শহরের সব বেসরকারি হাসপাতাল ছেড়ে সরকারি হাসপাতালে ভরসা! চিকিৎসার গাফিলতিতে শিশুমৃ’ত্যুর অভিযোগে উত্তাল মেডিক্যাল কলেজ, সেখানেই অ’স্ত্রোপচারের জন্য ভর্তি হচ্ছেন ঝিলম গুপ্ত! প্রার্থনার আর্জি ভক্তদের কাছে! কবে হবে অপারেশন, কী জানালেন ডিজে মাউস?

পুজোর ঠিক আগে ‘বিগ বস বাংলা’ থেকে আচমকাই বেরিয়ে এসেছিলেন জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সর ঝিলম গুপ্ত। সেই সময় তাঁর অসুস্থতার কথা অনুষ্ঠানের তরফেই জানানো হয়েছিল। পরে জানা যায়, ঝিলমের গলব্লাডারে বেশ বড় আকারের স্টোন হয়েছে। দ্রুত অস্ত্রোপচার করা প্রয়োজন বলেও জানা যায়। তীব্র যন্ত্রণার কারণে ‘বিগ বস বাংলা’র বাড়িতে থাকাকালীন বেশ কয়েকদিন ঠিকমতো খেলায় অংশ নিতে পারেননি তিনি। এরপর মেডিক্যাল পরীক্ষার রিপোর্টের ভিত্তিতেই তাঁর ‘বিগ বস’ যাত্রা শেষ হয়ে যায়। এ বার সেই অসুস্থতার জন্যই কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হতে চলেছেন ঝিলম। আগামীকাল, বুধবারই হাসপাতালে ভর্তি হবেন তিনি। সেদিনই তাঁর গলব্লাডারের অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা রয়েছে।

গত শুক্রবার রাতে একটি ভিডিও বার্তায় নিজের অস্ত্রোপচারের খবর জানিয়েছিলেন ঝিলম। তিনি জানিয়েছিলেন, পরের সপ্তাহেই তাঁর অপারেশন হবে। দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য সকলের আশীর্বাদও চেয়েছিলেন তিনি। তবে ঝিলমের অস্ত্রোপচারের ঠিক দু’দিন আগে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজকে ঘিরে তৈরি হয়েছে অন্যরকম পরিস্থিতি। সোমবার ভুল চিকিৎসার অভিযোগে শিশুমৃত্যুর ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল হাসপাতাল চত্বর। তার মাত্র দু’দিনের ব্যবধানেই সেই হাসপাতালেই চিকিৎসার জন্য ভর্তি হচ্ছেন ঝিলম। বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করানোর সুযোগ থাকলেও তিনি সরকারি হাসপাতালের উপরই আস্থা রেখেছেন। ঝিলমের কথায়, “বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করাতেই পারতাম। কিন্তু, আমি সরকারি হাসপাতালেই ভরসা রাখছি।” তিনি আরও জানান, গলব্লাডারে হওয়া পাথরে ইনফেকশন হয়ে যাওয়ায় প্রায়ই তাঁকে যন্ত্রণার মধ্যে থাকতে হচ্ছে।

অসুস্থতার কারণে ‘বিগ বস বাংলা’ থেকে বেরিয়ে এলেও পুজোর সময় ঝিলমকে বেশ সক্রিয়ভাবেই দেখা গিয়েছিল। দুর্গাপুজোর বিভিন্ন দিনে তাঁকে কখনও হলুদ লাল, আবার কখনও কালো সাদা ধুতি ও পাঞ্জাবিতে দেখা যায়। বিশেষ বান্ধবীকে সঙ্গে নিয়ে প্যান্ডেল হপিংয়েও বেরিয়েছিলেন তিনি। এমনকি ‘বিগ বস বাংলা’র বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসা প্রতিযোগীদের সঙ্গে বিজয়ার সিঁদুরখেলাতেও অংশ নিয়েছিলেন ঝিলম। উৎসবের নানা মুহূর্তের ছবি নিজেই ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন তিনি। তাঁর সেই ছবি দেখে অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠেছিল, তবে কি ঝিলম এখন সুস্থ? যদি তিনি এতটা অসুস্থই হন, তা হলে পুজোর সময় প্যান্ডেলে ঘুরছেন কী ভাবে, সেই প্রশ্নও উঠেছিল। একই সঙ্গে তাঁর ‘বিগ বস’ থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েও নানা আলোচনা শুরু হয়। পুজো শেষ হওয়ার পর সেই সমস্ত জল্পনারই জবাব দিয়েছেন ঝিলম নিজে।

ঝিলম স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, পুজোর সময় তাঁকে প্যান্ডেলে ঘুরতে দেখা গেলেও বাস্তবে তাঁর শারীরিক অবস্থা মোটেই ভালো ছিল না। তাঁর কথায়, “আমাকে আপনারা পুজোর সময়ে প্যান্ডেলে ঘুরতে দেখেছেন। কিন্তু ওইটুকুই।” তিনি জানিয়েছেন, ঠিকমতো খেতেও পারছিলেন না এবং পুজোর আনন্দও সেভাবে উপভোগ করতে পারেননি। কারণ, সেই সময় তাঁর তীব্র যন্ত্রণা হচ্ছিল। দীর্ঘদিন ধরে শুধু পেনকিলার এবং অ্যান্টিবায়োটিক খেয়েই পরিস্থিতি সামলেছেন তিনি। এর জেরে তাঁর ওজনও অনেকটা কমে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন ঝিলম। পুজোর সময় চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করতেও পারেননি তিনি। তাই সেই সময় তাঁর অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হয়নি। এ বার আর দেরি না করে অস্ত্রোপচার করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই ইনফ্লুয়েন্সর।

আরও পড়ুনঃ “তোমার মধ্যে এমন ক্ষমতা আছে যা দিয়ে…আমি চিরকাল তোমার কাছে কৃতজ্ঞ থাকব!” “যখন সত্যি কেউ পাশে থাকে না…” বাবা তাপস পালকে হারানোর পর মায়ের সঙ্গে আরও গভীর হয়েছে সম্পর্ক, নন্দিনীর জন্মদিনে মনের কথা লিখে আবেগঘন সোহিনী পাল! তুলে ধরলেন কোন উপলব্ধির কথা?

ঝিলম জানিয়েছেন, গলব্লাডারের পাথরে ইতিমধ্যেই সংক্রমণ হয়ে যাওয়ায় বারবার যন্ত্রণায় ভুগতে হচ্ছে তাঁকে। তাই পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আগে দ্রুত অস্ত্রোপচার করিয়ে নিতে চান তিনি। আগামী বুধবার কলকাতা মেডিক্যাল কলেজেই তাঁর ভর্তি হওয়ার কথা। সেখানেই হবে গলব্লাডারের অস্ত্রোপচার। বেসরকারি হাসপাতালের পরিবর্তে সরকারি হাসপাতাল বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তও নিজের বিশ্বাস থেকেই নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ঝিলম। অসুস্থতার কারণে পুজোর আনন্দ পুরোপুরি উপভোগ করতে না পারলেও বাইরে থেকে তাঁকে দেখে তা বোঝার উপায় ছিল না। সেই কারণেই তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে তৈরি হয়েছিল নানা প্রশ্ন ও জল্পনা। এ বার নিজের বক্তব্যে সেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন তিনি। অস্ত্রোপচারের পর দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সকলের আশীর্বাদই চেয়েছেন ঝিলম।

You cannot copy content of this page