সোশ্যাল মিডিয়ার পরিচিত মুখ শমীক অধিকারীকে যৌন হেনস্থার অভিযোগে গ্রেপ্তার করায় নেটপাড়া ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। শুক্রবার অলিপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক অভিযুক্তকে দশ দিনের পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। আদালত সূত্রে জানা যাচ্ছে, মামলার গুরুত্ব বিচার করেই তদন্তের স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অভিযোগের পর থেকে ঘটনাটি শুধু সোশ্যাল মিডিয়ায় নয়, রাজ্য রাজনীতির অন্দরেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
পুলিশ জানায়, অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর শমীক আচমকাই নিখোঁজ হয়ে যান। সেই সময় তাঁর সঙ্গে মা বাবা ছিলেন বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। কয়েক দিন তাঁদের কোনও খোঁজ না পাওয়ায় পুলিশি তৎপরতা আরও বাড়ে। শেষ প
র্যন্ত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দমদম এলাকা থেকে শমীককে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার সকালে তাঁকে বেহালা থানা থেকে অলিপুর আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের সামনে শমীক দাবি করেন, তাঁকে পরিকল্পিত ভাবে ফাঁসানো হয়েছে।
এই মামলার সূত্রপাত বাইশ বছর বয়সি এক তরুণীর লিখিত অভিযোগ থেকে। অভিযোগ অনুযায়ী, বেহালার একটি ফ্ল্যাটে তাঁকে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। দ্বিতীয় ফেব্রুয়ারি রাত থেকে তৃতীয় ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁকে সেখানে বন্দি করে রাখা হয়েছিল বলে দাবি। অভিযোগকারিণীর আইনজীবী জানান, বাড়ি বদলের সময় সাহায্যের কথা বলে শমীক তাঁকে ফ্ল্যাটে ডাকেন। এরপরই মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে নির্যাতন চলে।
অভিযোগ দায়েরের পর শমীক ফ্ল্যাট ছেড়ে পালিয়ে যান বলে পুলিশের দাবি। সেই সময় থেকেই তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। গ্রেপ্তারের সময় তাঁকে চাদর দিয়ে মুখ ঢেকে পুলিশের গাড়িতে তুলতে দেখা যায়। সম্প্রতি বাটন নামে একটি ভিডিও প্রকাশ করে শমীক প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। সেই আবহেই এই গ্রেপ্তার নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে তাঁর সাম্প্রতিক কার্যকলাপ ঘিরে।
আরও পড়ুনঃ “বাঙালি মানেই ‘কামচোর’, শুধু ‘খাবো-দাবো মরে যাব’ চিন্তা!” “মানুষের সঙ্গে কু’কুরের তফাৎ শুধুমাত্র মগজের…” বাঙালির জীবনদর্শন নিয়ে এক ব্যক্তির কটাক্ষে, পাল্টা বি’স্ফোরক চন্দন সেন! অপমানজনক মন্তব্যে নীরবতা ভেঙে যোগ্য জবাব অভিনেতার!
মামলাটি ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও শুরু হয়েছে। একাংশের দাবি, ওই ভিডিওটি তৃণমূল কংগ্রেসকে লক্ষ্য করেই তৈরি হয়েছিল। গ্রেপ্তারের পর তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। আদালতে শুনানির সময় দুই পক্ষের আইনজীবীর বক্তব্যেই অভিযোগের গুরুত্বের কথা উঠে আসে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগকারিণীর গোপন জবানবন্দি গ্রহণ করা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষ হলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ করা হবে।






