অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিকের রাজনৈতিক অবস্থান বদল ঘিরে বাংলার রাজনীতিতে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে তৃণমূলের হয়ে রাজ্যসভায় শপথ নিয়েছিলেন কোয়েল। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই সেই পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে বিজেপির দিকে পা বাড়ান তিনি। ১৬ জুলাই রাজ্যসভা সাংসদ পদ ছাড়ার পর থেকেই তাঁর বিজেপিতে যোগদানের জল্পনা তৈরি হয়েছিল। অবশেষে অক্টোবরের শুরুতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেন কোয়েল এবং তাঁর ছেড়ে যাওয়া রাজ্যসভা আসনের উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থীও হন।এই দলবদল নিয়েই এবার নিজের প্রতিক্রিয়া জানালেন যাদবপুরের বিধায়িকা শর্বরী মুখোপাধ্যায়। কোয়েলকে তৃণমূলে দেখে তিনি আগেও অবাক হয়েছিলেন বলে জানালেন।
কোয়েল সম্পর্কে বলতে গিয়ে শর্বরী বলেন, “কোয়েলকে আমি যতটুকু চিনি, নিশ্চয়ই ওঁ তৃণমূলে গেছিল, কেন তৃণমূলে ছিল, আপনারা যদি পুরানো বাইট দেখেন, দেখবেন আমার একটা বাইট আছে।” তাঁর কথায়, কোয়েল খুব ভালো মানুষ এবং খুব ভালো শিল্পী। তাই তাঁকে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে দেখে তিনি তখনই অবাক হয়েছিলেন। শর্বরীর বক্তব্য, “আবারও বললাম তৃণমূলে ওঁকে দেখে আমি অবাক হয়েছিলাম।” এমনকি কোয়েল তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ হবেন, সেটিও তিনি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে ভাবতে পারেননি বলে জানান। তাঁর দাবি, কোয়েলের পরিবারে ছোটবেলা থেকেই হিন্দু পরম্পরা ও হিন্দু সংস্কৃতির প্রভাব রয়েছে। সেই কারণেই কোয়েলকে তৃণমূলে দেখে তাঁর বিস্ময় তৈরি হয়েছিল বলে ব্যাখ্যা করেছেন বিধায়িকা।
তবে কোয়েলের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকে সরাসরি ভুল বলছেন না শর্বরী। নিজের দলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বোঝান, একজন নেতার কোনও সিদ্ধান্ত দলের নিচুতলার কর্মীর কাছে সবসময় একইভাবে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। শর্বরীর কথায়, “অনেক বড় করে ভাবতে হয়। যেটা হয়ত আমরা আমাদের জায়গা থেকে ভাবতে পারিনা।” নিজের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, তাঁর কোনও সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁর বুথ সভাপতিও হয়তো প্রশ্ন তুলতে পারেন, “শর্বরীদি এটা কেন করল?” তাঁর মতে, কোনও সিদ্ধান্তে কোনও কার্যকর্তার খারাপ লাগতেই পারে। কিন্তু সেই জায়গা থেকে দলীয় নেতৃত্বের উপর আস্থা হারানো উচিত নয়। তাই তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, “ভরসা রাখুন, দলীয় নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখুন। দলের প্রতি আনুগত্য রাখাটাই একমাত্র কাজ।”
কোয়েলের দলবদলের প্রসঙ্গের মাঝেই বিগ বস বাংলা নিয়েও শর্বরীর মন্তব্য নতুন চর্চা তৈরি করেছে। সম্প্রতি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিগ বসের ঘরে ওয়াইল্ড কার্ড হিসেবে আনার দাবি ঘিরে আলোচনা হয়েছিল। এর আগে স্যান্ডি সাহাও মমতাকে বিগ বস বাংলায় আনার কথা বলে বিতর্ক তৈরি করেছিলেন এবং তাঁকে অনুষ্ঠানে দেখতে চান বলে মন্তব্য করেছিলেন। সেই প্রসঙ্গেই শর্বরী মমতাকে কটাক্ষ করে বলেন, “উনিই যান বরং আমরা তো একটা লাগাতার কমেডি দেখেছি, উনি যান।” এরপর তিনি মমতার সাম্প্রতিক নানা বিষয় নিয়ে কটাক্ষ করে বলেন, “কারণ এখন ওঁনার ওটি একটি নিশ্চিত জায়গা আছে। কারণ ওই এখন নানারকম বেরোচ্ছে, তো ব্যান্ডেজ কীভাবে করেছেন পায়ে মাথায় হাতে, ওনার ওখানে যাওয়া উচিত।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহল এবং নেটমাধ্যমে ফের আলোচনা শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ “ওর যদি ভালো লাগে…ছেলের পছন্দের পথে বাধা হতে চাই না” নন্দিনীকে কি বৌমা হিসেবে মনে ধরেনি রাজবীরের মায়ের, দিলেন পরোক্ষ ইঙ্গিত? ছেলের জীবনসঙ্গী নিয়ে কী ভাবছেন? দু’জনের প্রেম কি সত্যিই গড়াবে বিয়ে পর্যন্ত, নাকি শো শেষ হলেই বদলে যাবে সমীকরণ? বিগ বসের ঘরে রাজবীর-নন্দিনীর ঘনি’ষ্ঠতা ও সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে মায়ের মন্তব্যে বাড়ল জল্পনা!
অন্যদিকে নিজে বিগ বসের প্রস্তাব পেলে তিনি অনুষ্ঠানে যাবেন কি না, সেই প্রশ্নেরও সরাসরি উত্তর দিয়েছেন শর্বরী। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমার সময় নেই।” কারণ তাঁর সামনে এখন রাজনৈতিকভাবে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। শর্বরীর বক্তব্য, “সামনে তিন লক্ষ মানুষের দায়িত্ব আমার কাঁধে সামনে কর্পোরেশন ইলেকশন, ১৬ তে, ১৬ পেতে হবে।” অর্থাৎ নিজের বিধানসভা এলাকার মানুষের দায়িত্ব এবং আসন্ন পুরসভা নির্বাচন নিয়েই এখন তাঁর মূল ব্যস্ততা। ফলে বিনোদনের কোনও রিয়্যালিটি শোতে যাওয়ার মতো সময় তাঁর হাতে নেই বলেই জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, “ফলে আমার এখন এছাড়া আর কোনো সময় নেই।” কোয়েলের বিজেপিতে যোগদান নিয়ে মন্তব্য থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিগ বসে যাওয়ার পরামর্শ, শর্বরীর বক্তব্যের একাধিক অংশ নিয়েই এখন তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক ও বিনোদনমূলক চর্চা।






