“সাবিত্রী আন্টির সঙ্গে তো ৫ মিনিট বসেও কথা বলা যায় না”, “মাধবী আন্টির সঙ্গে আমার সম্পর্ক ঐতিহাসিক, প্রথম ওঁনাকে ‘মা’ আমিই ডেকেছি!” স্মৃতির ঝাঁপি খুললেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়! শৈশব থেকে আজকের দিন, দুই কিংবদন্তি অভিনেত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের অজানা সমীকরণ ভাগ করে একি বললেন বুম্বাদা?

টলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেত্রীদের সঙ্গে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের (Prosenjit Chatterjee) সম্পর্ক বরাবরই অত্যন্ত আন্তরিক। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তাঁকে মাধবী মুখোপাধ্যায় (Madhabi Mukherjee) এবং সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়কে (Sabitri Chatterjee) নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। দুই কিংবদন্তি অভিনেত্রী সম্পর্কেই নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন বুম্বাদা। মাধবী মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের শুরু অবশ্য অভিনয় জীবনের একেবারে শৈশবেই। মাত্র সাড়ে পাঁচ বছর বয়সে মাধবীর সঙ্গে ‘ছোট্ট জিজ্ঞাসা’ ছবিতে অভিনয় করেছিলেন প্রসেনজিৎ। ১৯৬৮ সালে মুক্তি পাওয়া ঋষিকেশ মুখোপাধ্যায় পরিচালিত সেই ছবিতেই শিশুশিল্পী হিসেবে তাঁর অভিনয়ের শুরু। ছবিতে মাধবী তাঁর মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন, আর প্রসেনজিতের বাবা বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায় ছিলেন তাঁর পর্দার বাবা।

সেই ছোটবেলার স্মৃতিই এখনও একইভাবে মনে রেখেছেন প্রসেনজিৎ। মাধবীকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, প্রথমে কিছুতেই তাঁকে ‘মা’ বলতে চাইতেন না ছোট্ট বুম্বা। তাঁর কথায়, “মাধবী আন্টির সঙ্গে আমার ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে, মাধবী আন্টি এখনও বলে জীবনের প্রথম মা ডাক উনি আমার মুখ থেকেই শুনেছেন।” প্রসেনজিৎ আরও জানান, “সেই ছবির শুটিংয়ের সময় আমার সাড়ে পাঁচ বছর বয়স কিছুতেই ওনাকে মা বলবো না শেষমেষ ওনার বাড়িতে রাখা হলো আমাকে।” এরপর ধীরে ধীরে মাধবীর সঙ্গে তাঁর অভ্যাস তৈরি হয় এবং পর্দার সম্পর্ক বাস্তবের স্নেহেও বদলে যায়। সেই সময় মাধবী নিজেও বিয়ে করেননি বলে জানিয়েছেন প্রসেনজিৎ।

আজও সেই সম্পর্ক এতটাই গভীর যে মাধবী একাধিকবার জানিয়েছেন, জীবনের শেষ ছবিটিও তিনি প্রসেনজিতের সঙ্গে করতে চান। ‘ছোট্ট জিজ্ঞাসা’ প্রসেনজিতের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ছবি হয়ে রয়েছে শুধু প্রথম অভিনয়ের কারণে নয়, আরও নানান স্মৃতির জন্য। অভিনেতার কথায়, ছবিটি সেই সময়ে বেশ বড় সাফল্য পেয়েছিল এবং বাংলার বাইরেও প্রশংসিত হয়েছিল। এমনকী কিংবদন্তি অভিনেতা রাজ কাপুরও ছবিটির স্বত্ব কিনতে আগ্রহী হয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন প্রসেনজিৎ। তবে তাঁর শর্ত ছিল, হিন্দি সংস্করণেও যেন ছোট্ট প্রসেনজিৎকে রাখা হয়। পরবর্তী সময়ে নায়ক হিসেবে হিন্দি ছবিতেও কাজ করেছেন বুম্বাদা, কিন্তু তাঁর অভিনয় জীবনের সেই প্রথম অধ্যায়ের সঙ্গে মাধবীর নাম অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে রয়েছে।

২০২৪ সালে নিজের আত্মজীবনী প্রকাশের সময় মাধবীও জানিয়েছিলেন, প্রসেনজিৎ তাঁর অত্যন্ত প্রিয় মানুষ এবং তাঁর সঙ্গে শেষ ছবিটি করতে চান। ফলে এত বছর পরেও তাঁদের সেই পুরনো সম্পর্কের জায়গাটি যে একই রকম রয়েছে, তা প্রসেনজিতের কথাতেও স্পষ্ট। এরপর সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রসেনজিতের গলায় ধরা পড়ে অন্যরকম মুগ্ধতা। তিনি বলেন, “সাবিত্রী আন্টির সঙ্গে তো পাঁচ মিনিট বসে কথা বলা যায় না, সেটা যে কখন পঞ্চাশ মিনিট হয়ে যাবে বোঝাও যাবে না।” তাঁর কথায়, সাবিত্রী এমন একজন মানুষ, যাঁর সঙ্গে কথা বলতে শুরু করলে সময়ের হিসেব রাখা কঠিন। কারণ তাঁর কথার মধ্যে কখনও থাকে মজা, আবার কখনও উঠে আসে জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা।

প্রসেনজিৎ বলেন, “এত রকম কথা বলেন উনি, কখনও মজার ও কখনও বাস্তবের, খুব ভালো লাগে।” এরই সঙ্গে বর্ষীয়ান অভিনেত্রী সম্পর্কে নিজের শ্রদ্ধার জায়গাটি আরও স্পষ্ট করে তিনি বলেন, “আমার কাছে শুধু ভারতবর্ষের নয় বিশ্বের সেরা অভিনেত্রীদের মধ্যে অন্যতম সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়।” সাবিত্রীকে নিয়ে তাঁর এই মন্তব্য যে নিছক প্রশংসা নয়, বরং দীর্ঘদিনের পরিচয় ও শ্রদ্ধা থেকেই এসেছে, সেটিও তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট। সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে প্রসেনজিতের সাম্প্রতিক সাক্ষাৎও তাই বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২৬ সালের জুনে নিজের প্রযোজনায় আসন্ন ছবি ‘অনেকদিন পর’-এর আমন্ত্রণ জানাতে সাবিত্রীর বাড়িতে পৌঁছেছিলেন প্রসেনজিৎ। সেখানেই তিনি নিজের বাবা বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাবিত্রীর ফোনে কথা বলিয়ে দেন।

আরও পড়ুনঃ “নিঃসন্দেহে সেরা অভিনেত্রী…সকালবেলা নায়িকা আর বিকেলবেলা ভিলেন!” “মমতাদি সৌজন্য দেখিয়েছিলেন, বিশ্বাসঘাত’করা প্রমাণ করেছে…” হাওয়া বুঝে কোয়েলের বিজেপিতে যোগদান নিয়ে মুখ খুলেই নজিরবিহীন আক্র’মণ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের! দলবদলু নায়িকাকে দেখালেন নিজের জায়গা?

বহু বছর পর দুই বর্ষীয়ান শিল্পীর কথোপকথনে ফিরে আসে পুরনো দিনের শুটিং এবং থিয়েটারের স্মৃতি। সেই আড্ডায় সাবিত্রী মজার ছলে বিশ্বজিৎকে বলেন, আগে তাঁর সঙ্গে ডেট করতেন, এবার তাঁর ছেলের সঙ্গে ডেট করবেন। কথাটি শুনে পাশে বসে হাসতে দেখা যায় প্রসেনজিৎকে। বর্ষীয়ান শিল্পীদের নিয়ে নিজের এই সাম্প্রতিক ব্যস্ততার প্রসঙ্গেই তিনি জানিয়েছেন, এমন সব অভিনেতা-অভিনেত্রীর সান্নিধ্য পেয়ে নিজেকে অত্যন্ত ভাগ্যবান মনে করেন।

You cannot copy content of this page