অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিকের বিজেপিতে যোগদান নিয়ে উত্তপ্ত রাজনৈতিক মহল এমন কি সমালোচনা শুরু হয়েছে বিনোদন জগতেও! এবার তাই নিয়ে মন্তব্য করলেন অভিনেত্রী ইন্দ্রানী হালদার। চলতি বছরই তৃণমূলের সঙ্গে কোয়েল মল্লিকের রাজনৈতিক যোগ তৈরি হয়েছিল কিন্তু বদলের বাংলায় গতকাল বিজেপির তরফে রাজ্যসভা নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে কোয়েল মল্লিকের নাম সামনে আসতেই বদলে যায় রাজনৈতিক সমীকরণ। তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগের পর এবার বিজেপির প্রার্থী হওয়া নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহল থেকে সোশ্যাল মিডিয়া সর্বত্রই আলোচনা তুঙ্গে।
কোয়েলের বিজেপিতে যোগদান প্রসঙ্গে সাম্প্রতিক সময় মুখ খুলেছেন ইন্দ্রানী হালদার, তিনি জানান “আমার মনে হয় ওর একটা খুব ভালো ইমেজ আছে এবং দুই দলেরই যারা রেসপন্সিবল পারসন, তারা মনে করেন যে কোয়েল মল্লিক রাজ্যসভায় গেলে সত্যিই খুব ভালো হবে। সেই জন্যই ওকে তৃণমূল থেকেও নিল, আবার বিজেপি থেকেও এত তাড়াতাড়ি ডাক পড়ল, কনগ্রাচুলেশনস! আমার মনে হয় ও খুব ভালো করবে, বেঙ্গলের রিপ্রেজেন্ট করবে, বেঙ্গলকে এবং বেঙ্গলে যা দরকার, সেই বার্তাগুলো ভালোভাবে পৌঁছবে।” অর্থাৎ কোয়েলের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি এবং মানুষের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতাকেই তাঁর রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন ইন্দ্রানী।
কোয়েলের দলবদল নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা মন্তব্য নিয়েও মুখ খোলেন ইন্দ্রানী। নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি যখন একটা কনগ্রাচুলেশন মেসেজ দিয়েছিলাম ফেসবুকে, তাতেই সবাই বলল যে গিরিগিটি অমুক তমুক, হেনা তেনা। কিন্তু এগুলো কে কী বলছে, সেটা ভাবলে তো চলবে না।” তাঁর কথায়, শিল্পীরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আয়োজিত অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেলে সেখানে যেতেই পারেন। ইন্দ্রানীর বক্তব্য, “আমাদের তো কাজই অনুষ্ঠানে যাওয়া, আমাদের আমন্ত্রণ করলে, যে পার্টিই আসুক না কেন, আমন্ত্রণ করলে আমাদের যেতেই হবে।” এখানেই থেমে থাকেননি অভিনেত্রী।
দলবদলকে তিনি স্বাভাবিক বিষয় হিসেবেই দেখছেন বলে জানান। তাঁর কথায়, “রং বদল, সবাই পরিবারের রং বদল হয় না? আজ শাশুড়ির দলে, কাল শ্বশুরের দলে, পরশু ভাসুরের দলে, তারপরে ননদের দলে, পরিবারে যখন দল বদল হতে পারে, সমাজে কেন হতে পারে না? হতেই পারে। আমি এগুলো কোনও খারাপ কিছু না, এভরিথিং পজিটিভ সাইড দেখলে হয়।” একইসঙ্গে বিজেপি থেকে তাঁকে কোনও পদ বা দায়িত্ব দেওয়া হলে তিনি তা গ্রহণ করবেন বলেও স্পষ্ট করেন। ইন্দ্রানী বলেন, “আজকে আমাকেও যদি বিজেপি থেকে ডাকে, আমাকে যদি বিজেপি থেকে কোনও পদ দেওয়া হয়, আমিও খুব উৎসাহের সঙ্গে, আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করব।”
আরও পড়ুনঃ “সাইকোলজির পড়ুয়া বলেই আমার মানবিকতা আছে, এমন একটা দলে যোগ দিয়েছি…দেশের মানুষের কল্যাণের দায়িত্ব পালন করতে চাই” পাল্টি খেয়ে বড় কথা! তৃণমূলে নাম লেখানো ছিল ভূল সিদ্ধান্ত? বিজেপিতে যোগ দিয়েই ঠোঁটকাটা কোয়েল মল্লিক! প্রশ্নের দিলেন কৌশলী জবাব?
তবে শুধু দল বা রাজনৈতিক পরিচয় নয়, দায়িত্ব ও কাজের প্রতি নিষ্ঠাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন ইন্দ্রানী। তিনি বলেন, “যারা একটা সময় তৃণমূল করেছেন, তারা যদি আজকে বিজেপিতে আসেন, বিজেপি থেকে তাদের যদি ডাকে, তারা যাবেন কেন যাবেন না? সরকারকে সাহায্য করাটা তো আমাদের কাজ।” নিজের প্রসঙ্গেও তাঁর বক্তব্য, “আমি আজকে যদি বিজেপি করি, আমার ডেডিকেশন, আমার কন্ট্রিবিউশন ১০০ শতাংশ হওয়া উচিত, আই শুড বি অনেস্ট।” রাজনীতিতে আদর্শের প্রশ্নে তিনি নিজেকে পেশাদার রাজনীতিবিদ হিসেবে দেখেন না বলেও জানান। তাঁর কথায়, “আমি অত রাজনীতি বুঝি না, পোড়খাওয়া রাজনীতিবিদ আমি নই।” একইসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে ডাকলে তাঁর হয়ে কাজ করেছেন বলেও জানান তিনি। ইন্দ্রানীর স্পষ্ট বার্তা, যে সরকারই দায়িত্বে থাকুক, একজন নাগরিক হিসেবে বাংলার প্রতি এবং সরকারের প্রতি নিজের দায়িত্ব পালন করাই তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ।






“প্রকৃত অসভ্য ও অভদ্র মেয়ের লক্ষণ কথা না শোনা… বিগ বসে এসে তুমি কুইন নয়, ‘ডা*র্টি ক্যুইন’ নামে পরিচিত হচ্ছ বাংলার ঘরে ঘরে!” “সৌরভ হতভাগা যে টাকার জন্য এই মেয়েটার সঙ্গে মুখ লাগতে হচ্ছে!” বিগ বস বাংলার ঘরে এন্ট্রি নিতেই মিথ্যে সাজিয়ে সবার দুর্বল জায়গায় করছেন আ’ঘাত, অনুষ্কা ঘোষকে চাঁচাছোলা ভাষায় আয়না দেখালেন নৃত্যশিল্পী চাঁদনী গঙ্গোপাধ্যায়!