“দিলীপ কুমারের যেমন ছিলেন সায়রা বানু, আমিও দীপঙ্করের জীবনে তেমনই হয়ে থাকতে চাই” মনের কথা খুলে বললেন দোলন রায়! অভিনেতার বড় মেয়ের থেকেও ছোট, বয়সের চূড়ান্ত ব্যবধান পেরিয়ে চুটিয়ে করেছেন প্রেম ও সহবাস! পরিবার ও সমাজের আপত্তিও টলাতে পারেনি সেই সম্পর্ক, সব বাধা-বিপত্তি কাটিয়ে কীভাবে ২৩ বছর পর দীপঙ্কর দে-র সঙ্গেই হল অভিনেত্রীর বিয়ে?

বিনোদন জগতে তারকাদের পর্দার জীবনের পাশাপাশি তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও দর্শকদের কৌতূহল বরাবরই প্রবল। বিশেষ করে কোনও সম্পর্ক যদি বয়সের ব্যবধান, পারিবারিক আপত্তি, দীর্ঘদিনের অপেক্ষা কিংবা ব্যক্তিগত আক্ষেপ পেরিয়ে পরিণতির দিকে এগোয়, তা স্বাভাবিকভাবেই হয়ে ওঠে আলোচনার বিষয়। টলিউডেও এমন একাধিক সম্পর্কের গল্প রয়েছে, যেগুলি সময় পেরিয়েও মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছে। অভিনেতা দীপঙ্কর দে এবং অভিনেত্রী দোলন রায়ের সম্পর্কও তেমনই এক দীর্ঘ অধ্যায়। বয়সের প্রায় ২৪-২৬ বছরের ব্যবধান, পরিবারের প্রথম দিকের আপত্তি, ১৯৯৭ সালে সম্পর্কের সূত্রপাত এবং দীর্ঘ ২৩ বছর পর ২০২০ সালে আইনি বিয়ে সব মিলিয়ে তাঁদের সম্পর্কের পথচলায় রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। শুধু প্রেমের সম্পর্ক নয়, দীপঙ্করের আগের সংসার, তাঁর দুই মেয়ের সঙ্গে দোলনের সম্পর্ক এবং দোলনের ব্যক্তিগত জীবনের কিছু আক্ষেপও তাঁদের গল্পকে আরও আলোচিত করে তুলেছে।

অভিনেতা দীপঙ্কর দে বাংলা বিনোদন জগতের দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ। মঞ্চ, টেলিভিশন এবং বড়পর্দায় অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি দর্শকদের কাছে নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করেছেন। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন এই বর্ষীয়ান অভিনেতা। ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও তাঁকে ঘিরে বহু বছর ধরে আগ্রহ রয়েছে দর্শকদের। দোলন রায়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের বয়সের ব্যবধানই একসময় ছিল আলোচনার অন্যতম কারণ। প্রকাশিত বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে, কাজের সূত্রেই দু’জনের পরিচয় এবং ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছিল। ১৯৯৭ সালে বাইরে নাটকের কাজে গিয়ে তাঁদের সম্পর্ক আরও গভীর হয় বলে জানিয়েছেন দোলন। তবে সম্পর্কের কথা পরিবারে জানানো সহজ ছিল না। দোলনের বক্তব্য অনুযায়ী, শুরুতে তাঁর বাবা-মা দু’জনেই এই সম্পর্কে আপত্তি জানিয়েছিলেন। কারণ, দীপঙ্কর তাঁদের কাছে সম্মানীয় শিল্পী হলেও মেয়ের জীবনসঙ্গী হিসেবে তাঁকে মেনে নেওয়া সহজ ছিল না।

দীপঙ্করের বৈবাহিক জীবন নিয়েও তাঁদের সম্পর্কের গল্পে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রয়েছে। দোলনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর আগে দীপঙ্কর এক অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান মহিলাকে বিয়ে করেছিলেন এবং সেই সংসারে তাঁর দুই কন্যা ছিলেন। প্রকাশিত সাক্ষাৎকার অনুযায়ী, বড় মেয়ে ২০২৩ সালে প্রয়াত হন। দোলন জানিয়েছেন, বড় মেয়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক খুব মধুর ছিল না। অন্যদিকে ছোট মেয়ে রুমির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক তুলনামূলকভাবে আন্তরিক ছিল। দোলনের বক্তব্য অনুযায়ী, রুমি তাঁকে বাবার জীবনের একজন আপন মানুষ হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন এবং দীপঙ্করের প্রতি তাঁর যত্নকে সম্মান করতেন। এমনকি বড় মেয়ের মৃত্যুর সময় হাসপাতালে গিয়ে দীপঙ্করের প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে দোলনের প্রথম দেখা হয়েছিল বলেও তিনি জানিয়েছেন। দোলনের দাবি ছিল, তাঁদের সম্পর্ক তৈরি হওয়ার সময় দীপঙ্করের প্রথম বিবাহবিচ্ছেদ প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল এবং তাঁর কারণে সেই প্রথম সংসার ভাঙেনি।

দুই দশকেরও বেশি সময়ের সম্পর্কের পর অবশেষে ২০২০ সালে আইনি বিয়ে করেন দীপঙ্কর দে ও দোলন রায়। তবে তাঁদের সম্পর্কের গল্পে শুধু প্রেম ও বিয়ের অধ্যায়ই নেই, রয়েছে দোলনের ব্যক্তিগত জীবনের একটি গভীর আক্ষেপও। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী জানিয়েছেন, তিনি কখনও মা হতে পারেননি। জীবনের একটা সময়ে এই বিষয়টি তাঁকে কষ্ট দিত। বিশেষ করে একটি মেয়ের মা হওয়ার ইচ্ছা তাঁর ছিল। নিজের মায়ের সঙ্গে যেমন বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে, তেমনই একটি মেয়ের সঙ্গে নিজের মনের কথা ভাগ করে নেওয়ার স্বপ্নও দেখেছিলেন তিনি। সময়ের সঙ্গে অবশ্য সেই আক্ষেপকে মেনে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন দোলন। একইসঙ্গে দীপঙ্করের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্ককে নিজের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্ধন হিসেবেও দেখেছেন তিনি। বয়সের ব্যবধান কিংবা সামাজিক আলোচনা তাঁদের সম্পর্কের পথচলা থামাতে পারেনি বলেই দোলনের বক্তব্য থেকে উঠে এসেছে।

আরও পড়ুনঃ “আমি অত্যন্ত তৃপ্ত! নতুন সরকার এসে নিঃসন্দেহে ভালো কাজ করছে, চারিদিকে নজর দিচ্ছে” হঠাৎ পাপিয়া অধিকারীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ গায়ক কবীর সুমন! বিপদে পড়তেই প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদের বদলে গেল সুর, কী এমন উপকার করলেন অভিনেত্রী তথা বিজেপি বিধায়ক?

তবে তাঁদের দীর্ঘ প্রেমের গল্পের সবচেয়ে আবেগঘন দিকগুলির একটি হল দীপঙ্করের জীবনে নিজের জায়গা বোঝাতে দোলনের ‘সায়রা বানু’ হওয়ার ইচ্ছা। কিংবদন্তি অভিনেতা দিলীপ কুমার ও সায়রা বানুর সম্পর্কের উদাহরণ টেনে দোলন জানিয়েছেন, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি দীপঙ্করের পাশে থাকতে চান। সায়রা বানু যেভাবে দিলীপ কুমারের জীবনের শেষ অধ্যায় পর্যন্ত তাঁর সঙ্গী ছিলেন, দোলনও সেভাবেই নিজের প্রিয় মানুষের পাশে থাকার স্বপ্ন দেখেন। ১৯৯৭ সালে শুরু হওয়া সম্পর্ক থেকে ২০২০ সালের আইনি বিয়ে এই দীর্ঘ পথচলায় এসেছে পারিবারিক আপত্তি, অতীতের সম্পর্ক, বয়সের ব্যবধান, দুই মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক এবং সন্তানহীনতার ব্যক্তিগত আক্ষেপ। তাই দীপঙ্কর দে ও দোলন রায়ের সম্পর্ক শুধু বয়সের ব্যবধানের কারণে আলোচিত নয়, বরং দীর্ঘ সময় ধরে একে অপরের পাশে থাকার সিদ্ধান্তই তাঁদের সম্পর্কের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অধ্যায়।

You cannot copy content of this page