বিগ বস বাংলার ঘরে দীপেন্দু বিশ্বাসের বিদায়ের পর থেকেই বদলে গিয়েছে দুর্নিবার সাহা ও ঝিলাম গুপ্তর সম্পর্কের সমীকরণ। একসময়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বে এখন তৈরি হয়েছে দূরত্ব, আর সেই সঙ্গে দুর্নিবারের আচরণ নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন দর্শকদের একাংশ। তাঁদের মতে, দীপেন্দু চলে যাওয়ার পর থেকে যেন কীভাবে আলোচনার কেন্দ্রে থাকা যায়, সেই চেষ্টাই করে চলেছেন দুর্নিবার। প্রথমে রাগে ফুঁসতে দেখা গেল তাঁকে, এরপর ঝিলামের সামনে গিয়ে কড়া মেজাজে শুভেচ্ছা জানালেন। দুর্নিবারের এমন আচরণে রীতিমতো অস্বস্তিতে পড়ে যান ঝিলাম। বারবার তিনি জানতে চান, দীপেন্দুর বিদায়ের জন্য কি তাঁকেই দায়ী করছেন দুর্নিবার? কিন্তু সেভাবে কোনও উত্তর দেননি গায়ক। পরে ঝিলামও দুর্নিবারের আচরণে আঘাত পাওয়ার কথা জানান এবং তাঁকে নমিনেট করেন। ফলে বন্ধুত্বের ভাঙন নিয়ে বিগ বসের ঘরে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা।
দর্শকদের একাংশের দাবি, ঝিলামের সঙ্গে এই ঘটনার পরেও দুর্নিবারের রাগ কমেনি। বরং সেই ক্ষোভ মনের মধ্যে জমিয়ে রেখেছিলেন তিনি। তাঁদের বক্তব্য, প্রথমে সাপের মতো ফোঁসফোঁস করা, তারপর চোখ দিয়ে ঝিলামকে শাসানো এবং পরবর্তী সময়ে কান্নাকাটি করেও বিশেষ সহানুভূতি আদায় করতে পারেননি দুর্নিবার। দীপেন্দুর বিদায়ে তিনি যে ভীষণ কষ্ট পেয়েছেন, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। কারণ, দুজনের মধ্যে বন্ধুত্ব ছিল বেশ গভীর। কিন্তু দর্শকদের একাংশের প্রশ্ন, নিজের বন্ধুর চলে যাওয়ার দুঃখ প্রকাশ করতে গিয়ে ঝিলামের উপর সেই রাগ দেখানোর কী প্রয়োজন ছিল? তাঁদের মতে, ঝিলাম থেকে যাওয়ার জন্য দীপেন্দু বাদ পড়েননি, বরং ঘরের সদস্যদের ভোটেই বিদায়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফলে এই ঘটনায় ঝিলামকে দায়ী করার কোনও কারণ নেই। এর মধ্যেই দুর্নিবারের আচরণ নিয়ে নেটমাধ্যমে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।
এরপর বৃহস্পতিবারের ক্যাপ্টেন্সি টাস্কে সঞ্চালকের দায়িত্ব পেয়ে যান দুর্নিবার। আর সেখানেই নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। বাগানের মধ্যে তৈরি করা হয়েছিল একটি রেসলিং রিং। নিয়ম অনুযায়ী, গ্লাভস পরে একে অপরকে ধাক্কা দিয়ে রিংয়ের বাইরে বের করে দিতে হবে প্রতিযোগীদের। তিনবার ক্র্যাশ ম্যাটের উপর পড়ে গেলে প্রতিযোগীকে বাদ পড়তে হবে। এই টাস্কে অংশ নেন নিরঞ্জন মণ্ডল, সৃজলা গুহ, সোনামণি সাহা, রাজবীর দে এবং তনুশ্রী রায় দাস। শারীরিক সমস্যার কারণে চিকিৎসক সৃজলাকে এই খেলায় অংশ নিতে বারণ করেছিলেন, কিন্তু তিনি নিজের দায়িত্বে খেলার সিদ্ধান্ত নেন। প্রথমে চোট পেয়ে বাদ পড়েন তনুশ্রী, এরপর রাজবীর এবং সৃজলাও ছিটকে যান। শেষ পর্যন্ত লড়াই গিয়ে দাঁড়ায় নিরঞ্জন ও সোনামণির মধ্যে। কিন্তু তার আগেই দুর্নিবারের একটি সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে নিরঞ্জনের সঙ্গে তুমুল সংঘাত বাধে।
টাস্ক চলাকালীন দুর্নিবারের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে নিরঞ্জন তাঁকে গালিগালাজ করেন। এরপর সঞ্চালক হিসেবে দুর্নিবার নিরঞ্জনকে সরাসরি প্রতিযোগিতা থেকে বাদ দেওয়ার ঘোষণা করেন এবং সোনামণিকে একতরফাভাবে ক্যাপ্টেন করে দিতে চান। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি ঘরের অধিকাংশ সদস্য। এমনকী সোনামণিও এভাবে পাওয়া ক্যাপ্টেন্সি নিতে রাজি হননি। তিনি নিরঞ্জনকে আবার খেলায় ফেরানোর আবেদন জানান। শেষ পর্যন্ত দুর্নিবার শর্ত দেন, নিরঞ্জন ক্ষমা চাইলে তবেই খেলা শুরু হতে পারে। নিরঞ্জনও পরিস্থিতি সামাল দিতে ক্ষমা চান এবং ফের প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। তারপর সোনামণির সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে শেষ পর্যন্ত ক্যাপ্টেন্সি জিতে নেন তিনি। তবে জয় পাওয়ার পরেও নিরঞ্জনের মন ভালো ছিল না। দুর্নিবারের আচরণে অপমানিত বোধ করে তাঁকে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়।
আরও পড়ুনঃ “এবার দেখুন, একজন নারীর কেমন লাগে?” দৃশ্যধারণ শেষ হতেই ‘রনংদেহী’ মিঠু মুখোপাধ্যায়, পর্দার ‘স্বয়ংসিদ্ধা’ বাস্তবেও ছিলেন আপসহীন! সেটে প্রযোজকের দ্বারা অপমানিত হয়ে এমন কী করেছিলেন প্রয়াত অভিনেত্রী, যা নারীর আত্মসম্মানের সংজ্ঞাই বদলে দিয়েছিল? বাংলা সিনেমার ইতিহাসে আজও আলোচিত সেই সাহসী প্রতিবাদ!
এই ঘটনাতেই দুর্নিবারকে নিয়ে দর্শকদের সমালোচনা আরও বেড়েছে। তাঁদের একাংশের মতে, দীপেন্দু চলে যাওয়ার পর থেকেই দুর্নিবারের সময়টা ভালো যাচ্ছে না। ঝিলামের সঙ্গে মনোমালিন্য, তার পর ক্যাপ্টেন্সি টাস্কে সঞ্চালক হয়ে যাওয়ায় নিজের পছন্দের প্রতিযোগীর হয়ে সরাসরি খেলার সুযোগ না পাওয়া, সব মিলিয়ে যেন তাঁর রাগ আরও বেড়েছে। দর্শকদের বক্তব্য, নিরঞ্জনের উপর সেই ক্ষোভ উগরে দেওয়ার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত সফল হননি দুর্নিবার। কারণ, তাঁর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পুরো বাড়ি সরব হওয়ায় নিরঞ্জন আবার খেলার সুযোগ পান এবং শেষ পর্যন্ত জয়ী হন। তবে এই বিতর্কের মধ্যেও নিরঞ্জনের খেলার প্রশংসা করেছেন দর্শকদের একাংশ। তাঁদের মতে, রাজবীর হয়তো নিজের সেরাটা দিতে পারেননি, কিংবা নিরঞ্জনের পক্ষে খেলেছেন বলে মনে হয়েছে, কিন্তু নিরঞ্জন নিজেও দুর্দান্ত লড়াই করেছেন। তাই দুর্নিবারকে ঘিরে বিতর্ক যতই থাকুক, ক্যাপ্টেন্সি টাস্কে নিরঞ্জনের লড়াই এবং জয়ই এখন দর্শকদের আলোচনার অন্যতম বিষয়।






“বাঙালি মায়েরা মুস*লিম মায়ের মতো বিরিয়ানি বানাতেই পারে না…ঈদে ওদের সঙ্গে বসে একই থালায় খাই”, “শুভেন্দু অধিকারী কে? এখনও বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যই আমাদের মুখ্যমন্ত্রী!” দুর্গাপুজোর আবহে একের পর এক বড় মন্তব্য মৌসুমী ভট্টাচার্যের! ‘ওদের হাতের বিরিয়ানি তো স্বাদ হবেই থু*তু ছিটিয়ে রান্না করে’, ‘আসল কথা বলুন বি*ফ ভালো রান্না করে, ওটাই খেতে যান’ নেটপাড়ায় কটাক্ষবিদ্ধ অভিনেত্রী!