বিগ বস বাংলার ঘরে সৃজলা গুহ এবং নন্দিনী দত্তকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক যেন কিছুতেই থামছে না। আগের ক্যাপ্টেনসি টাস্কে নন্দিনীর ধাক্কায় ঘোড়া থেকে পড়ে গিয়ে চোট পেয়েছিলেন সৃজলা। এরপর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং কয়েকদিন চিকিৎসার পর আবার বিগ বসের ঘরে ফিরেছেন তিনি। ফিরে এসে দাদার দরবারে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সামনে নিজের সেই কঠিন অভিজ্ঞতার কথাও জানিয়েছিলেন সৃজলা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পাঁচদিন হাসপাতালে থাকতে হয়েছিল এবং সারা শরীরে চিকিৎসার নানা প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছিল তাঁকে। সেই ঘটনার পর নন্দিনীও নিজের ভুলের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করে কেঁদে ফেলেছিলেন। কিন্তু এবার সৃজলার পরবর্তী আচরণ নিয়েই নতুন করে প্রশ্ন তুলছেন বিগ বসের দর্শকদের একাংশ।
দর্শকদের একাংশের বক্তব্য, সাম্প্রতিক পর্বে সৃজলাকে যেভাবে হাঁটতে দেখা গিয়েছে, তা দেখে তাঁদের অনেকেরই মনে হয়েছে তাঁর আঘাত হয়তো এতটা গুরুতর নয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন, সত্যিই কি এতটা কষ্ট হচ্ছে, নাকি ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা চলছে। কেউ কেউ সরাসরি বলছেন, সৃজলা নাকি ‘নাটক’ করছেন এবং ‘সিমপ্যাথি গেম’ খেলছেন। অবশ্য এগুলি দর্শকদের মন্তব্য এবং সৃজলার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে নিশ্চিত কোনও তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর আগেও তাঁর চোটকে ঘিরে নেটমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল এবং দুই পক্ষের বক্তব্য সামনে এসেছিল। সৃজলার টিম জানিয়েছিল, গেমের নামে কারও শারীরিক ক্ষতি মেনে নেওয়া যায় না এবং তাঁরা নন্দিনীর কোনও ক্ষমা গ্রহণ করছেন না। অন্যদিকে নন্দিনীর টিমের দাবি ছিল, ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত ছিল না এবং খেলার উত্তেজনার মধ্যেই ভুল হয়ে গিয়েছিল।
এর মধ্যেই দর্শকদের আর একটি প্রশ্ন নন্দিনীকে ঘিরে। তাঁদের একাংশের মতে, নন্দিনী বারবার নিজের ভুল স্বীকার করে সৃজলার কাছে ক্ষমা চাইলেও বিষয়টি এখনও শেষ করতে চাইছেন না সৃজলা। দাদার দরবারে সৃজলার কথা শুনে নন্দিনী আবেগপ্রবণ হয়ে কেঁদেছিলেন এবং জানিয়েছিলেন, তাঁর জন্য কারও এতটা ক্ষতি হবে তিনি ভাবেননি। নন্দিনী আরও বলেছিলেন, ঘটনাটি শুধু বিগ বসের ঘরের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে তাঁর জীবনের জন্যও অভিশাপ হয়ে থেকে যাবে বলে মনে হচ্ছে। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ও নন্দিনীকে ফাইনাল ওয়ার্নিং দিয়েছিলেন এবং জানিয়েছিলেন, শেষ বিচার করবেন দর্শকরাই। অন্যদিকে সৃজলা জানিয়েছিলেন, হাসপাতালে থাকার অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে অত্যন্ত কষ্টকর ছিল এবং অচেনা শহরে একা থাকতে হয়েছিল তাঁকে। এই পুরনো ঘটনা নিয়েই দুজনের মধ্যে দূরত্ব এখনও পুরোপুরি কাটেনি বলেই মনে করছেন শোয়ের দর্শকদের একাংশ।
শুধু নন্দিনীর ক্ষমা না নেওয়া নয়, এবার বিগ বসের বিরুদ্ধেও অভিযোগের সুর শোনা যাচ্ছে সৃজলার দিক থেকে। দর্শকদের একাংশের দাবি, সৃজলা বারবার বিষয়টিকে সামনে এনে বিগ বসের সিদ্ধান্ত এবং আচরণ নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন। তাঁদের অভিযোগ, শোয়ের কর্তৃপক্ষ নাকি সৃজলার ক্ষেত্রে একরকম এবং অন্য প্রতিযোগীদের ক্ষেত্রে অন্যরকম আচরণ করছেন। এই কারণেই পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও উঠছে বলে দর্শকদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। অন্যদিকে আগের ঘটনায় নন্দিনীর টিম স্পষ্ট জানিয়েছিল, কাউকে ইচ্ছা করে আঘাত করার কোনও উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না। সৃজলার টিম অবশ্য পাল্টা জানিয়েছিল, গেম স্ট্র্যাটেজির নামে শারীরিক ক্ষতি সমর্থন করা যায় না। ফলে দুই পক্ষের বক্তব্যের পাশাপাশি এখন দর্শকদের প্রতিক্রিয়াও এই বিতর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে।
আরও পড়ুনঃ “দিঘার মন্দিরে ঢুকতেই দেয়নি, দিদির সামনে যেতে না দেওয়াই ছিল ওদের মূল উদ্দেশ্য” আমন্ত্রণ পেয়েও কেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেননি ইমন চক্রবর্তী? ৩-৪ কিলোমিটার হেঁটে পৌঁছেও মেলেনি সুযোগ, দূরে এক কোণায় বসতে হয়েছিল গায়িকাকে! কেন এমন ব্যবহার করা হয়েছিল তাঁর সঙ্গে? সরকার বদলাতেই, দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনীতে ঠিক কী ঘটেছিল, ফাঁস করলেন নিজেই?
এদিকে নতুন রাজনৈতিক টাস্কেও সৃজলার উত্তেজিত আচরণ ফের আলোচনায় এসেছে। লাক্সারি বাজেটের জন্য বিগ বস ঘরে ‘নীল হরিণ’ এবং ‘আগুনপাখি’ নামে দুটি দল তৈরি করেছিলেন। আগুনপাখির নেতৃত্বে ছিলেন দুর্নিবার সাহা এবং নীল হরিণের দায়িত্বে ছিলেন জিতু কমল। এই টাস্কে কাঁচা লঙ্কা চিবিয়ে প্রচার করার শর্ত নিয়ে সৃজলা, রাজবীর এবং অন্যদের মধ্যে তুমুল ঝামেলা শুরু হয়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে রাজবীর দলের পতাকা ফেলে দেন এবং অনুষ্কা পালটা সেই পতাকা ছিঁড়ে ফেলেন। এরপর রাজবীর আগুনপাখির প্রতীকের পাজল পিস সরিয়ে দিলে রেগে গিয়ে সৃজলা নীল হরিণের প্রতীক ভেঙে দেন। শেষে তাঁকে সামলাতে না পেরে নিরঞ্জন কোলে তুলে সৃজলাকে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যান, আর এই পুরো ঘটনাতেই দর্শকদের প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।






