ভাব্য বিজয়ী নিয়েও তাঁদের মত। মেয়ের জয়ের পাশাপাশি রাজবীর জিতলেও তাঁরা সমান খুশি হবেন বলে জানিয়েছেন। নন্দিনীর মা স্পষ্ট করে বলেন, “রাজবীর জিতলে আমি ততটাই খুশি হব।” তবে এর পিছনে অন্য কোনও সমীকরণ নেই বলেও তাঁরা জানিয়েছেন। নন্দিনীর পরিবারের কাছে মেয়ের সিদ্ধান্তই শেষ কথা। একইসঙ্গে দর্শকদের উদ্দেশে নন্দিনীর বাবা আবেদন করেছেন, “আপনারা নিরপেক্ষ বিচার করবেন। নন্দিনী যদি ভালো খেলে, তাহলে আপনাদের যদি মনে হয় নন্দিনী এই বিগ বসে থাকা উচিত, তাহলে নন্দিনীকে আপনারা ভোট করবেন।” অর্থাৎ বিতর্কের বাইরে গিয়ে নন্দিনী ও রাজবীর দুজনের খেলাকেই দর্শক যেন নিজেদের বিচারবুদ্ধি দিয়ে মূল্যায়ন করেন, সেটাই তাঁদের বার্তা।






“প্রকৃত অসভ্য ও অভদ্র মেয়ের লক্ষণ কথা না শোনা… বিগ বসে এসে তুমি কুইন নয়, ‘ডা*র্টি ক্যুইন’ নামে পরিচিত হচ্ছ বাংলার ঘরে ঘরে!” “সৌরভ হতভাগা যে টাকার জন্য এই মেয়েটার সঙ্গে মুখ লাগতে হচ্ছে!” বিগ বস বাংলার ঘরে এন্ট্রি নিতেই মিথ্যে সাজিয়ে সবার দুর্বল জায়গায় করছেন আ’ঘাত, অনুষ্কা ঘোষকে চাঁচাছোলা ভাষায় আয়না দেখালেন নৃত্যশিল্পী চাঁদনী গঙ্গোপাধ্যায়!