প্রায় দু’মাসের যাত্রা শেষ। লক্ষ্মীপুজোর দিনই বিগ বস বাংলার বাড়ি থেকে বিদায় নিতে হল অভিনেতা ভরত কলকে। তাঁর চলে যাওয়ায় কার্যত অভিভাবকহীন হয়ে পড়ল বিগ বসের বাড়ি। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিযোগীদের সঙ্গে এক ছাদের নীচে কাটানোর পর অবশেষে পরিবারের কাছে ফিরলেন অভিনেতা। বাড়ি থেকে বেরিয়ে আনন্দবাজার অনলাইনের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নেন তিনি। ভরতের কথায়, বিদায়ের সময় বাড়ির অন্য প্রতিযোগীরা কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। তাঁর চলে যাওয়ায় যে বাকিরা এতটা কষ্ট পাবেন, তা ভেবেই ভালো লাগছে অভিনেতার। তিনি জানিয়েছেন, নিজেও সকলের সঙ্গে একটা গভীর বন্ধনে জড়িয়ে পড়েছিলেন। তবে এই যাত্রা শেষ হওয়া নিয়ে তাঁর কোনও আক্ষেপ নেই। এই সুযোগ দেওয়ার জন্য প্রযোজক থেকে শুরু করে অনুষ্ঠানের সঞ্চালক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি।
প্রায় দু’মাস বাড়ি থেকে দূরে ছিলেন ভরত। এই সময়ের মধ্যে দুর্গাপুজো পেরিয়ে লক্ষ্মীপুজোও চলে এল। অভিনেতার স্ত্রী জয়শ্রী মুখোপাধ্যায় আগে থেকেই বুঝতে পেরেছিলেন যে তাঁর স্বামী বিপদের মুখে পড়তে পারেন। তাই সমাজমাধ্যমে দর্শকদের কাছে ভোট দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দর্শকের সিদ্ধান্তেই বিগ বসের বাড়ি ছাড়তে হল ভরতকে। বাড়ি ফিরে অভিনেতা আরও একটি বিষয় স্পষ্ট করে দিয়েছেন। অনেকেই মনে করেন, এই ধরনের রিয়্যালিটি শোয়ের ফলাফল আগে থেকেই ঠিক করা থাকে। তবে সেই ধারণার সঙ্গে একেবারেই একমত নন তিনি। ভরতের কথায়, “অনেকেই বলেন, এই শো নাকি আগে থেকে ঠিক করা। তাঁদেরকে বলছি, ভুল। একেবারে ভুল। কী যে কখন হবে কেউ বুঝতে পারবে না।” অর্থাৎ, তাঁর মতে, প্রতিযোগীদের ভাগ্যে কখন কী ঘটবে, তা আগে থেকে অনুমান করা সম্ভব নয়।
বিগ বসের বাড়িতে থাকার অভিজ্ঞতা যে তাঁর শরীরের উপরেও প্রভাব ফেলেছে, সে কথাও জানিয়েছেন ভরত। অভিনেতার দাবি, মাত্র দু’মাসের মধ্যেই তাঁর প্রায় সাত কেজি ওজন কমে গিয়েছে। তবে এত কিছুর পরেও বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসা নিয়ে কোনও খারাপ লাগা নেই তাঁর। বরং এই অভিজ্ঞতাকে জীবনের একটি বিশেষ অধ্যায় হিসাবেই দেখছেন তিনি। প্রায় দু’মাস ধরে পরিবারের সদস্যদের থেকে দূরে থাকার পর অবশেষে উৎসবের মরসুমে বাড়ি ফিরেছেন অভিনেতা। এত দিন যাঁদের সঙ্গে প্রতিদিন দেখা হত, তাঁদের ছেড়ে আসতে হলেও বিগ বসের বাড়িতে কাটানো সময় নিয়ে কোনও অনুশোচনা নেই তাঁর। অন্য দিকে, বাড়িতে ফিরে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগও পেয়েছেন তিনি। আপাতত কিছু দিন বিশ্রাম নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে অভিনেতার। দীর্ঘদিনের ব্যস্ততার পর পরিবারের সঙ্গে উৎসবের সময় কাটানোই এখন তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
বিগ বসের বাড়িতে থাকাকালীন নানা প্রতিযোগীর সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন ভরত। তাঁদের মধ্যে কে শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হতে পারেন, সেই প্রশ্নও করা হয়েছিল তাঁকে। তবে এই বিষয়ে কোনও নির্দিষ্ট নাম বলতে চাননি অভিনেতা। তাঁর কথায়, “এ ভাবে বলা মুশকিল। মনামী, রাজবীর, সোনামণী, জিতু সবাই ভাল খেলছে।” অর্থাৎ, মনামী, রাজবীর, সোনামণী এবং জিতুর খেলা তাঁর ভালো লেগেছে। তবে তাঁদের মধ্যে কাউকে এগিয়ে রাখতে চাননি তিনি। প্রতিযোগিতার শেষ পর্যায়ে কে সেরার শিরোপা পাবেন, তা নিয়ে কোনও আগাম মন্তব্য করতে রাজি নন ভরত। আপাতত বিগ বসের বাড়ির অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া স্মৃতি নিয়েই বাড়ি ফিরেছেন তিনি। প্রতিযোগীদের সঙ্গে কাটানো সময় এবং তাঁদের সঙ্গে তৈরি হওয়া সম্পর্ক তাঁর কাছে বিশেষ হয়ে থাকবে। দীর্ঘদিনের এই অভিজ্ঞতা শেষ হলেও বাড়ির অন্য সদস্যদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলি যে তাঁর মনে থাকবে, তা স্পষ্ট অভিনেতার কথায়।
আরও পড়ুনঃ “খেলার নিয়মে চলে আসতে হল, কিন্তু আমাদের মনের মধ্যে আপনিই বিজয়ী! অসুস্থ শরীরেও কি অদ্ভুত প্রাণশক্তি! ৫৭ দিনে নতুন ভরত কলকে চিনেছি, ভালোবেসেছি” শিখিয়েছেন জীবনের মূল্যবোধ, ভরতের বিদায়ে আবেগঘন বার্তা অভিনেত্রী মৈত্রী মিত্রের! খেতাব জিততে না পারলেও বিগ বস বাংলার দর্শকদের মনে করে নিলেন বিশেষ স্থান!
বিগ বসের বাড়িতে ভরতের যাত্রা শেষ হলেও তাঁর এই অভিজ্ঞতা নিয়ে কৌতূহল থাকছে দর্শকের মধ্যে। বিশেষ করে, এত অল্প সময়ে তাঁর সাত কেজি ওজন কমে যাওয়ার বিষয়টি নজর কেড়েছে। অন্য দিকে, বিদায়ের সময় প্রতিযোগীদের আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ার ঘটনাও তাঁর মনে দাগ কেটেছে। অভিনেতা জানিয়েছেন, তাঁর চলে যাওয়ায় বাকিরা যে এতটা কষ্ট পাবেন, তা তাঁর কাছে অনেক বড় প্রাপ্তি। এই অভিজ্ঞতার জন্য তিনি অনুষ্ঠানের নির্মাতা এবং সঞ্চালক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছে কৃতজ্ঞ। বিগ বসের বাড়িতে থাকার সময় নানা পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হলেও কোনও আক্ষেপ নিয়ে ফিরছেন না তিনি। বরং এই যাত্রায় যাঁদের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে, তাঁদের সঙ্গে তৈরি হওয়া সম্পর্ককেই গুরুত্ব দিচ্ছেন। আপাতত বিশ্রাম নিয়ে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে চান ভরত। উৎসবের মরসুমে দীর্ঘদিন পর তাঁকে কাছে পেয়ে খুশি তাঁর পরিবারের সদস্যরাও।






