“৩১ বছর ধরে ভুলের মাঝেই ঘটুক হঠাৎ খুঁজে পাওয়া সেই দুর্লভ সত্যের মুহূর্তগুলো, পাশাপাশিক থাকুক আমার দেখা শ্রেষ্ঠ দুজন শিল্পী!” ভুল হবে, তবুও নতুন করে শুরু করতে হবে! মা-বাবার বিবাহবার্ষিকীতে ঋদ্ধির হৃদয়ছোঁয়া বার্তা!

যে কোনও সন্তানের কাছে মা-বাবার সম্পর্ক নিয়ে অনুভূতি বরাবরই আলাদা। সেখানে থাকে শৈশবের নিরাপত্তা, বড় হয়ে ওঠার নীরব শিক্ষা আর দুইজন মানুষকে প্রতিদিন একসঙ্গে বদলাতে দেখার অভিজ্ঞতা। অভিনেতা দ্ধি সেনের (RiddSen) সাম্প্রতিকhi  লেখাতেও ঠিক সেই জায়গাটাই ছুঁয়ে গিয়েছে অনেককে। অতিরিক্ত আবেগের ভার না চাপিয়েও গভীর কৃতজ্ঞতা আর শ্রদ্ধার ভাষা স্পষ্ট সেখানে। বিবাহবার্ষিকীর দিনে তিনি শুধু শুভেচ্ছা জানাননি, বরং বাবা-মায়ের দীর্ঘ পথচলাকে মঞ্চজীবনের সঙ্গে মিলিয়ে এক মানবিক গল্পের মতো তুলে ধরেছেন।

একটা সুস্থ স্বাভাবিক সম্পর্ক মানেই কি শুধু বছর গোনা নয়? না, সেখানে থাকে অগণিত না বলা কথা, ভুল বোঝাবুঝি, আবার নতুন করে শুরু করার সাহস। বিবাহবার্ষিকীর দিনে সেই দীর্ঘ পথচলার দিকে ফিরে তাকানো মানে আসলে ভালোবাসার সঙ্গে সঙ্গে জীবনের কঠিন বাস্তবতাকেও স্বীকার করে নেওয়া। ঋদ্ধি ঠিক সেখানেই ছুঁয়ে গেলেন এক গভীর মানবিক জায়গা! এদিন তিনি অভিভাবকদের একটি অতীত এবং বর্তমান ছবি পাশাপাশি রেখে পোস্ট করেন, সঙ্গে ছিল হৃদয়ের ভাষা।

প্রসঙ্গত, মা-বাবার বিবাহবার্ষিকীতে ঋদ্ধি যে লেখাটি শেয়ার করেছেন, তা নিছক শুভেচ্ছাবার্তা নয়। সেখানে তিনি মঞ্চজীবনের অভিজ্ঞতার কথা টেনে এনে জীবনের সঙ্গে তার তুলনা করেছেন। অভিনয়ের সময় যেমন ভুল হয়, তেমনি দাম্পত্য জীবনেও ভুল অনিবার্য, এই উপলব্ধিটাই তাঁর লেখার ভেতর দিয়ে বারবার উঠে এসেছে। ভুলের লজ্জা, আফসোস, আবার নিজেকে সামলে নিয়ে পরের দিনের মঞ্চে ফেরার চক্রটাই যেন জীবনেরও প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে তাঁর কথায়।

লেখার একটা বড় অংশ জুড়ে আছে মঞ্চের পরিবেশ, আলো-আঁধারি, দর্শকের ভিড় আর অভিনেতার ভেতরের টানাপোড়েন। কিন্তু সেখানেই থেমে থাকেননি ঋদ্ধি। সেই অভিজ্ঞতার সূত্র ধরেই তিনি বাবা কৌশিক সেন ও মা রেশমি সেনের দাম্পত্য জীবনের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। দীর্ঘ ৩১ বছরের পথচলায় যে তাঁরা বারবার ভুল করেছেন, আবার সেই ভুল নিয়েই সামনে এগিয়েছেন, এই কথাটাই তিনি খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে তুলে ধরেছেন উপদেশ না দিয়ে। এই লেখার সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো, বাবা-মাকে তিনি শুধু শিল্পী হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবেও দেখেছেন।

আরও পড়ুনঃ বাবা ছিলেন বাংলা ছবির কিংবদন্তি, অথচ সফলতার আলো পেল না ছেলে! সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের উত্তরাধিকার হয়েও কেন আড়ালেই থেকে গেলেন সৌগত চট্টোপাধ্যায়? আজ কোথায় তিনি, কীভাবেই বা কাটছে তাঁর জীবন?

মঞ্চে উঠে সব ভুল ভুলে নতুন করে শুরু করার ক্ষমতা আর মঞ্চের বাইরে নিজের মতো করে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহস, এই দুইয়ের সহাবস্থানকেই তিনি সম্মান জানিয়েছেন। তাঁর চোখে বাবা-মা সেই মানুষ, যারা জীবনের নাটকে প্রতিদিন নতুন দৃশ্য তৈরি করেন, কখনও ব্যর্থ হন তো কখনো আবার সত্যিকারের কিছু মুহূর্ত খুঁজে পান। ঋদ্ধির এই লেখাটি এক ধরনের ভালোবাসার স্বীকারোক্তি। তিনি কোথাও অতিরিক্ত আবেগে ভাসেননি, আবার শুষ্কও হননি। এই বার্তা আসলে তাঁদের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের প্রতি এক গভীর শ্রদ্ধা। জীবনের মতোই, মঞ্চের মতোই ভুলে ভরা পথের মাঝখানে হঠাৎ পাওয়া কিছু সত্য মুহূর্তই যে সবচেয়ে দামি, সেটাই যেন তিনি যেন নিঃশব্দে বলে গেলেন।

You cannot copy content of this page