“শুধু টাকা-পয়সার লেনদেন মানেই শেষ নয়, চোখের জল দিয়েও ব্যবসা হয়!” শৈশবের খেলাই জীবনের আসল পাঠ! সমাজের ‘অদৃশ্য ব্যবসা’ নিয়ে জিতু কমলের লেখায় কেন জীবন্ত হয়ে উঠেছে তীক্ষ্ণ বাস্তবতা!

টলিপাড়ার পরিচিত মুখ ‘জিতু কমল’ (Jeetu Kamal) বরাবরই শুধু অভিনয়ের জন্য নয়, তাঁর ভাবনা আর মতামতের জন্যও আলোচনায় থাকেন। সমাজ মাধ্যমে তিনি যেভাবে নিজের জীবনদর্শন থেকে অভিজ্ঞতা আর উপলব্ধিগুলো তুলে ধরেন, তা অনেক সময়ই আলাদা করে নজর কেড়ে নেয়। সম্প্রতি তাঁর একটি লেখা আবারও পাঠকের মনে দাগ কেটেছে! খুব চেনা, খুব সাধারণ অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি যে বড় প্রশ্নগুলো তুলে ধরেছেন, সেটাই হয়ে উঠেছে এই লেখার মূল আকর্ষণ।

প্রসঙ্গত, গত বছরটা তাঁর জীবনে খুব মসৃণ ছিল না। বড় পর্দায় কাজের সাফল্য এলেও ছোটপর্দায় কাজ করতে গিয়ে নানান বিতর্ক, ভুল বোঝাবুঝি আর অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁকে। সেই সময়টা মানসিকভাবে সহজ ছিল না, সেটা আন্দাজ করতে কারোরই অসুবিধা হয়নি। তবে বছরের শেষে এসে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে। নতুন বছর শুরু হতেই তাঁর ঝুলিতে একের পর এক কাজ আর তার মাঝেই নিজের মতো করে ভাবার, বলার জায়গাটা তিনি ছেড়ে দেননি।

এদিন তাই সমাজ মাধ্যমে আবার কলম ধরলেন তিনি। আর এই লেখায় জিতু ফিরে গিয়েছেন এক্কেবারে তাঁর শৈশবে। একসময় মায়ের এনে দেওয়া একটি ব্যবসায়ী বোর্ড গেম, যা তখন নিছক খেলাই জন্য মনে হয়েছিল, আজ জীবনের সঙ্গে অদ্ভুতভাবে মিলে যাচ্ছে বলে তাঁর মনে হয়েছে! তখন বোঝা না গেলেও বড় হয়ে তিনি বুঝছেন, মানুষের প্রতিটি সম্পর্কেই কোথাও না কোথাও লেনদেন জড়িয়ে থাকে। শুধু টাকা-পয়সার হিসেব নয়, অনুভূতি, দায়িত্ব, প্রত্যাশার মধ্যেই যেন এক ধরনের অদৃশ্য হিসাব চলছে।

তিনি খুব সহজ ভাষায় সমাজের সেই দিকগুলোকে ছুঁয়ে গেছেন, যেগুলো আমরা অনেক সময় দেখেও দেখতে চাই না। সহানুভূতি থেকে শুরু করে প্রার্থনা, সম্পর্ক, এমনকি ভালোবাসার মধ্যেও আজকাল কীভাবে স্বার্থের গন্ধ ঢুকে পড়ছে, সেটার কথাই তিনি বলেছেন। এখানে কোনও তীব্র অভিযোগ নেই, নেই অতিরিক্ত আবেগও। আছে শুধু একজন মানুষের নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষণ, যিনি নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই এই বাস্তবতাকে চিনে নিচ্ছেন।

আরও পড়ুনঃ যৌ*ন হে”নস্তার অভিযোগে গ্রেপ্তার ‘ননসেন’ শমীক অধিকারী, তদন্ত এগোতেই সামনে এল আরও ভয়ঙ্কর তথ্য! তরুণীর বয়ানে, এফআইআরে যুক্ত হল আরও গুরুতর অভিযোগ! আর কী কী ঘটেছিল তাঁর সঙ্গে?

উল্লেখ্য, এই লেখার শেষটাই যেন সবচেয়ে বেশি ভাবায়। এত হিসাব, এত লেনদেনের পরেও শেষ পর্যন্ত জীবনের খাতায় যে শূন্যটাই ফিরে আসে, সেই কথাটাই যেন নিঃশব্দে আবারও বুঝিয়ে দিলেন তিনি। এই উপলব্ধি ভারী নয়, বরং শান্ত। হয়তো এটাই জিতু কমলের লেখার শক্তি যে তিনি বড় বড় কথা না বলে, খুব সাধারণ শব্দে এমন কিছু বলে যান, যা পড়ে পাঠক নিজের জীবনটার দিকেই একটু নতুন করে তাকাতে শুরু করে। আপনাদের কী মতামত? মানুষের জীবন কি সত্যিই মনোপলি গেম?

You cannot copy content of this page