বাংলার ঘরে ঘরে পরিচিত নাম সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। ক্রিকেটের মাঠে তাঁর দাপট যেমন দর্শকদের মুগ্ধ করেছে, তেমনই টেলিভিশনের পর্দাতেও সঞ্চালক হিসেবে মন জয় করেছেন তিনি। জি বাংলার জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘দাদাগিরি’র সঙ্গে সৌরভের সম্পর্ক দীর্ঘ দিনের। তাঁর সঞ্চালনায় এই অনুষ্ঠান দর্শকদের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই সেই শো ছেড়ে অন্য চ্যানেলের অনুষ্ঠানের দায়িত্ব নেওয়ায় নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। টলিপাড়ায় কানাঘুষো, পারিশ্রমিক নিয়ে মতপার্থক্যের কারণেই নাকি জি বাংলার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন তিনি। শোনা যায়, স্টার জলসার তরফে বড় অঙ্কের পারিশ্রমিকের প্রস্তাব পাওয়ার পরই নতুন পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেন মহারাজ। সম্প্রতি এক পডকাস্টে এসে এই বিষয়েই মুখ খুলেছেন সৌরভ।
‘টাফ টক উইথ ঋতব্রত’ পডকাস্টে উপস্থিত হয়ে ‘দাদাগিরি’ ছাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন সৌরভ। তাঁর কথায়, টানা প্রায় দশ বছর একই অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করার পর নতুন কিছু করার ইচ্ছা তৈরি হয়েছিল। সেই ভাবনা থেকেই ‘বিগ বস বাংলা’র মতো একেবারে অন্য ধরনের অনুষ্ঠান বেছে নেন তিনি। নিজের সিদ্ধান্ত বোঝাতে ক্রিকেটের উদাহরণও দিয়েছেন মহারাজ। সৌরভ বলেন, ‘অনেক দিন করেছি (দাদাগিরি)। অনেক দিন তিন নম্বরে ব্যাট করেছি। এখন চার নম্বরে ব্যাট করার সময়।’ অর্থাৎ, দীর্ঘ দিন একই জায়গায় কাজ করার পর নিজের পেশাগত জীবনে নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে চেয়েছিলেন তিনি। শুধু পরিচিত অনুষ্ঠানের মধ্যেই আটকে না থেকে অন্য ধরনের কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করাই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য। ফলে শুধুমাত্র আর্থিক কারণেই ‘দাদাগিরি’ ছাড়ার সিদ্ধান্ত, এমন ধারণার সঙ্গে সৌরভের বক্তব্য পুরোপুরি মেলে না।
‘দাদাগিরি’র পরিচিত সঞ্চালক থেকে ‘বিগ বস বাংলা’র মঞ্চে সৌরভের যাত্রা নিয়েও নানা আলোচনা হয়েছে। তবে নতুন অনুষ্ঠানে গেলেও নিজের পরিচয় বদলে যাওয়ার আশঙ্কা নেই বলেই মনে করেন তিনি। পডকাস্টে এই প্রসঙ্গে সৌরভ বলেন, ‘দাদা-দাদাই। বাঙালির ঘরের ছেলে। দাদা সিম্পল মানুষ। বিগ বস আর দাদাগিরি তো শো-এর নাম। প্রিন্স ক্রিকেটের নাম। দাদা বাঙালির ঘরের ছেলে।’ তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে বোঝাতে চেয়েছেন, অনুষ্ঠানের নাম কিংবা মঞ্চ বদলালেও দর্শকদের কাছে তাঁর পরিচয় একই থাকবে। ক্রিকেটের মাঠে ‘প্রিন্স অব ক্যালকাটা’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার পর টেলিভিশনের পর্দায় ‘দাদা’ হয়ে ওঠা তাঁর জীবনের আর একটি অধ্যায়। সেই পরিচয়কে সঙ্গে নিয়েই নতুন কাজ শুরু করেছেন তিনি। তাই ‘দাদাগিরি’ থেকে সরে আসাকে নিজের পরিচয় থেকে সরে আসা বলে মনে করেন না সৌরভ।
এ দিকে স্টার জলসার সঙ্গে সৌরভের চুক্তি নিয়েও জোর আলোচনা চলছে। খবর অনুযায়ী, চার বছরের জন্য প্রায় ১২৫ কোটি টাকার চুক্তি হয়েছে তাঁর। এই চুক্তির আওতায় দুটি অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করার কথা রয়েছে সৌরভের। তার মধ্যে একটি ‘বিগ বস বাংলা’। অন্য অনুষ্ঠানটি একটি কুইজ রিয়্যালিটি শো হলেও তার সম্পূর্ণ ধরন এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। চ্যানেলের তরফে ইতিমধ্যেই অনুষ্ঠানের প্রথম ঝলক সামনে আনা হয়েছে। ‘বিগ বস বাংলা’ শেষ হওয়ার পর নতুন কুইজ শোটি শুরু হতে পারে বলে খবর। সব ঠিক থাকলে ডিসেম্বরের আশপাশে দর্শকের সামনে আসতে পারে অনুষ্ঠানটি। তবে এই বড় অঙ্কের চুক্তির খবর সামনে আসার পরই প্রশ্ন উঠেছিল, আর্থিক প্রস্তাবের কারণেই কি সৌরভ দীর্ঘ দিনের ‘দাদাগিরি’ ছেড়ে দিয়েছেন? পডকাস্টে তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে অন্য দিকও। দীর্ঘ দিন একই কাজ করার পর নতুন চ্যালেঞ্জ নেওয়ার ইচ্ছাকেই নিজের সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ ‘আমার নীরবতাকে দুর্বলতা ভাববেন না…পুরুষেরও ক*ষ্টে চোখে জল আসে, অ’ন্যায়ের শিকার হয়!’ প্রাক্তন স্ত্রী জুঁইকে নিশানা, টলিউডে দুর্নী’তি মামলায় জামিন পেতেই ফের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিতর্কে স্বরূপ বিশ্বাস?
অন্যদিকে, সৌরভের জায়গায় দেব ‘দাদাগিরি’র সঞ্চালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে অনুষ্ঠানটি। পডকাস্টে সৌরভ জানান, দেব যখন সঞ্চালনার প্রস্তাব পান, তখন তাঁর সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল। দেবকে নিজের মতো করেই অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করার পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি। সৌরভের বক্তব্য ছিল, তাঁর মতো হওয়ার চেষ্টা না করে দেব যেন নিজের পরিচয় বজায় রেখেই শোটি এগিয়ে নিয়ে যান। শুধু তাই নয়, দেবের সঞ্চালনায় ‘দাদাগিরি’ তিনি নিজেও দেখছেন এবং তাঁর ভালো লাগছে বলেও জানিয়েছেন মহারাজ। তবে ‘বিগ বস বাংলা’র সঞ্চালক হিসেবে সৌরভকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনাও হয়েছে। অনেক দর্শকের অভিযোগ, তাঁর সঞ্চালনায় সাবলীলতার অভাব রয়েছে এবং কিছু অংশ তাঁদের কাছে অতিরিক্ত চিত্রনাট্যনির্ভর বলে মনে হয়েছে। কয়েক জন প্রতিযোগীর প্রতি পক্ষপাতের অভিযোগও উঠেছে, বিশেষ করে জীতু কমল ও দুর্নিবার সাহাকে ঘিরে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি সৌরভের সঙ্গে সলমন খানের সঞ্চালনার তুলনাও টানা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, এক দিকে নতুন অনুষ্ঠানে সৌরভের অভিজ্ঞতা, অন্য দিকে দর্শকদের প্রতিক্রিয়া, দুই নিয়েই এখন চর্চা চলছে।






