বিগ বস বাংলার ঘরে রাজনীতির টাস্ক ঘিরে এবার তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। এই টাস্কের নিয়ম ভাঙার অভিযোগ উঠেছে জিতু কামালের (Jeetu Kamal) বিরুদ্ধে। অভিযোগ, তাঁর ছাপ্পা ভোটের কারণেই এই সপ্তাহের লাক্সারি বাজেট হাতছাড়া হয়েছে। ফলে জিতুর একটি সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়েছে গোটা বাড়ির প্রতিযোগীদের উপর। ঘরের সদস্যদের জন্য লাক্সারি বাজেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। সেই বাজেট না পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই বাড়িতে তৈরি হয়েছে অসন্তোষ। এরপর থেকেই জিতুকে ঘিরে শুরু হয়েছে আলোচনা এবং দর্শকদের একাংশের ক্ষোভ। সোশ্যাল মিডিয়াতেও তাঁর ভূমিকা নিয়ে নানান মন্তব্য করতে দেখা যাচ্ছে।
এই ঘটনার পর জিতুর বিরুদ্ধে আরও একাধিক অভিযোগ তুলেছেন দর্শকদের একাংশ। একজন দর্শক তাঁকে নিয়ে লিখেছেন, “কতটা হিংসুটে একটা পুরুষ মানুষ হতে পারে, সেটা বিগ বস বাংলা না দেখলে বুঝতাম না!” সেখানেই থামেননি আরও এক দর্শক, জিতুকে ‘কপি ক্যাট’ বলেও কটাক্ষ করেছেন। তাঁর দাবি, ঝিলাম ও দুর্নিবার যে গান লিখছেন, সেটিও নাকি জিতু কপি করছেন। যদিও প্রথমবার গানটির কথা ঠিক কী বলা হয়েছিল, তা বুঝতে পারেননি ওই দর্শক। তাঁর কথায়, শুধু গানের টোনটুকুই বোঝা গিয়েছিল। এই অভিযোগের পাশাপাশি বাড়ির আগের বার্নার চুরির ঘটনাও টেনে এনেছেন তিনি। সেই ঘটনার দায় দুর্নিবারের পরিকল্পনা বলে জিতু নাকি বাড়ির সবাইকে বোঝাচ্ছিলেন বলেও অভিযোগ করেছেন ওই দর্শক।
এবার সেই প্রসঙ্গেই জিতুর বিরুদ্ধে পালটা অভিযোগ তুলেছেন ওই দর্শক। তাঁর দাবি, যে ব্যক্তি আগে বার্নার চুরির ঘটনাকে দুর্নিবারের পরিকল্পনা বলেছিলেন, তিনিই এবার নিজে বার্নার চুরি করে বসে আছেন। শুধু তাই নয়, দুর্নিবার নাকি গোটা বাড়িকে ম্যানুপুলেট করছেন বলেও জিতু অভিযোগ করেছিলেন বলে দাবি দর্শকের। কিন্তু ওই দর্শকের বক্তব্য, বাস্তবে জিতুই রাজবীরকে নিজের মতো করে প্রভাবিত করেছেন। তাঁর কথায়, “অথচ নিজেই রাজবীর কে পুরো ম্যানুপুলেট করে ছেড়ে দিয়েছে!” ফলে জিতুর নিজের আচরণ এবং অন্য প্রতিযোগীদের নিয়ে তাঁর বক্তব্যের মধ্যে বৈপরীত্য রয়েছে বলেই মনে করছেন ওই দর্শক। এই কারণেই তাঁর ক্ষোভ আরও বেড়েছে। এমনকি অনেকে মন্তব্য করেছেন, “জিতু তুসি কামাল হো!”
দর্শকের ওই মন্তব্যে দুর্নিবারের প্রতিও স্পষ্ট সমর্থন দেখা গিয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, এই কারণেই তাঁর সমস্ত ভোট দুর্নিবারের জন্য। তাঁর মতে, দুর্নিবারের মাথায় বুদ্ধি আছে এবং পরিস্থিতি বোঝার ক্ষমতাও রয়েছে। এর বিপরীতে জিতুর আচরণকে তিনি হিংসার সঙ্গে তুলনা করেছেন। সরাসরি জিতুকে উদ্দেশ্য করে অনেকে মন্তব্য করেছেন, “এই কারণেই আমার সমস্ত ভোট শুধু দুর্নিবারের জন্য কারণ ওর মাথায় বুদ্ধি আছে। আর তোমার মাথায় হিংসা আছে।” অর্থাৎ লাক্সারি বাজেটের ঘটনা থেকে শুরু করে বার্নার চুরি এবং রাজবীরকে প্রভাবিত করার অভিযোগ, সবকিছুকেই একই সূত্রে দেখছেন ওই দর্শক। তবে এগুলি দর্শকের ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া এবং অভিযোগ। শোয়ের প্রতিযোগীদের আচরণ নিয়ে দর্শকদের মধ্যে যে তীব্র মতভেদ তৈরি হয়েছে, তা থেকেই এই মন্তব্যগুলি সামনে এসেছে।
আরও পড়ুনঃ “আমিই তো রুবেলকে তুকতাক করে নিজের বশে রেখেছি!” জ্যোতিষশাস্ত্রে চরম আস্থা, বিয়ে হতেই উঠেছিল ‘কালোজাদু’ ও ‘বশীকরণ’ সহ একের পর এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ! দুই বছর পরেও এখনও রোজ শুনতে হয় কটা’ক্ষ, অবশেষে মুখ খুললেন শ্বেতা! ক্ষো’ভ উগরে কাদের উদ্দেশ্যে সপাটে জবাব অভিনেত্রীর?
এদিকে লাক্সারি বাজেট হারানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিগ বসের ঘরে জিতু কামালকে নিয়েই এখন নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। রাজনীতির টাস্কে নিয়ম মেনে খেলা হয়েছে কি না, তা নিয়েও দর্শকদের মধ্যে নানান প্রশ্ন রয়েছে। একটি সিদ্ধান্তের কারণে গোটা বাড়ির সদস্যরা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় বিষয়টি আরও আলোচনায় এসেছে। তার উপর পুরনো বার্নার চুরির ঘটনা, দুর্নিবারকে নিয়ে মন্তব্য এবং রাজবীরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের প্রসঙ্গও টেনে আনছেন দর্শকদের একাংশ। ফলে জিতুর বিরুদ্ধে সমালোচনা এখন শুধু লাক্সারি বাজেটের ঘটনাতেই সীমাবদ্ধ নেই। তাঁর আচরণ এবং অন্যান্য প্রতিযোগীদের সঙ্গে তাঁর সমীকরণও দর্শকদের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। অন্যদিকে দুর্নিবারকে সমর্থন জানিয়ে ভোট দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন ওই দর্শক। সব মিলিয়ে বিগ বস বাংলার বাড়িতে লাক্সারি বাজেটের এই ঘটনা নতুন করে জিতুকে ঘিরে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।






