ভোটের দিনগুলো ছিল একসময় ছোট-বড় সকলের জন্য এক বিশেষ উপলক্ষ্য। সত্তরের দশকে অভিনেতা খরাজ মুখোপাধ্যায় যখন প্রথম ভোট দেন, তখনকার পরিবেশ এখনকার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ছিল। সে সময় রাজ্যে অস্থিরতা ছিল, কিন্তু তা এখনকার মতো ভয়াবহ ছিল না। তখন ভোটের দিন মানে ছিল ছুটির মেজাজ, যেখানে মানুষ ভোট দিতে যেতেন অনেকটা উৎসাহের সঙ্গে। খরাজদা স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে বলেন, “বাবার হাত ধরে ভোট কেন্দ্রের দিকে যেতাম। পোলিং অফিসাররা আমাকে দেখে বেশ আদর করতেন, বলতেন ‘তুমি ভোট দেবে?’ আমি মাথা নেড়ে বলতাম, ‘হ্যাঁ দেব।’ তখনকার সেই সময়ের শ্রীময় অনুভূতি এখন আর পাওয়া যায় না।”
এখনকার ভোটের দিন আর সেই সময়ের তুলনায় যেন আকাশ-পাতাল পার্থক্য। খরাজ মুখোপাধ্যায় বলেন, “আজকাল ভোটে যাওয়ার মানে যেন এক যুদ্ধক্ষেত্রে চলে যাওয়া। রাস্তায় বেরোলেই দেখা যায় পুলিশ ও বন্দুকের নল। ভোট কেন্দ্রের বাইরে থাকে উর্দিধারী নিরাপত্তা কর্মীরা, যারা নানা ধরনের ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে।” সত্তরের দশকে এমন পরিস্থিতি ছিল না। মানুষ তখন ভোট দিতে গিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতেন, যেখানে অধিকাংশ সময় কোনো অশান্তি বা হিংসা দেখা যেত না।
তখনকার রাজনীতি ছিল অনেকটাই অন্যরকম। খরাজদা বলেন, “তখন রাজনীতি ছিল আদর্শের। পাড়ায় পাড়ায় মাইকিং, জনসভা, নানা ধরনের প্রচার ছিল, কিন্তু সেটা ছিল শান্তিপূর্ণ এবং জনগণের কাছাকাছি।” আজকাল, সামাজিক মাধ্যম এবং টেলিভিশনের মাধ্যমে রাজনীতি অনেকটা বিতর্কিত হয়ে উঠেছে। পুরনো দিনের রাজনীতির তুলনায় এখনকার রাজনীতি যেন এক অন্য ধরনের অস্থিরতার মুখোমুখি। “রাজনীতির লোকেরা তখন পড়াশোনা জানা, খেটে খাওয়া মানুষ ছিলেন। কিন্তু আজকাল তো অভিনেতারা, যারা রাজনীতির একেবারে অজ্ঞ, তারা নির্বাচনে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে,” তিনি আরও বলেন।
খরাজ মুখোপাধ্যায় বলেন, “রাজনীতির জন্য যে শিক্ষা প্রয়োজন, সেটা আজকাল আর কেউ উপলব্ধি করছে না। যে কোনো কাজ করতে গেলে সেটি শেখা প্রয়োজন, কিন্তু দেশের পরিচালনার ক্ষেত্রে সেই শিক্ষার কোনো প্রয়োজনীয়তা দেখা যাচ্ছে না। আজকাল কেউ রাজনীতি শিখে নয়, শুধু ক্ষমতার লোভে এসে রাজনীতিতে যোগ দিচ্ছে।” অভিনেতা, মন্ত্রী, নেতা— সব জায়গাতেই এখন ক্ষমতার লোভের দাপট। তিনি এই পরিস্থিতি দেখে ব্যক্তিগতভাবে হতাশ। তার মতে, “রাজনীতি এখন আর আদর্শের জায়গা নেই, যেখানে শুধু ক্ষমতা ও টাকার পিছনে ছুটছে সবাই।”
আরও পড়ুনঃ “ঠাঠাপোড়া গরমে শাল আর সানগ্লাস পরে নৌকায় ছবি তুলছে গজেন্দ্র” নরেন্দ্র মোদীর গঙ্গাবিহারকে ‘প্র্যাকটিকালি ড্রামা’ বলে কটাক্ষ, প্রধানমন্ত্রীকে ‘মাল’ আখ্যা দিয়ে বিতর্কে ঋত্বিক চক্রবর্তী! সমাজ মাধ্যমে অভিনেতাকে ঘিরে নিন্দার ঝড়!
ভোটের দিন হিংসা এবং অস্থিরতা বন্ধ করার জন্য খরাজ মুখোপাধ্যায় একটি প্রস্তাব দিয়েছেন। “যেহেতু পৃথিবীর সব কিছু এখন অনলাইনে হচ্ছে, কেন না ভোটও অনলাইনে করা যায় না?”—এমন প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তার মতে, আজকের আধুনিক প্রযুক্তির যুগে ভোটগ্রহণের পদ্ধতি পরিবর্তন করা উচিত। অনলাইনে ভোট করা গেলে অনেকটাই স্বচ্ছতা এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব হতে পারে। কিন্তু বর্তমানে এমন কোনো উদ্যোগ নেই, যা দেশবাসীকে শান্তিপূর্ণ ভোটের সুযোগ দিতে পারে।






“বাংলা ইন্ডাস্ট্রির একমাত্র সুন্দরী নায়িকা কৌশানি, মা দুর্গার থেকেও বেশি সুন্দরী!” বেনারসি শাড়ি, গা ভর্তি সোনার গয়নায় হবু বৌমা, প্রশংসায় খেই হারিয়ে মন্তব্য পিয়া সেনগুপ্তর! ছেলে বনি আবার ঘুরছেন আঁচল ধরে! ‘হাসবো না কাঁদবো বুঝতে পারছি না’, ‘আপনার থেকে সুন্দরী কেউ হতে পারে?’ ‘এমন শাশুড়ি আমাকেও দিও ভগবান’ নেটপাড়ায় তুমুল হাসাহাসি!