দোলের ঠিক আগের দিন বনগাঁ আদালতে নতুন করে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী। বনগাঁকাণ্ডে অভিযুক্ত তনয় শাস্ত্রী এ বার তাঁর বিরুদ্ধে জোড়া মামলা দায়ের করেছেন। একদিকে মানহানির অভিযোগ, অন্যদিকে ফৌজদারি মামলা। তনয়ের আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এই আইনি লড়াই শুধু সম্মানের প্রশ্ন নয়, আর্থিক ক্ষতির দাবিও জড়িয়ে রয়েছে এর সঙ্গে। দোলের আবহে এই মামলা ঘিরে টলিপাড়া থেকে রাজনৈতিক মহল পর্যন্ত জোর চর্চা শুরু হয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে কৌতূহল তুঙ্গে, কারণ একসময় যে বিতর্ক ছিল অনুষ্ঠান ঘিরে, তা এখন গড়িয়েছে আদালতের দোরগোড়ায়।
আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, মানহানি মামলায় ২০ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি ফৌজদারি মামলার ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে পারিশ্রমিক সংক্রান্ত অভিযোগ। দাবি করা হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত না হয়েও ২ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা নিয়েছেন অভিনেত্রী। অভিযোগ, অনুষ্ঠানে তিনি অনেক দেরিতে পৌঁছন এবং মাত্র পনেরো মিনিট মঞ্চে থাকেন। রাত বারোটার পর অনুমতি না থাকায় অনুষ্ঠান দ্রুত শেষ করতে হয়। তনয়ের পক্ষের দাবি, এই পরিস্থিতির জন্য অযথা তাঁকেই দায়ী করা হয়েছে।
তরুণজ্যোতি তিওয়ারির কথায়, তাঁর মক্কেলকে মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি মনে করছেন, মিমির প্রভাব ও পরিচিতির জোরে তনয়কে অন্যায়ভাবে হেনস্থা করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ক্ষমতার অপব্যবহার করে তনয়ের সম্মানহানি ঘটানো হয়েছে। তাই আইনের দ্বারস্থ হয়ে সুবিচার চাইছেন তনয়। এই মামলার মাধ্যমে তিনি শুধু আর্থিক ক্ষতিপূরণ নয়, নিজের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের লড়াইও শুরু করেছেন বলে আইনজীবীর দাবি।
অন্যদিকে, এই জোড়া মামলা নিয়ে এখনও প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি মিমি চক্রবর্তী। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি নীরব রয়েছেন। রাজনৈতিক ও অভিনয় জগতের পরিচিত মুখ হওয়ায় এই নীরবতা আরও কৌতূহল বাড়িয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, আইনি প্রক্রিয়া চলাকালীন মন্তব্য না করার কৌশল নিয়েছেন তিনি। তবে জনমানসে প্রশ্ন উঠছে, অভিযোগের জবাব কি আদালতেই দেবেন অভিনেত্রী।
আরও পড়ুনঃ দোলের রঙে মহানায়ক! রূপোলি পর্দার নায়ক ঘরের ছেলে হয়ে ভাসতেন বসন্তের আনন্দে! তারকা অতিথি হোক বা সাধারণ মানুষ, পায়ে আবির দিতেন সকলের! এই দিনে আর কী করতেন উত্তম কুমার? সুচিত্রা সেনের সঙ্গে রয়েছে কোন বিশেষ স্মৃতি?
দোলের রঙে যখন গোটা বাংলা মেতে উঠেছে, তখন এই আইনি টানাপড়েন যেন অন্য এক নাটকীয়তার জন্ম দিল। বনগাঁ আদালতের এই মামলা যে আগামী দিনে আরও বড় আইনি লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা বলাই যায়। মানহানি ও ফৌজদারি অভিযোগের নিষ্পত্তি এখন বিচার ব্যবস্থার হাতে। কে ঠিক, কে ভুল তা সময়ই বলবে। আপাতত দোলের আবহে মিমি ও তনয়ের এই দ্বন্দ্বই হয়ে উঠেছে নতুন চর্চার কেন্দ্র।






