হাসি-গানে জমজমাট ছিল বিগ বসের ঘর, হঠাৎই নেমে এল বিষাদের ছায়া! শারীরিক অসু স্থতার কারণে মাঝপথেই বিগ বস বাংলা ছাড়তে বাধ্য হলেন ঝিলম গুপ্ত! মেডিক্যাল রিপোর্টে কী এমন এল যে তড়িঘড়ি নিতে হল এই বড় সিদ্ধান্ত? জানেন, কী হয়েছে ডিজে মাউসের?

‘বিগ বস বাংলা’র ঘরে চলছিল জমজমাট খেলা, তার মধ্যেই আচমকা এল ঝিলম গুপ্তকে ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ। কোনও নমিনেশন বা ভোটের কারণে নয়, শারীরিক অসুস্থতার জন্যই মাঝপথে শো ছাড়তে হল জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে। সপ্তাহের শুরুতেই ‘আদর বাড়ি’ থেকে ঝিলমের বিদায় ঘিরে মন খারাপ হয়ে যায় সহ-প্রতিযোগীদের। একইসঙ্গে প্রিয় প্রতিযোগীর শরীরের কী হয়েছে, তা নিয়ে উদ্বেগ ছড়ায় দর্শকদের মধ্যেও। মেডিক্যাল রিপোর্ট হাতে আসার পরই বিগ বস কর্তৃপক্ষ ঝিলমকে আর শোতে রাখা সম্ভব নয় বলে সিদ্ধান্ত নেয়। চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনেই তাঁকে দ্রুত বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। ফলে ভোটিং বা এলিমিনেশনের হিসাব ছাড়াই আচমকা থেমে গেল ঝিলমের বিগ বস সফর।

ঝিলমের শারীরিক সমস্যার বিষয়ে এবার মুখ খুলেছেন তাঁর বাবা। মেয়ের বিগ বস ছাড়ার খবর নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তিনি জানান, ঝিলমের পিত্তথলিতে অর্থাৎ গলব্লাডারে পাথর হয়েছে। সেই পাথর আকারে অনেকটাই বড় হয়ে গিয়েছে এবং তার জেরে ঝিলমকে প্রচণ্ড যন্ত্রণা সহ্য করতে হচ্ছে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে আর দেরি না করে অস্ত্রোপচার করানো প্রয়োজন। এক চিকিৎসক বিষয়টি জানতে চাওয়ায় ঝিলমের বাবা স্পষ্ট করে লেখেন, ‘Gallbladder stone (পিত্তথলিতে পাথর) বড় হয়ে গেছে, প্রচণ্ড যন্ত্রণা হচ্ছে, অপারেশন করতে হবে। আপনি ডাক্তার হয়ে জানতে চাইলেন বলে জানালাম, আমি ওর বাবা।’ অর্থাৎ ঝিলমের শারীরিক অবস্থার বিষয়টি নিছক অসুস্থতা নয়, দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে বলেই পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে।

মেয়ের বিগ বস থেকে বাদ পড়া নিয়েও সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা ধরনের মন্তব্য দেখা যায়। এমন পরিস্থিতিতে ঝিলমের বাবাকে একাংশের ট্রোল এবং কটাক্ষের মুখেও পড়তে হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে তিনি পালটা কোনও আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার না করে নিজের মতো করে জবাব দিয়েছেন। তাঁর কথায়, মেয়ের অসুস্থতার খবরে কেউ কেউ উদ্বিগ্ন হলেও অনেকে আবার ঝিলমের শো ছাড়ার ঘটনায় আনন্দ প্রকাশ করছেন। সেই প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন, ‘আপনি দুঃখ পেয়েছেন দেখে ভালো লাগল, অনেকে আনন্দ করছে। তাদের শুভেচ্ছা জানাই।’ মেয়ের শারীরিক সমস্যা এবং চিকিৎসার প্রয়োজনের কথা জানাতেই তাঁর এই মন্তব্য সামনে আসে। ফলে ঝিলমের বিদায় ঘিরে একদিকে যেমন ভক্তদের মন খারাপ, তেমনই সোশ্যাল মিডিয়ায় তৈরি হয়েছে নানা প্রতিক্রিয়া।

ঝিলমকে বিদায় দেওয়ার মুহূর্তটিও ছিল যথেষ্ট আবেগঘন। হঠাৎ বিগ বসের নির্দেশ আসতেই পুরো ঘরের পরিবেশ বদলে যায়। নিজের প্রিয় সহ-প্রতিযোগীদের কাছ থেকে শেষবারের মতো একটু সময় চেয়ে নেন ঝিলম। এরপর একে একে সকলকে জড়িয়ে ধরেন তিনি। জীতু কমল, নিরঞ্জন, মনামী, ভরত কল থেকে শুরু করে বাকি প্রতিযোগীদের অনেকের চোখেই তখন জল। কেউ কেউ ফুঁপিয়ে কেঁদেও ফেলেন। দীর্ঘদিন একসঙ্গে থাকার পর এভাবে আচমকা একজন প্রতিযোগীকে বিদায় জানাতে হবে, তা যেন কেউই মেনে নিতে পারছিলেন না। অন্যদিকে বিগ বসও ঝিলমকে উদ্দেশ্য করে আবেগঘন বিদায়বার্তা দেন। তাঁকে নিজের প্রতি নতুন বিশ্বাস এবং অসংখ্য মানুষের ভালবাসা সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়।

বিদায়ের সেই বিষণ্ণ পরিবেশেও ঝিলম নিজের স্বভাবসিদ্ধভাবে একটি বিশেষ মুহূর্ত তৈরি করেন। সহ-প্রতিযোগীদের সঙ্গে মেঝেতে বসে চোখের জল সামলে তিনি গেয়ে ওঠেন মা দুর্গার আগমনী গান। ঝিলমের গলায় গান শুনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অন্য প্রতিযোগীরাও। পরে তাঁর সঙ্গে গলা মেলান তাঁরা। এভাবেই কান্না আর গানের আবহে শেষ হয় বিগ বসের ঘরে ঝিলমের শেষ মুহূর্ত। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাঁর এই আকস্মিক বিদায় যে শুধু ঘরের খেলার সমীকরণ বদলে দিয়েছে, তা নয়, তাঁর অনুরাগীদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে গভীর মন খারাপ। বিগ বসের ঘরে ঝিলমকে তাঁর গান, মজার কাণ্ড এবং স্বতঃস্ফূর্ত আচরণের জন্যও বারবার আলোচনায় আসতে দেখা গিয়েছে। এর আগে তাঁর গান নিয়েও নেটদুনিয়ায় প্রশংসা হয়েছিল।

আরও পড়ুনঃ “তুই শিল্পী হতে এসে শিল্পী হোস, আমার মতো শিক্ষক হয়ে যাস না, আমি সব সময় পাশে আছি” শাশুড়িকে নিয়ে মুখ খুললেন স্বাগতা মুখার্জি! বিয়ের মাত্র দু’মাসের মধ্যেই নতুন জীবন শুরু, তারপরেও অভিনয়ের স্বপ্নপূরণে কীভাবে পুত্রবধূর পাশে দাঁড়িয়েছিল গোটা শ্বশুরবাড়ি?

এখন ঝিলমের সামনে মূল লক্ষ্য দ্রুত চিকিৎসা এবং সুস্থ হয়ে ওঠা। পিত্তথলিতে পাথর থাকলেই প্রত্যেকের ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার দরকার হয় না, তবে উপসর্গ এবং পরিস্থিতির উপর চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নির্ভর করে। ঝিলমের ক্ষেত্রে তাঁর বাবার বক্তব্য অনুযায়ী পাথর বড় হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি তীব্র যন্ত্রণা হচ্ছে এবং চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়েছেন। তাই তাঁর বিগ বস সফর আপাতত সেখানেই থেমে গেল। দর্শকদের একাংশও তাঁর দ্রুত সুস্থতার জন্য শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। বিগ বসের ঘর থেকে বিদায়ের সময় যে ভালবাসা ও আবেগ তিনি পেয়েছেন, সেটিই এখন তাঁর অনুরাগীদের কাছে বড় স্মৃতি হয়ে থাকছে। শারীরিক সমস্যা কাটিয়ে কবে তিনি আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন, সেদিকেই নজর থাকবে তাঁর ভক্তদের।

You cannot copy content of this page