“আমার এক মুস’লিম স্ত্রীকে নিয়ে আমেরিকা গিয়েছিলাম…হাতা যেন থালায় না লাগে, ওঁকে ৫ ফুট ওপর থেকে খাবার পরিবেশন করেছিল!” বাঙালি পরিবারে নিমন্ত্রণের অভিজ্ঞতা ভাগ করলেন কবীর সুমন! ‘একটা মুস’লিম স্ত্রী মানে, কতজন আছে এরকম?’ ‘আপনি ভুল বলছেন, ওটা মহাকাশ থেকে দিয়েছিল, নিজের চোখে দেখেছিলাম!’ ভাইরাল ভিডিও ঘিরে নেটপাড়ায় শুরু তুমুল আলোচনা!

বাংলা আধুনিক গানের জগতে কবীর সুমন (Kabir Suman) এক অনন্য নাম। গায়ক, গীতিকার, সুরকার, লেখক এবং প্রাক্তন সাংসদ হিসেবে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তিনি নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছেন। নব্বইয়ের দশকে তাঁর গান বাংলা আধুনিক সঙ্গীতে নতুন ধারার সূচনা করেছিল। ব্যক্তিগত জীবন এবং স্পষ্টভাষী মন্তব্যের কারণেও তিনি বহুবার আলোচনায় উঠে এসেছেন। জন্মসূত্রে হিন্দু ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্ম হলেও পরবর্তীকালে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং নিজের নাম পরিবর্তন করে কবীর সুমন রাখেন। ধর্ম, রাজনীতি ও সমাজ নিয়ে অকপট মত প্রকাশের জন্য তিনি বরাবরই পরিচিত। এবারও একটি সাক্ষাৎকারে ধর্ম নিয়ে তাঁর মন্তব্য ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে কবীর সুমন বলেন, “বয়স তো কম হলো না, অনেক কিছু দেখেছি। সব দেখা হয়ে গেছে! যখন হিন্দু ছিলাম তখন হিন্দুত্ব নিয়ে এত মাতামাতি করিনি, ইসলাম হওয়ার পরেও করি না আর ভবিষ্যতে খ্রিস্টান হলেও সারাদিন ‘ও লর্ড’ করব না। কিন্তু ধর্ম নিয়ে মাতামাতি কী চূড়ান্ত পর্যায়ে হয়, আমি দেখেছি।” তাঁর এই মন্তব্যের পর তিনি বিদেশ সফরের একটি অভিজ্ঞতার কথাও শোনান, যা বর্তমানে সমাজ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

কবীর সুমনের দাবি, একবার তিনি তাঁর এক মুসলিম স্ত্রীকে নিয়ে আমেরিকায় গানের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। সেই সময় এক হিন্দু বাঙালি পরিবারের বাড়িতে তাঁদের খাওয়ার নিমন্ত্রণ ছিল। সেখানে কী ঘটেছিল, তা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “যিনি আমাকে খাবার পরিবেশন করছিলেন, তিনি যখন আমার থালায় খাবার দিচ্ছিলেন, তখন হাতা বারবার আমার থালায় স্পর্শ করছিল। কিন্তু যখন আমার মুসলিম স্ত্রীকে খাবার দিচ্ছিলেন, তখন হাতাটা প্রায় পাঁচ ফুট ওপরে রেখে পরিবেশন করছিলেন, যাতে কোনওভাবেই স্পর্শ না করে।” তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই ঘটনাই তাঁকে ধর্মীয় বিভাজনের বাস্তব চিত্র আরও স্পষ্টভাবে বুঝতে সাহায্য করেছিল।

সাক্ষাৎকারের এই অংশ প্রকাশ্যে আসতেই তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। তবে শুধু সমর্থনই নয়, সমাজ মাধ্যমে শুরু হয় নানা ধরনের প্রতিক্রিয়াও। অনেকেই তাঁর বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। একজন লিখেছেন, “ইনি তো বেশ মজার মানুষ, কে কবে হাতা উপর থেকে ফেলেছে মনে করে রেখে দিয়েছে!” আবার আরেকজন কটাক্ষ করে মন্তব্য করেন, “আমার একটা মুসলিম স্ত্রী মানে, কতজন আছে এরকম?” কেউ আবার দাবি করেছেন, “পাঁচ ফুট উপর থেকে হাতা ধরে খাবার দিতে হলে, উনি জিরাফের মতো হবেন!”

এতেই শেষ নয়। আরও এক নেটিজেন ব্যঙ্গ করে লেখেন, “আপনি ভুল বলছেন, মহাকাশ থেকে খাবার দেওয়া হয়েছিল, আমি নিজের চোখে দেখেছিলাম!” আবার অন্য একাংশের মতে, কবীর সুমন নিজের জীবনের অভিজ্ঞতাই তুলে ধরেছেন এবং প্রত্যেকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা একরকম নাও হতে পারে। ফলে ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই মন্তব্যের ঘরে সমর্থন এবং সমালোচনা, দুই ধরনের প্রতিক্রিয়াই সমানভাবে দেখা যাচ্ছে। তাঁর বক্তব্যকে ঘিরে ধর্ম, সামাজিক আচরণ এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ “বাঁচতে দিন প্লিজ!” “আমাদের মধ্যে যা হয়েছে, সেটা আমরা বুঝে নেব…” বিয়ের ৫ মাসেই ডিভোর্স জল্পনা! শ্যামৌপ্তির বলা ‘কোনও কথা বলতে আমার রুচিতে বাঁধছে’ থেকে অভিকার সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক বিত’র্কের জেরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেন রণজয় বিষ্ণু! কাঁদো কাঁদো হয়ে ভিডিও বার্তায় জানালেন কোন আবেগঘন আবেদন?

কবীর সুমন বরাবরই বিতর্ক এড়িয়ে চলার মানুষ নন। বিভিন্ন সময়ে সমাজ, রাজনীতি, ধর্ম এবং সংস্কৃতি নিয়ে নিজের মত প্রকাশ করেছেন তিনি। এবারও তাঁর একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বর্ণনা সমাজমাধ্যমে তুমুল আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। কেউ তাঁর বক্তব্যকে বাস্তব অভিজ্ঞতার প্রতিফলন বলে মনে করছেন, আবার কেউ সেটিকে অতিরঞ্জিত বলেও দাবি করছেন। ফলে ভাইরাল এই ভিডিও ঘিরে বিতর্ক এবং আলোচনা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

You cannot copy content of this page