“বদলা নয়, বদল চেয়েছিল মানুষ” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে খোলা চিঠিতে বি’স্ফোরক মৈত্রেয়ী মিত্র! ‘জুজু তত্ত্ব’ থেকে একাধিক ইস্যুতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে তুলোধোনা করে কী বললেন অভিনেত্রী?

টলিউড ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী মৈত্রেয়ী মিত্র (Maitreyee Mitra) দীর্ঘদিন ধরেই বাংলা টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে অভিনয়ের ছাপ রেখে চলেছেন। প্রায় দুই দশকের বেশি সময় ধরে নিজের অভিনয় দক্ষতায় দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি বর্তমানে সমাজ মাধ্যমেও তিনি যথেষ্ট সক্রিয়। ব্যক্তিগত ভাবনা থেকে শুরু করে সমাজ, সংস্কৃতি ও রাজনীতি নিয়ে নিয়মিত মত প্রকাশ করেন তিনি। এবার বাংলার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ফলাফলের পর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি লিখে নতুন করে আলোচনায় এলেন অভিনেত্রী। সেই চিঠিতে তিনি ভোটের আগে প্রচার হওয়া নানা বিষয়, মানুষের ক্ষোভ, প্রত্যাশা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন।

তাঁর এই পোস্ট ঘিরে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে নেটমাধ্যমে। চিঠির শুরুতেই মৈত্রেয়ী লেখেন, “মাননীয়া, নির্বাচনের আগে বহুবার বিভিন্ন মঞ্চে শুনেছি সরকার বদল হলে বাঙালিদের মাছ খাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে।” এরপর তিনি বলেন, শুধু বাংলার মানুষই মাছ খান এমন নয়, দেশের অন্য রাজ্যেও মানুষ মাছ খান এবং কোথাও এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তাঁর দাবি, এই প্রচার আসলে ভোটের কৌশল ছিল। অভিনেত্রীর ভাষায়, “এটা আপনার নির্বাচনের একটা কৌশল ছিল, যা অনেকটা বাচ্চাদের মা যেমন ভয় দেখায় খেয়ে নাও নইলে জুজু আসবে, অনেকটা তেমন, আমায় ভোট দাও নইলে জুজু আসবে।” তিনি আরও লেখেন, “আপনার এই কৌশল ব্যর্থ হয়েছে। আমরা জুজু দেখতে দেখতে ক্লান্ত সেটা কি আপনি বুঝতে পারেন?”

একই সঙ্গে তিনি জানান, সাধারণ মানুষ এখন শান্তিপূর্ণ ও সুস্থ পরিবেশে বাঁচতে চান। এরপর ২০১১ সালের স্মৃতি তুলে ধরে মৈত্রেয়ী জানান, সে সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শপথ গ্রহণের মুহূর্ত মানুষকে ভীষণ আশাবাদী করেছিল। তিনি লেখেন, “আজও মনে আছে ২০১১ সালে আপনার শপথ গ্রহণের সময় সে কি রোমাঞ্চ, কি উত্তেজনা।” তাঁর মতে, সেই জয় শুধু কোনও এক ব্যক্তির জয় ছিল না, তা ছিল গোটা পশ্চিমবঙ্গবাসীর আশা ও আবেগের প্রতীক। কিন্তু সেই ভালোবাসা আজ কোথায় হারিয়ে গেল, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। অভিনেত্রীর বক্তব্য, “আপনি আপনার রাজ্যের মানুষকে ভালোবাসা দিয়ে জিততে পারতেন।

কিন্তু আপনি আমাদের দমিয়ে রাখলেন, কিনে নিতে চাইলেন, বাক্ স্বাধীনতা কেড়ে নিলেন, ভয় দেখিয়ে রাখলেন।” যদিও তিনি এটাও বলেন, যদি ব্যক্তিগতভাবে না-ও করে থাকেন, তবে দলের লোকেরা করেছে এবং সেই দায় নেতৃত্বকেই নিতে হয়। মৈত্রেয়ী আরও জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে আজও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শ্রদ্ধা করেন। তাঁর কথায়, “আপনাকে আমি খুব পছন্দ করতুম, আজও ব্যক্তি মানুষটিকে শ্রদ্ধা করি।” এমনকি একবার সামনে থেকে দেখার জন্যও ছুটে গিয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে রাজ্যের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্বের জায়গা থেকে সমালোচনা করতেই হয়েছে বলে জানান অভিনেত্রী।

তিনি লেখেন, “আপনার কাছে আমরা ‘বদলা’ শুনতে চাইনি, ‘বদল’ আমাদের অনুপ্রাণিত করেছিল।” সেই পুরনো ভাবমূর্তিতে ফিরে আসার আবেদনও জানান তিনি। পাশাপাশি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গবাসীর হৃদয়ে থাকার চেষ্টা করুন মাননীয়া, তারা আপনাকে মাথায় করে রাখবে, কিন্তু আপনি তাদের মাথায় উঠতে চাইলে ফল কি হতে পারে সেটা তো দেখলেন।” চিঠির শেষাংশে মৈত্রেয়ী বলেন, মানুষের মনে দীর্ঘদিনের অভিযোগ ও অভিমান জমে আছে, আর তা দূর করতে প্রয়োজন ভালোবাসা ও সহানুভূতি। তাঁর বক্তব্য, “হিংসা দিয়ে নয়, রেষারেষি করে নয়, ভালবাসা আর সহানুভূতি দিয়ে সেই ক্ষতে প্রলেপ দিন মাননীয়া।”

আরও পড়ুনঃ দুর্ঘ’টনায় গুরুতর জখ’ম অভিনেতা অর্কপ্রভ রায়! হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে ‘কম্পাস’-এর বিহান, সাফল্যের মাঝেই বড় ধাক্কা! অ’স্ত্রোপচারের পর ছবি সামনে আসতেই চিন্তায় অনুরাগীরা! কীভাবে এমন হলো? এখন কেমন আছেন তিনি?

তিনি আরও লেখেন, “আজ আপনার পরাজয় হয়েছে ঠিকই, কিন্তু শুধু আপনি নন, যে এই করবেন, তাকেই সরতে হবে। ইতিহাস সাক্ষী, জনতা ‘জনার্দন’, এটা কারোর ভোলা উচিৎ নয়।” একই সঙ্গে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, মানুষ একসময় ভরসা ও ভালোবাসা দিয়েছিল, কিন্তু প্রত্যাশিত ফল পায়নি। শেষে অভিনেত্রী আশাবাদী সুরে লেখেন, “ভুল জীবনের অঙ্গ, সকলের হয়, আপনারও হয়েছে। আবার সব ভুলে সেই আগের মানুষটি হয়ে একদিন নিশ্চই ফিরে আসবেন।” শেষে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুস্থতা কামনা করে প্রণাম জানিয়েছেন।

You cannot copy content of this page