বাংলার জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘বিগ বস বাংলা সিজন ৩’ ঘিরে দর্শকদের উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। প্রতিযোগীদের ঝগড়া, বন্ধুত্ব, আবেগ এবং গেমপ্লে নিয়ে প্রতিদিনই নতুন করে আলোচনা হচ্ছে সমাজমাধ্যমে। তবে এবার চর্চার কেন্দ্রে দুর্নিবার সাহা। তাঁর খেলার ধরন এবং অন্য প্রতিযোগীদের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। বিশেষ করে, বিপদের সময় বন্ধুরা তাঁর পাশে দাঁড়ালেও অন্যদের প্রয়োজনে দুর্নিবার কেন একইভাবে পাশে থাকেন না, তা নিয়েই শুরু হয়েছে বিতর্ক।
বিগ বসের ঘরে প্রবেশের পর থেকেই দুর্নিবারকে নিয়ে নানা কারণে আলোচনা হয়েছে। তাঁর ব্যক্তিগত জীবনও একাধিকবার উঠে এসেছে সমাজমাধ্যমের চর্চায়। দুর্নিবারের দু’টি বিয়ে, বাইরে তাঁর স্ত্রী ও সন্তান থাকা সত্ত্বেও সৃজলা গুহের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা নিয়ে দর্শকদের একাংশের মধ্যে সমালোচনা দেখা গিয়েছে। যদিও ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে ওঠা আলোচনা আর প্রতিযোগী হিসেবে তাঁর যোগ্যতা এক বিষয় নয়, তবুও এই সমস্ত বিতর্ক তাঁর বিগ বসের যাত্রাকে ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ আরও বাড়িয়েছে।
তবে এবার মূল প্রশ্ন উঠছে তাঁর গেমপ্লে নিয়ে, দর্শকদের একাংশের অভিযোগ, দুর্নিবার নিজে বিপদে পড়লে বা অন্য কারও সঙ্গে বিবাদে জড়ালে সৃজলা, নিরঞ্জন লাহা-সহ বাড়ির একাধিক সদস্য তাঁর হয়ে কথা বলেন। রাজবীরের সঙ্গে তাঁর সাম্প্রতিক ঝামেলার সময়ও তাঁকে সমর্থন করতে অন্যদের এগিয়ে আসতে দেখা গিয়েছে বলে দাবি দর্শকদের একাংশের। কিন্তু অন্যদের সমস্যায় দুর্নিবারকে সেভাবে পাশে দাঁড়াতে দেখা যায় না বলেই অভিযোগ। এমনকী, সৃজলা যখন নিরঞ্জনকে কথা শোনান, সেই সময়ও দুর্নিবারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
এই পরিস্থিতিতে সমাজমাধ্যমে উঠছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন দুর্নিবার কি ইচ্ছাকৃতভাবেই অন্যদের বিবাদ থেকে দূরে থাকেন, যাতে নিজের খেলা এবং বাড়ির ভিতরে সমর্থন অটুট থাকে? নিরঞ্জনও এর আগে দুর্নিবারের আবেগপ্রকাশ ও কান্নাকাটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন বলে চর্চা হয়েছে। তবে এই অভিযোগগুলি দর্শকদের একাংশের মতামত, দুর্নিবারের উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর মতো প্রমাণ হিসেবে এগুলিকে দেখা যায় না। তবুও তাঁর নিরপেক্ষ থাকার প্রবণতা সত্যিই কৌশল, নাকি অন্যদের প্রতি দায়বদ্ধতার অভাব, তা নিয়ে বিতর্ক থামছে না।
আরও পড়ুনঃ মা লক্ষ্মী চঞ্চলা! তাঁর পুজোয় বাজে না কাঁসর, ঘন্টা! কেন মহানায়কের বাড়ির লক্ষ্মী পুজোর বাজে ঢাক? জানেন সেই অজানা ইতিহাস?
বিগ বসের মতো প্রতিযোগিতায় শুধু নিজের খেলা গুছিয়ে নেওয়াই কি জয়ের জন্য যথেষ্ট, নাকি অন্যায়ের প্রতিবাদ করা এবং প্রয়োজনে বন্ধুদের পাশে দাঁড়ানোও সমান জরুরি? দুর্নিবারের সমালোচকদের মতে, অন্যদের কাছ থেকে সমর্থন নিয়ে প্রয়োজনে তাঁদের পাশে না দাঁড়ালে উইনার হওয়ার যোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে। অন্যদিকে, ব্যক্তিগত বিবাদে জড়িয়ে না পড়াকে কেউ কেউ কৌশল হিসেবেও দেখতে পারেন। তাহলে কি দুর্নিবারের এই খেলার ধরন তাঁকে জয়ের দিকে এগিয়ে দিচ্ছে, নাকি দর্শকদের চোখে তাঁর গ্রহণযোগ্যতাই কমিয়ে দিচ্ছে? বিগ বসের উইনার হিসেবে তাঁকে কি আদৌ যোগ্য মনে করছেন দর্শকরা?






