স্যোশাল মিডিয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটর তথা জনপ্রিয় নৃত্যশিল্পী চাঁদনী গঙ্গোপাধ্যায়ের (Chandni Ganguly) বরাবরই নিজের জীবনের নানা অভিজ্ঞতা খোলামেলাভাবে ভাগ করে নেন অনুরাগীদের সঙ্গে। তবে মাকে হারানোর পর তাঁর জীবনে নেমে আসা শূন্যতা যে কতটা গভীর, তা তাঁর সাম্প্রতিক কথাতেই স্পষ্ট। মায়ের মৃত্যুর পর সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগঘন বার্তা দিয়েছিলেন চাঁদনী। এবার এক ভিডিওতে মাকে ঘিরে একের পর এক স্মৃতি ভাগ করে নিতে গিয়ে উঠে এল তাঁর জীবনের কঠিন সময়, মায়ের দেওয়া সাহস এবং মৃত্যুর শেষ মুহূর্তের সেই হৃদয়স্পর্শী স্মৃতি। চাঁদনীর কথায়, প্রত্যেক মানুষের জীবনেই ওঠাপড়া থাকে, থাকে আলাদা আলাদা যন্ত্রণা।
সেই যন্ত্রণা নিয়েই এগিয়ে চলার নামই জীবন। আর তাঁর জীবনেও এমন একটা সময় এসেছিল, যখন তিনি প্রায় হার মানতে বসেছিলেন। সেই কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তাঁর মা। চাঁদনী জানান, মা তাঁকে শিখিয়েছিলেন খারাপ সময় এলে নিজেকে ভালোবাসতে, নিজের জন্যও বাঁচতে। মায়ের সেই কথাগুলোই পরবর্তীতে তাঁকে জীবনের কঠিন পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করার সাহস জুগিয়েছে বলে জানান তিনি। মায়ের সঙ্গে রান্না ও খাবার ঘিরেও রয়েছে চাঁদনীর অসংখ্য স্মৃতি। তিনি জানান, তাঁর মা বাঙাল ছিলেন এবং তেল-মশলা দিয়ে রান্না করা খাবার খেতে ভালোবাসতেন।
কিন্তু অসুস্থতার কারণে মৃত্যুর আগে কয়েকদিন চাঁদনী মায়ের জন্য রান্নায় তেল-মশলা অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছিলেন। মৃত্যুর আগের দিনই নাকি মা তাঁকে বলেছিলেন, পরদিন আর হালকা খাবার নয়, ভালো করে তেল-মশলা দিয়ে রান্না করতে। চাঁদনীও জানতেন না, সেই কথাটিই এত তাড়াতাড়ি তাঁর কাছে শেষ ইচ্ছের মতো হয়ে থাকবে। পরদিন দুপুরে মায়ের জন্য চাঁদনী সত্যিই তেল-মশলা দিয়ে রান্না করেছিলেন। তাঁর কথায়, মা সেদিন দু’পিস মাছ নিয়েছিলেন এবং নিজের হাতেই ভাত নিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, খেতে খেতে মায়ের মুখে এসেছিল প্রশংসাও সেদিনের রান্না সত্যিই খুব ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন তিনি।
পেট ভরে খেয়ে নেওয়ার সেই দুপুরের স্মৃতিই এখন চাঁদনীর কাছে আরও বেশি মূল্যবান। কারণ তিনি তখনও জানতেন না, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর জীবনের সবচেয়ে প্রিয় মানুষটির সঙ্গে শেষবারের মতো সেই স্বাভাবিক মুহূর্তটি কাটিয়ে ফেলছেন। চাঁদনী জানান, সেদিন রাত সাড়ে আটটা নাগাদ আচমকাই মায়ের শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। এরপর মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে যায়। মায়ের শেষ মুহূর্তে তাঁর হাতেই ছিল মায়ের হাত। চাঁদনীর কথায়, প্রায় পাঁচ মিনিটের মধ্যেই মায়ের মৃত্যুযন্ত্রণা শেষ হয় এবং তাঁর হাতের উপরেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মা।
আরও পড়ুনঃ “আমার কামব্যাক হবে একেবারে অন্যরকম…” সৃজলার চর্চিত প্রেমিক শন কবে ঢুকছেন বিগ বস বাংলায় ঘরে? ওয়াইল্ড কার্ড এন্ট্রির জল্পনার মাঝেই মুখ খুললেন অভিনেতা, দিলেন বড় ইঙ্গিত!
মাকে সামনে থেকে এভাবে চলে যেতে দেখেই চাঁদনীর মনে হয়েছে, মৃত্যুও কখনও কখনও শান্ত হতে পারে। মায়ের শেষ মুহূর্তের সেই স্মৃতি আজও তাঁর কাছে যেমন কষ্টের, তেমনই এক গভীর ভালোবাসা ও তৃপ্তির স্মৃতি মায়ের শেষ দুপুরটা অন্তত তাঁর পছন্দের খাবার খেয়েই কেটেছিল। জন্ম যখন হয়েছে তখন মৃত্যুও আবশ্যিক, তবে কিছু কিছু মৃত্যু আমাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাটা দিয়ে যায়। হয়তো চাঁদনীকেও তাঁর মা চলে গিয়ে শিখিয়ে গেলেন যে মনের জোর আর শিরদাঁড়া সোজা থাকলে হাজার কষ্টেও সুখ খুঁজে নেওয়া যায়!






