মাঝরাতে দরজা, জানলায় অদ্ভুত শব্দ! ভূতে বিশ্বাস করেন না, কিন্তু মুর্শিদাবাদের সেই বাড়িতে কি সত্যিই অশরীরীর উপস্থিতি টের পেয়েছিলেন লিলি চক্রবর্তী? শুটিং করতে গিয়ে কোন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন অভিনেত্রী, যা আজও ভোলেননি?

ভূত আছে কি না, তা নিয়ে মানুষের মধ্যে মতভেদ বহু দিনের। কেউ অশরীরী শক্তির অস্তিত্বে বিশ্বাস করেন, আবার কেউ সমস্ত ঘটনাকেই মনের ভুল বলে মনে করেন। মাঝরাতে অচেনা পায়ের শব্দ, নির্জন ঘরে কারও উপস্থিতি অনুভব করা কিংবা হঠাৎ দরজা-জানলায় আওয়াজ, এমন অভিজ্ঞতা অনেকের মনেই ভয় তৈরি করে। কালীপুজোর আগে এমনই এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নিলেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী লিলি চক্রবর্তী। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে বাংলা ও হিন্দি দুই ছবির জগতেই কাজ করেছেন তিনি। উত্তমকুমার, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, পাহাড়ি সান্যাল, মিঠুন চক্রবর্তী এবং রাজেশ খান্নার মতো অভিনেতাদের সঙ্গে পর্দা ভাগ করেছেন। এমনকি অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গেও অভিনয় করেছেন তিনি। সত্যজিৎ রায়, তরুণ মজুমদার, ঋতুপর্ণ ঘোষ, হৃষিকেশ মুখোপাধ্যায় এবং বাসু চট্টোপাধ্যায়ের মতো পরিচালকদের ছবিতেও কাজ করেছেন এই অভিনেত্রী।

পর্দায় তাঁকে দেখে অনেকেরই শান্ত ও নরম স্বভাবের মানুষ বলে মনে হতে পারে। কিন্তু ভূতের বিষয়ে তাঁর ধারণা একেবারেই আলাদা। আনন্দবাজার ডট কমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লিলি জানিয়েছেন, তিনি ভূতে একেবারেই বিশ্বাস করেন না। ভূতের ছবি দেখতেও কখনও ভয় পাননি। অভিনেত্রীর কথায়, ‘‘আমাকে পর্দায় দেখে নরম গোছের মনে হলেও আমি ভূতে একদম বিশ্বাস করি না। ভূতের ছবি দেখতেও ভয় লাগেনি কখনও।’’ একবার একটি ইংরেজি ভূতের ছবি দেখতে গিয়েছিলেন তিনি। আশপাশের অনেকেই তাঁকে বলেছিলেন, ছবিটি দেখলে নাকি ভীষণ ভয় লাগবে। কিন্তু সিনেমা দেখে হল থেকে বেরিয়ে তাঁর মনে কোনও আতঙ্ক তৈরি হয়নি। বরং বেশ খোশমেজাজেই বাড়ি ফিরেছিলেন তিনি। তবে ভূতে বিশ্বাস না করলেও জীবনে একবার এমন একটি ঘটনার মুখোমুখি হয়েছিলেন, যা আজও তাঁর মনে রয়েছে। কয়েক বছর আগে একটি ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়ে ঘটেছিল সেই ঘটনা।

লিলি জানিয়েছেন, ‘দেবী চৌধুরানি’ ধারাবাহিকের শুটিংয়ের জন্য তাঁকে মুর্শিদাবাদে যেতে হয়েছিল। সেখানে পৌঁছনোর পর থেকেই শুটিংয়ের বাড়িটি নিয়ে নানা কথা শুনতে পান তিনি। ইউনিটের কয়েকজনের মুখে শোনেন, ওই বাড়িতে নাকি ভূতের উপস্থিতি রয়েছে। পরে আরও অনেকে একই কথা বলতে থাকেন। তবে এসব শুনে মোটেও বিচলিত হননি অভিনেত্রী। বরং সবাইকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, ভূত বলে কিছু নেই এবং তিনি এসব বিশ্বাসও করেন না। শুটিংয়ের কাজ শেষ করে রাতে খাওয়াদাওয়া সেরে নিজের ঘরে ঘুমোতে চলে যান তিনি। সেই সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন এক কাজের মেয়ে। প্রথম দিকে সব কিছু স্বাভাবিকই ছিল। নিশ্চিন্তে ঘুমোচ্ছিলেন দু’জনেই। কিন্তু মাঝরাতে হঠাৎই ঘুম ভেঙে যায় লিলির। ঘরের দরজায় কারও টোকা দেওয়ার শব্দ শুনতে পান তিনি। কিছুক্ষণ পর সেই শব্দ আবার ফিরে আসে। এরপরই শুরু হয় সেই রাতের অদ্ভুত ঘটনা।

অভিনেত্রীর কথায়, ‘‘হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল দরজা ঠকঠক করার শব্দে। কিছু ক্ষণ পরে আবার ঠকঠক। আমার সঙ্গে থাকা মেয়েটি বলল, দিদি দরজা খুলব? আমি বললাম, একদম খুলবি না, চুপ করে শুয়ে থাক্।’’ দরজায় বারবার শব্দ হলেও তিনি দরজা খোলেননি। দু’জনেই চুপচাপ ঘরের মধ্যে শুয়ে ছিলেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর দরজার বদলে জানলায় টোকা দেওয়ার শব্দ শুনতে পান তাঁরা। তবুও কোনও সাড়া দেননি অভিনেত্রী। লিলি জানিয়েছেন, অভিনয় জীবনের শুরুর দিকে সিনিয়র শিল্পীরাও তাঁদের একটি পরামর্শ দিতেন। আউটডোর শুটিংয়ে গিয়ে রাতে কেউ দরজায় ধাক্কা দিলে কখনও যেন দরজা না খোলা হয়। সেই পুরনো পরামর্শের কথাও মনে পড়ে যায় তাঁর। তাই সারা রাত দরজা বন্ধ রেখেই কাটিয়ে দেন। কী কারণে এমন শব্দ হচ্ছিল, তা তখনও বুঝতে পারেননি তিনি। তবে পরের দিন সকালে শুটিংয়ে গিয়ে সেই রহস্যের উত্তর পেয়ে যান।

আরও পড়ুনঃ নন্দিনীকে কি একেবারেই সহ্য করতে পারেন না সৃজলা? হিংসার বশেই কি সবার সামনে নামিয়ে দিয়েছিলেন তাঁর পায়জামা? পোশাক নিয়ে এমন লজ্জাজনক আচরণের পরেও ক্ষমা চাইতে নারাজ অভিনেত্রী! ক্রমাগত খেলে চলেছেন ভিকটিম কার্ড, দাবি বিগ বসের দর্শকদের!

সকালে শুটিংয়ের জায়গায় পৌঁছতেই ইউনিটের কয়েকজন সদস্য তাঁকে দেখে প্রশ্ন করেন, ‘‘দিদি কাল রাতে তোমার ঘরে ভূত এসেছিল?’’ লিলিও তাঁদের জানান, রাতে সত্যিই তাঁর ঘরের দরজায় বারবার টোকা পড়েছিল। কিন্তু তিনি দরজা খোলেননি। এরপরই ইউনিটের ছেলেরা হাসতে শুরু করেন। আসলে তাঁরাই রাতে দরজা ও জানলায় টোকা দিয়ে অভিনেত্রীকে ভয় দেখানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। লিলি ভূতে বিশ্বাস করেন না, এই বিষয়টি জানার পর মজা করেই তাঁকে চমকে দিতে চেয়েছিলেন তাঁরা। অভিনেত্রী বুঝতে পারেন, গোটা ঘটনাটাই ছিল ইউনিটের সদস্যদের দুষ্টুমি। তবে এই ঘটনায় তাঁদের উপর রাগ করেননি তিনি। বরং বিষয়টি বেশ উপভোগই করেছিলেন। তাঁর কথায়, ইউনিটের মানুষগুলো ভাল ছিলেন বলেই তাঁদের এই মজাকে খারাপ ভাবে নেননি তিনি। এত বছর পরেও সেই রাতের কথা মনে পড়লে তাঁর মজা লাগে। ভূতের অস্তিত্বে বিশ্বাস না করলেও মুর্শিদাবাদের সেই শুটিংয়ের রাত যে তাঁর অভিনয় জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে রয়েছে, তা স্পষ্ট।

You cannot copy content of this page