বিগ বস বাংলার ঘরে ঢোকার পর থেকেই নিজের রসবোধ এবং তাৎক্ষণিক গান বানানোর ক্ষমতা দিয়ে নজর কেড়েছেন লেখক ও ইনফ্লুয়েন্সর ঝিলম গুপ্ত। ‘ডিজে মাউস’ নামে পরিচিত ঝিলমের তৈরি ‘ইঁদুর’ গানটি এখন বিগ বসের গণ্ডি পেরিয়ে নেটদুনিয়াতেও বেশ জনপ্রিয়। হাতের কাছে থাকা জিনিসপত্রে তাল ঠুকে বা মুখে মুখে গান বানিয়ে ফেলার অভ্যাস তাঁর পুরনো। তবে এই গানটির জনপ্রিয়তার সম্পূর্ণ কৃতিত্ব নিজে নিতে চাননি ঝিলম। বরং এর পিছনে থাকা এক বিশেষ মানুষের কথা নিজেই জানিয়েছিলেন তিনি। এমনকী সঞ্চালক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছেও সেই বিশেষ মানুষের প্রসঙ্গ তুলেছিলেন ঝিলম। এরপর থেকেই অনুরাগীদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়, কে সেই ব্যক্তি, যাঁর কাছ থেকে ‘ইঁদুর’ গানের অনুপ্রেরণা পেলেন তিনি?
ঝিলমের সেই বিশেষ বন্ধুর পরিচয় এবার প্রকাশ্যে এসেছে। তিনি পৌলমী গুহ। দীর্ঘদিন ধরে ঝিলমের ঘনিষ্ঠ বন্ধু পৌলমীও যথেষ্ট সৃষ্টিশীল। সেরামিক আর্ট এবং হ্যান্ডমেড আর্টে তাঁর বিশেষ দক্ষতা রয়েছে। দুজনে একসঙ্গে সময় কাটানোর পাশাপাশি নানা ধরনের সুন্দর জিনিস তৈরি করেন। এমনকী ঝিলমের একটি বইয়ের প্রচ্ছদও অলংকরণ করেছেন পৌলমী। সম্প্রতি একটি পডকাস্ট চ্যানেলের সাক্ষাৎকারে দেখা যায় তাঁকে। সেখানেই তিনি জানান, কীভাবে তাঁর জীবনের একটি মজার ঘটনা থেকে ঝিলমের মাথায় ‘ইঁদুর’ শব্দটি ঢুকে যায়। আর সেই ছোট্ট ঘটনা থেকেই পরে তৈরি হয়ে যায় বিগ বসের ঘরে ভাইরাল হওয়া গান।
পৌলমীর কথায়, একটা সময় তাঁর গাড়িতে প্রায় প্রতিদিনই ইঁদুর ঢুকে পড়ত। বিষয়টি নিয়ে তিনি রোজ ঝিলমের কাছে অভিযোগ করতেন। দুজনের কথাবার্তায় বারবার ঘুরে ফিরে আসত সেই ‘ইঁদুর’ শব্দটি। পৌলমী জানিয়েছেন, তাঁরা দুজন তখন শুধু ‘ইঁদুর ইঁদুর’ করতেন। সেই শব্দটাই ঝিলমের মাথায় থেকে যায় এবং পরে তা নিয়েই গান বানিয়ে ফেলেন তিনি। বিগ বসের ঘরে টয়লেট পেপারের লিপ লাইনার দিয়ে লেখা ‘বিগ বসেরই ঘরে বাড়ে রক্ত চলাচল’ গানটিও দর্শকদের মধ্যে বেশ পরিচিত হয়ে উঠেছে। কয়েকদিনের মধ্যেই ঝিলমের এই তাৎক্ষণিক গানের জনপ্রিয়তা বেড়ে যায়। তবে নিজের সাফল্যের পিছনে পৌলমীর সেই ছোট্ট ঘটনাটিকেও যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছেন ঝিলম।
দীর্ঘদিনের বন্ধুকে নিয়ে বলতে গিয়ে ঝিলমের স্বভাব এবং প্রতিভার নানা দিকও তুলে ধরেছেন পৌলমী। তাঁর কথায়, ঝিলম খুব ভালো মানুষ এবং তিনি কখনও চিৎকার করে ঝগড়া করতে পারেন না। এমনকী কখনও কখনও পৌলমীর মনে হয়, টিভির পর্দার মধ্যে ঢুকে ঝিলমের হয়ে তিনিই ঝগড়া করে আসেন। তবে তাঁর সবচেয়ে বড় গুণ হল, ঝিলম খুব ভালো শ্রোতা। লেখালেখির পাশাপাশি তিনি ছবি আঁকেন এবং নিজের খেয়ালে নানা ধরনের গানও বানান। খুব দ্রুত গান তৈরি করে ফেলার ক্ষমতাও রয়েছে তাঁর। বিগ বসের ঘরে গান বানিয়ে ঝিলম শুধু অন্যদের আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করছেন না, নিজেকেও আনন্দে রাখছেন বলে মনে করেন পৌলমী।
আরও পড়ুনঃ মহানায়কের জনপ্রিয়তায় চাপা পড়ে গিয়েছিল তাঁর নাম, অথচ শ্রী রামকৃষ্ণ রূপে দর্শকের মনে চিরস্থায়ী জায়গা করে নিয়েছিলেন গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায়! চরিত্রে এতটাই ডুবে গিয়েছিল, পর্দায় অভিনয় করতে করতে বদলে যায় তাঁর বাস্তবের শরীরী ভঙ্গিও! স্বর্ণযুগের এই অভিনেতাকে মনে রেখেছেন কতজন? শেষ বয়সে যা হয়, তাঁর অজানা কাহিনি অবাক করবে আপনাকেও!
তবে বন্ধুর প্রশংসার পাশাপাশি ঝিলমের একটি মজার দুর্বলতার কথাও ফাঁস করেছেন পৌলমী। তাঁর দাবি, ঝিলম ঘরের কাজ একেবারেই পারেন না। তাই বিগ বসের ঘরে কাজ শেখানোর সুযোগ তৈরি হওয়ায় পৌলমী মজা করে বিগ বসকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন। সব মিলিয়ে ঝিলম এবং পৌলমীর বন্ধুত্ব যে বেশ পুরনো এবং গভীর, তা তাঁদের কথাবার্তাতেই স্পষ্ট। একদিকে বিগ বসের ঘরে ঝিলমের তাৎক্ষণিক গান তৈরি দর্শকদের বিনোদন দিচ্ছে, অন্যদিকে সেই ভাইরাল ‘ইঁদুর’ গানের নেপথ্যের গল্পও সামনে এসেছে। একটি গাড়িতে বারবার ইঁদুর ঢোকার ঘটনা থেকে শুরু হওয়া সেই মজার কথাবার্তাই যে শেষ পর্যন্ত বিগ বসের ঘরে ভাইরাল গানের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবে, তা হয়তো পৌলমী বা ঝিলম কেউই তখন ভাবেননি।






