মাঝরাতে নাকি শ্যামৌপ্তিকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে বাধ্য করেছিলেন রণজয়? বড় পর্দায় স্ত্রীর সাফল্য নিয়ে অস্ব’স্তি, বয়সের ফারাক নিয়ে মান’সিক চাপ থেকে আর্থিক টানাপোড়েন, বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই রণজয়-শ্যামৌপ্তির সংসার ভাঙনের নেপথ্যে বি*স্ফোরক অভিযোগ! সূত্রের খবরে প্রকাশ্যে এলো একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য?

বাংলা বিনোদন জগতে গত কয়েক মাস ধরে অভিনেতা রণজয় বিষ্ণু এবং অভিনেত্রী শ্যামৌপ্তি মুদলির সম্পর্ক নিয়ে নানা জল্পনা চলছে। সম্প্রতি দ্য ওয়াল-এর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী তাঁদের দাম্পত্য জীবন নিয়ে একাধিক অভিযোগ ও দাবি সামনে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইন্ডাস্ট্রির একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই রণজয় ও শ্যামৌপ্তির সম্পর্কে অশান্তি চলছিল। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছায় যে বিচ্ছেদের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে বলে খবর। সংবাদপত্রের দাবি, বিয়ের সময় পাওয়া অর্থ এবং পরবর্তী আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করেই মূল মতবিরোধের সূত্রপাত। সূত্রের দাবি, বিয়ের পর বেশ কিছু নগদ আর্থিক লেনদেন হয়েছিল, যার কোনও লিখিত নথি শ্যামৌপ্তির কাছে নেই। একইসঙ্গে সম্পত্তি নিয়েও মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও দাবি করা হয়েছে, শ্যামৌপ্তির নিজের নামে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে যেখানে তাঁর বাবা-মা থাকেন। এছাড়া একটি গাড়ি রণজয়ের নামে কেনা হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে এবং সেই গাড়ির মালিকানা ফের নিজের নামে আনার চেষ্টা করছেন অভিনেত্রী। সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, সম্পর্কের শুরুটা স্বাভাবিক হলেও সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি বদলাতে থাকে। শ্যামৌপ্তি একটি বড় প্রযোজনার ছবিতে সুযোগ পাওয়ার পর থেকেই সম্পর্কে অস্বস্তি বাড়তে শুরু করে বলে ইন্ডাস্ট্রির একাংশের বক্তব্য। তাঁদের দাবি, পেশাগত প্রতিযোগিতার প্রভাব ব্যক্তিগত সম্পর্কেও পড়েছিল। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, রণজয়ের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও আত্মবিশ্বাসের অভাব কাজ করত বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এমনও দাবি করা হয়েছে, শ্যামৌপ্তির সাফল্য সহজভাবে নিতে পারতেন না তিনি এবং ধীরে ধীরে স্ত্রীকেও প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখতে শুরু করেছিলেন। যদিও এই সমস্ত অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্ধুত্ব এবং সামাজিক সম্পর্ক নিয়েও তাঁদের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। সংবাদপত্রটির সূত্রের বক্তব্য, শ্যামৌপ্তির কয়েকজন ঘনিষ্ঠ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা নিয়ে রণজয়ের আপত্তি ছিল। এমনকি এক পুরনো বন্ধুর সঙ্গে কথা বলাকে কেন্দ্র করেও একাধিকবার অশান্তির সৃষ্টি হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি আর্থিক আচরণ নিয়েও গুরুতর অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সামান্য খরচ করলেও পরে তার বহুগুণ ফেরত পাওয়ার মানসিকতা ছিল রণজয়ের।

এমনও অভিযোগ উঠেছে যে আর্থিক স্বার্থই এই বিয়ের অন্যতম উদ্দেশ্য হয়ে উঠেছিল। তবে এই সমস্ত অভিযোগও সংশ্লিষ্ট সংবাদপত্রে প্রকাশিত দাবি মাত্র। দাম্পত্য জীবন নিয়েও প্রতিবেদনে একাধিক অভিযোগের উল্লেখ রয়েছে। সংবাদপত্রটির দাবি, বয়সের পার্থক্য নিয়ে প্রায়ই শ্যামৌপ্তিকে মানসিক চাপে রাখা হত। এছাড়া নিয়মিত অশান্তি, চিৎকার, অশালীন ভাষা ব্যবহার এবং ধাক্কাধাক্কির অভিযোগও প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে। এমনকি এক রাতে তাঁকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পরিবারকেও কেন্দ্র করে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সংবাদপত্রটির সূত্রের দাবি, বিয়ের অধিকাংশ খরচ শ্যামৌপ্তির পরিবার বহন করেছিল।

বিয়ের পর দীর্ঘদিন শ্বশুরবাড়ির একাধিক সদস্য একসঙ্গে থাকতেন, যা নিয়েও মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিস্থিতি প্রকাশ্যে আসার আগে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টাও হয়েছিল। শ্যামৌপ্তির সঙ্গে মুখোমুখি বসে একাধিকবার কথা বলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলেও সংবাদপত্রটির দাবি। তবে সেই চেষ্টা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি বলেই ইন্ডাস্ট্রির ঘনিষ্ঠ মহলের বক্তব্য। এর পর থেকেই টলিপাড়ায় বিচ্ছেদের জল্পনা আরও জোরালো হতে শুরু করে। যদিও এই বিষয়ে দুই পক্ষের কেউই প্রকাশ্যে বিস্তারিত মন্তব্য করেননি। ফলে বিষয়টি এখনও জল্পনার পর্যায়েই রয়েছে।

রণজয় বিষ্ণু ও শ্যামৌপ্তি মুদলির প্রেমের শুরু থেকেই তাঁদের সম্পর্ককে অনেকেই টলিপাড়ার অন্যতম জনপ্রিয় জুটি হিসেবে দেখতেন। কিন্তু বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই বিচ্ছেদের জল্পনা ছড়িয়ে পড়ায় অনুরাগীদের মধ্যে বিস্ময় তৈরি হয়েছে। এই বিষয়ে সংবাদপত্রটির পক্ষ থেকে রণজয়ের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে শ্যামৌপ্তি সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “এই ব্যাপারে কোনও মন্তব্য নেই।” সম্প্রতি বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও তাঁদের একসঙ্গে খুব একটা দেখা যাচ্ছে না।

আরও পড়ুনঃ ‘মর্নিং শোস দ্য ডে, ৩ মাস হতে চলল….শুধু চোখ রাঙানি, শা’সানি, বুলডোজার ও থ্রে’ট চলছে!’ ‘যা দেখছি, তাতে ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কা বাড়ছে!’ এভাবেই কি বদলের প্রতিশ্রুতি পূরণ হচ্ছে? মাত্র তিন মাসেই বিজেপি সরকারের কার্যপদ্ধতিতে চরম হতাশ পরমা বন্দ্যোপাধ্যায়! কী দেখে এতটা ক্ষুব্ধ জনপ্রিয় সঞ্চালিকা? বাস টিকিট থেকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার, ঠিক কোন কোন ইস্যুতে তুললেন প্রশ্ন?

তবে আর্টিস্টস ফোরামের একটি অনুষ্ঠানে শেষবার তাঁদের একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, এই সমস্ত তথ্য বিভিন্ন সূত্র এবং ইন্ডাস্ট্রির ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি। অভিযোগগুলির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি রণজয় বিষ্ণু কিংবা শ্যামৌপ্তি মুদলি, কেউই প্রকাশ্যে এই অভিযোগগুলি স্বীকার বা অস্বীকার করেননি। তাই এই প্রতিবেদনে প্রকাশিত সমস্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট সংবাদপত্রে প্রকাশিত দাবি হিসেবেই তুলে ধরা হয়েছে।

You cannot copy content of this page