রাজ্য বাজেট পেশের দিনেই ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ নিয়ে বড় ঘোষণা করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের বাজেট ভাষণের পরই স্পষ্ট হয়ে যায়, রাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় জনমুখী প্রকল্পে ভাতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এতদিন সাধারণ শ্রেণির মহিলারা মাসে যে এক হাজার টাকা করে পেতেন, নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেই অঙ্ক বেড়ে হচ্ছে দেড় হাজার টাকা। অন্যদিকে তফসিলি জাতি, জনজাতি ও অন্যান্য পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের মহিলারা, যাঁরা এতদিন বারোশো টাকা পেতেন, তাঁরা এবার থেকে মাসে সতেরোশো টাকা পাবেন। ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই এই বর্ধিত ভাতা কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। এই ঘোষণার পর রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মহিলার মুখে স্বাভাবিকভাবেই হাসি ফুটেছে।
এই প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের তালিকায় নাম রয়েছে বিধায়ক পত্নী শ্রীময়ী চট্টরাজেরও। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠলেও শ্রীময়ীর বক্তব্য, এই প্রকল্প কোনও পেশা বা সামাজিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, বরং সকল মহিলার জন্যই প্রযোজ্য। তাঁর মতে, কোথাও লেখা নেই যে কোনও বিধায়কের স্ত্রী এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারবেন না। ভাতা বৃদ্ধির প্রসঙ্গে তিনি জানান, আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে বড় স্বস্তির খবর। বিশেষ করে তাঁর বাড়িতে কর্মরত পরিচারিকারা এই ঘোষণায় ভীষণ খুশি হয়েছেন এবং সেই উচ্ছ্বাসের কথা বারবার তাঁকে জানিয়েছেন।
তবে এই আনন্দের মাঝেই ব্যক্তিগত এক আক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন শ্রীময়ী চট্টরাজ। তিনি জানান, বর্তমানে তিনি নিজে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাচ্ছেন না। তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ডি অ্যাক্টিভেট হয়ে যাওয়ার কারণে ভাতা আসা বন্ধ হয়ে যায়। সেই সমস্যার সমাধান করে তিনি নতুন করে আবেদন করলেও এখনও পর্যন্ত সেই আবেদন মঞ্জুর হয়নি। শ্রীময়ীর কথায়, টাকা পেলে কার না ভালো লাগে। এই টাকা ঢুকলে তাঁরও যে খুব ভালো লাগত, তা তিনি অকপটে স্বীকার করেন। তবুও ব্যক্তিগত অসুবিধার বাইরে প্রকল্পটির সামগ্রিক উপকারিতাই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই নতুন হারে ভাতা উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকতে শুরু করবে। অর্থাৎ ভোটের আগেই রাজ্যের মহিলারা এই বাড়তি আর্থিক সহায়তা পেয়ে যাবেন। বর্তমানে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে উপভোক্তার সংখ্যা প্রায় দুই কোটি একুশ লক্ষ। পাশাপাশি আরও কুড়ি লক্ষ বাষট্টি হাজার মহিলার আবেদন জমা পড়েছে, যাঁদের ধাপে ধাপে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হবে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ মা-বাবার সামনেই যৌ*ন হেন’স্থা ও নানান রকম নি’র্যাতন! তরুণীর মুখে কনটেন্ট ক্রিয়েটর শমীককে ঘিরে চাঞ্চল্য তথ্য ফাঁস! রাজনীতির যোগ অস্বীকার অভিযোগকারিণীর?
সরকারি দাবি অনুযায়ী, নতুন ও পুরনো সমস্ত উপভোক্তাই বর্ধিত ভাতার সুবিধা পাবেন। ফলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার শুধুমাত্র একটি ভাতা প্রকল্প নয়, বরং রাজ্যের বিপুল সংখ্যক মহিলার কাছে আর্থিক ভরসার অন্যতম জায়গা হয়ে উঠছে। ভাতা বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের দৈনন্দিন সংসারে কিছুটা হলেও স্বস্তি দেবে বলেই মনে করছেন বহু মানুষ।






