“বন্ধুত্বে হয়, ভালোবাসায় ‘তুই-তোকারি’ চলে না…সম্পর্কের ভিত নড়বড়ে করে দেয়!” “একটু মজার জন্য যেটা করছ, সেটা সম্পর্ককে ভঙ্গুর করছে!” প্রেমে সম্মানের বিকল্প হতে পারে না, গভীর সংযোগ না থাকলে সম্পর্ক টেকে না! নতুন প্রজন্মকে কী সতর্কবার্তা শোনাচ্ছেন দীপঙ্কর দে?

বসন্ত এসেছে, ভালোবাসার সপ্তাহ চলছে। চারপাশে যেন প্রেমের আভা ভেসে বেড়াচ্ছে, কোথাও ফুল ফুটেছে, তো কোথাও বাতাসে মধুর গন্ধ! ঠিক এই মুহূর্তে অনেকেই মনে অতীতের হাতছানি। আর নতুন প্রজন্মের কাছে? তাঁদের কাছে ভালোবাসা মানেই যেন সামাজিক মাধ্যমে ফ্লার্ট, তুই-তোকারি ভাব, কফি হাউজে ছবি তোলা কিংবা ঘুরতে যাওয়া ভাবেন। বর্ষীয়ান অভিনেতা ‘দীপঙ্কর দে’ (Dipankar Dey) এমনটাই মনে করেন! তাঁর কথায়, সত্যিকারের প্রেম কিন্তু এমন ছোট ছোট মুহূর্তের মেলবন্ধন নয়।

তার দৃষ্টিতে প্রেম মানে গভীর বোঝাপড়া, একে অপরের প্রতি নির্ভরশীলতা আর মন থেকে সম্পর্কের সৌন্দর্য উপলব্ধি করা। দীপঙ্করর কথায়, আজকের জেন জি বা নয়া প্রজন্মের অনেক সম্পর্ক শুরুতেই ভেঙে যায়, যার প্রধান কারণ হচ্ছে প্রেমটা অনেকাংশে বন্ধুত্বের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। পারস্পরিক সম্মানের জায়গায়, ঢুকে পড়েছে “তুই-তোকারি” সংস্কৃতি! তারা সেটাকে “প্রেম” বললেও অনেক সময় তা শুধু মজার খেলা বা সাময়িক আনন্দের ছলনা হয়! তিনি সব সময়ই তরুণদের একটা কথাই বলতে চান।

তারা যা করছে তা ভালোই কিন্তু অন্তরে, আচরণে, ব্যবহারেই যেন গভীরতা থাকে! একে অপরের উপর নির্ভরতা, বোঝাপড়া আর আন্তরিকতা থাকলেই প্রেম সত্যি হতে পারে! প্রসঙ্গত, দীপঙ্কর দে এবং দোলন রায়ের সম্পর্ক কিন্তু এরকমই কিছুটা ব্যতিক্রম। ১৯৯০-এর দশকে তারা একে অপরের প্রতি ভালোবাসা অনুভব করতে শুরু করেন। তখন দীপঙ্কর বিবাহিত ছিলেন এবং বয়সে ছিলেন অনেক বড়, প্রায় ২৬ বছরের ফারাক! তবুও কোনও বাধা তাদেরকে থামাতে পারেনি।

মানুষের নানান অভিযোগ, সন্দেহ বা খ্যাতির উদ্দেশ্যর মধ্যেও তারা একে অপরকে বেছে নেন। উল্লেখ্য, ২০২০ সালে তারা আইনত বিয়ে করেন। তখন দীপঙ্করের বয়স ৭৫ এবং দোলনের ৪৯। সম্পর্কের দীর্ঘ পথ পেরিয়েও, আজও তাদের ভালোবাসার তীব্রতা অটুট। দোলনের ভিজে চুল আর সিঁদুরে ভরা সিঁথি আজও দীপঙ্করের মন খুশিতে ভরে দেয়, যৌবনের প্রেমের মতো। তাদের কথায়, এই সম্পর্কের মূল শক্তি হচ্ছে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বোঝাপড়া এবং বিশ্বাস।

আরও পড়ুনঃ “আইফেল টাওয়ারের আলোয় শুরু, আজও হৃদয়ে ভরা রোম্যান্স!” বয়স বাড়লেও প্রেমের জ্বালা অটুট! প্রেমের মরশুমে নিজেদের ভালোবাসার গল্প শোনালেন কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায় ও লাবণী সরকার! দাম্পত্যে রোম্যান্সের সংজ্ঞা নিয়ে কী বললেন তারকা দম্পতি?

যা দীপঙ্কর মনে করেন, সত্যিকারের প্রেমের মূল। আজকের দিনেও দীপঙ্করের তাই বার্তা স্পষ্ট, প্রেম মানে শুধু সাময়িক আনন্দ নয়। এটি হলো গভীর সংযোগ, একে অপরের প্রতি দায়িত্ববোধ আর একে অপরকে বোঝার চেষ্টা। বয়স, সময় বা বাহ্যিক পরিস্থিতি কখনো প্রেমকে নির্ধারণ করে না। আসল প্রেম হলো অন্তর থেকে অনুভূত সম্পর্ক, যেখানে দুজন একে অপরকে সম্মান করে, পাশে থাকে এবং জীবনের প্রতিটি ধাপ একসাথে এগিয়ে নিয়ে যায়।

You cannot copy content of this page