“আমি তো কোনও ক্রি’মিনাল নই…শহর ছেড়ে চলে যাব, ২৯ মার্চের পর থেকে ক্রমাগত আক্র’মণ করা হচ্ছে” রাহুলের মৃ’ত্যুর ২৪ দিন পর, অবশেষে প্রকাশ্যে শ্বেতা মিশ্র! সেদিনের পর কী কী ঘটেছে তাঁর জীবনে? এতদিন চুপ কেন? জানালেন অভিনেত্রী নিজেই!

মৃ’ত্যুর কাঁটাযুক্ত স্মৃতি, অবশেষে ২৪ দিন পর মুখ খুললেন অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্র। ২৯ মার্চ ঘটে যাওয়া সেই দুর্ঘটনার পর থেকে প্রায় তিন সপ্তাহ পার হয়ে গেল। মাঝখানে, দুর্ঘটনার পর একবারও কোথাও কোনো মন্তব্য কিংবা আপডেট পাওয়া যায়নি শ্বেতার কাছ থেকে। রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর থেকে সামাজিক মাধ্যম এবং সংবাদমাধ্যমে তাকে নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন উঠে চলেছে। এমন পরিস্থিতিতে শ্বেতা নিজেই অবশেষে প্রকাশ্যে আসেন এবং তার কথা শোনান। রাহুলের মৃত্যুর পর শ্বেতার যে ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছিল, সেটি নিয়ে একাধিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। হাসপাতালে বসে থাকা শ্বেতা বলেছিলেন, “রাহুলদা ঠিক আছে তো? আমি তো ঠিক আছি, রাহুলদা তো আধ ঘণ্টা আগে আমার সঙ্গে শুটিং করছিল।”

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর শ্বেতার বোন সালনি মিশ্র সোশ্যাল মিডিয়ায় সবাইকে অনুরোধ করেন ভিডিওটি শেয়ার না করতে এবং শ্বেতাকে পর্যাপ্ত সময় ও সম্মান দেওয়ার জন্য। তবে, প্রায় তিন সপ্তাহ পর, একটি ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে শ্বেতার নাম ফের সামনে আসে। ফেসবুকে শ্বেতার একটি প্রোফাইল থেকে কিছু ছবি পোস্ট করা হয়, যা তিনি একেবারেই স্বীকার করেননি। শ্বেতা জানিয়েছেন, সেই ফেসবুক প্রোফাইল তার নয় এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে কোনো সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করেন না, শুধু ইনস্টাগ্রামে তার একটি প্রোফাইল রয়েছে। তিনি আরও বলেন, “ঘটনার পর থেকে আমি কোথাও কিছু লিখিনি বা পোস্ট করিনি।”

শ্বেতা জানান, এই ঘটনায় তিনি একেবারেই স্বাভাবিক হতে পারছেন না। তিনি বলেন, “ঘটনার পর এক মুহূর্তের জন্যও আমি বাইরে বেরোতে পারিনি। সবাই আমাকে আটকিয়ে রেখেছে, কিন্তু আমি তো কোনো অপরাধ করিনি, আমি তো ক্রিমিনাল নই।” শ্বেতার এই অবস্থার কথা শুনে বোঝা যায় যে, তিনি এখনও মানসিকভাবে ওই ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে পারেননি। শ্বেতা একটানা বললেন, “আমি জানি, আমাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে হবে, কিন্তু তা পারছি না। একবার মনে হচ্ছিল, হয়তো শহর ছেড়ে চলে যাব, কারণ ক্রমাগত এই আক্রমণগুলো সহ্য করা খুব কঠিন হয়ে উঠেছে।”

রাহুলের মৃত্যুর পর থেকে বিভিন্ন মহলে নানা ধরনের অভিযোগ উঠেছে। রাহুলকে শুটিংয়ের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে গাফিলতির অভিযোগ তোলা হয়েছে। এই ঘটনায় টলিউডে শোকের পাশাপাশি উত্তেজনাও তৈরি হয়েছে। সিরিয়ালের প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, এবং এফআইআরও দায়ের করা হয়েছে। তবে, শ্বেতা তার কোনো দোষ দেখছেন না এবং মনে করেন, তাকে একেবারে একা দায়ী করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতি নিয়ে তিনি আরও জানান, “এখন সবাই আমার দিকে আঙুল তুলছে, কিন্তু আমি কিছুই করতে পারছি না।”

দুর্ঘটনা এবং রাহুলের মৃত্যুর পর শ্বেতা একেবারেই মিডিয়ার সামনে আসেননি। এমনকি, রাহুলের শেষকৃত্যেও তাকে দেখা যায়নি। এর ফলে, তাকে নানা ধরনের সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। অনেকেই মনে করেছিলেন, শ্বেতা কেন এমন ঘটনার পর প্রকাশ্যে আসছেন না, কেন শোকে ভেঙে পড়ছেন না। তবে শ্বেতা জানান, তিনি এখনও খুব অসুস্থ। এর পরেও, তার অনেক ভক্ত ও পরিচিতজনেরা শ্বেতাকে তার প্রাইভেসি ও ব্যক্তিগত সময় দিতে বলেছেন। তবে, সমাজমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে ওঠা কটাক্ষে শ্বেতা মনে করেন, এভাবে তার মানসিক অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে।

মধ্যরাতেই ‘নতুন সম্পর্কের’ সিলমোহর, প্রকাশ্যে আনলেন প্রেমিককে? বিচ্ছেদের পর শ্রীময়ীর সঙ্গে কাঞ্চনের সুখী সংসার, এবার পিঙ্কি বন্দ্যোপাধ্যায়ও খুঁজে পেলেন নিজের জীবনসঙ্গী? অবশেষে শুরু করলেন নতুন অধ্যায়, অভিনেত্রীর এই মনের মানুষটি কে?

আরও পড়ুনঃ মধ্যরাতেই ‘নতুন সম্পর্কের’ সিলমোহর, প্রকাশ্যে আনলেন প্রেমিককে? বিচ্ছেদের পর শ্রীময়ীর সঙ্গে কাঞ্চনের সুখী সংসার, এবার পিঙ্কি বন্দ্যোপাধ্যায়ও খুঁজে পেলেন নিজের জীবনসঙ্গী? অবশেষে শুরু করলেন নতুন অধ্যায়, অভিনেত্রীর এই মনের মানুষটি কে?  

এই পরিস্থিতিতে, শ্বেতা জানিয়ে দিয়েছেন, তার এখন সময় প্রয়োজন। তিনি স্বীকার করেছেন যে, তার জন্য এই ঘটনার ধাক্কা সহজে কাটিয়ে উঠা সম্ভব হচ্ছে না। একে একে, মানুষ যখন তাকে দোষারোপ করছে, তখন তার পক্ষে আগের মতো স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে, শ্বেতা আশাবাদী, শীঘ্রই সে পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন।

You cannot copy content of this page