পশ্চিমবঙ্গে সরকারের পালাবদলের পর থেকেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে একের পর এক সমস্যা ও বিতর্ক সামনে আসছে । কখনও প্রতিষ্ঠান চত্বরের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন, কখনও বহিরাগতদের উপস্থিতি ঘিরে বিতর্ক, আবার কখনও ছাত্রদের সঙ্গে সংঘাত বিভিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরব হচ্ছেন সমাজের একাধিক মানুষ। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট বা SRFTI-কে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানালেন অরিত্র দত্ত বণিক। অভিনয়ের পাশাপাশি বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ অরিত্র দত্ত বণিক সমাজের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও নিয়মিত নিজের মতামত প্রকাশ করেন।
কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা পক্ষের হয়ে কথা না বলে বিভিন্ন সামাজিক ও প্রশাসনিক ইস্যুতে নিজের বক্তব্য তুলে ধরতেই তাঁকে দেখা যায়। এবার SRFTI-তে অনুষ্ঠান চলাকালীন একজনের সঙ্গে অন্যজনের সংঘাত এবং সেখানে প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন তিনি। একই সঙ্গে অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমোদন নিয়েও জবাবদিহির দাবি তুলেছেন অরিত্র। অরিত্র দত্ত বণিকের বক্তব্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠান চলাকালীন এক ব্যক্তির আচরণ নিয়েই প্রথমে প্রশ্ন উঠেছে। আয়োজকদের উদ্দেশে তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলে বলেন, “অনুষ্ঠান আয়োজক অখিল ভারত গ্রাহক পঞ্চায়েত এই জবাব দিক যে এই অনুষ্ঠান চলাকালীন এই অসভ্য লোকটা অন্যজনকে হঠাৎ গিয়ে লাথি মারলো কেন?
ওনার কি কৃমির সমস্যা?” এরপর স্বামী বিবেকানন্দের পোস্টার ব্যবহারের প্রসঙ্গ টেনে তাঁর আরও মন্তব্য, “স্বামী বিবেকানন্দের পোস্টার ব্যবহার করে বাঁদরামি আবার গেরুয়া গু*ন্ডামি বললে গাত্রদাহ? কৃমির ওষুধ খেয়ে আসবেন পরের দিন।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেও সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এরপর সরাসরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অরিত্র। তাঁর অভিযোগ, ছাত্রদের সঙ্গে বহিরাগতদের সংঘাতের মতো পরিস্থিতি তৈরি হলেও প্রশাসনের তরফে যথাযথ পদক্ষেপ দেখা যায়নি। তিনি বলেন, “প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনে এমন কিছু মানুষকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যারা নিজের কাজ বাদ দিয়ে বাকি সব পারেন।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পর আজ SRFTI, বহিরাগত কিছু অসভ্যদের সাথে ছাত্রদের সংঘাতে চুপ করে ঘাপটি মেরে বসে আছে ইন্সটিটিউট এডমিন।” একইসঙ্গে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে আরও প্রশ্ন তোলেন এবং বলেন, “প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়ে এর আগেও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এডমিন শয়তানি করেছে আজ ফিল্ম ইন্সটিটিউটেও এক চিত্র। লজ্জাজনক, এদের চাকরি ছেড়ে দেওয়া উচিৎ। কে আজকের অনুষ্ঠানের অনুমোদন দিয়েছিল সেটাকে আগে টাইট দেওয়া দরকার।” অর্থাৎ, তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল অনুষ্ঠানটির অনুমোদন, প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা এবং সংঘাতের পরিস্থিতিতে প্রশাসনের ভূমিকা।
আরও পড়ুনঃ ‘আমি খুব জেদি, যেটা পাব না সেটা আমাকে পেতেই হবে…’, ‘সাইডলাইন করার মতো কী এমন করেছি?’ ৮০ হাজারের কাজ করিয়ে টাকা দেননি উল্টে করেছেন মা’রধর, সবটাই নাকি মিথ্যে? দাবি সোহম চক্রবর্তীর! রাজনীতি থেকে দূরত্ব, শুধুই অভিনয় করতে চেয়েও কেন তৃণমূল সরকারের পতনের পর টলিউডে কোণঠাসা হচ্ছেন ‘হরলিক্স বয়’? একাধিক অভিযোগ নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেতা!
Disclaimer: এই প্রতিবেদনে ব্যবহৃত কোনও উক্তি আমাদের নিজস্ব নয়। সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নেটিজেনদের মন্তব্য ও প্রকাশিত সংবাদসূত্রের ভিত্তিতে এই বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে, কাউকে আঘাত বা ছোট করাও আমাদের উদ্দেশ্য নয়। উল্লেখিত ব্যক্তিত্বদের নামে উত্থাপিত অভিযোগ বা বক্তব্যগুলির স্বাধীনভাবে প্রমাণিত নয়।






