বাংলা টেলিভিশনের পরিচিত মুখ ‘সঙ্ঘশ্রী সিনহা মিত্র’ (Sanghasri Sinha Mitra)। ‘কি করে তোকে বলব’, ‘ফেলনা’-সহ একাধিক ধারাবাহিকে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের কাছে পরিচিতি পেয়েছেন। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব একটা প্রকাশ্যে কথা বলতে দেখা যায় না তাঁকে। সামাজিক মাধ্যমেও তিনি খুব বেশি সক্রিয় নন। কিন্তু সম্প্রতি এক ফেসবুক লাইভে একেবারে ভেঙে পড়া অবস্থায় হাজির হন অভিনেত্রী। ভিডিওর শুরুতেই তিনি জানান, সাধারণত এভাবে লাইভে এসে কিছু বলেন না। কিন্তু যে অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে তিনি ও তাঁর পরিবার গিয়েছেন, তা সকলের কাছে পৌঁছে দেওয়াটা নিজের দায়িত্ব বলেই মনে করেছেন। তাই বাধ্য হয়েই তিনি এই ভিডিও করেছেন।
লাইভে অভিনেত্রী জানান, তাঁর ৯০ বছর বয়সি শ্বশুরমশাই একজন প্রাক্তন নেভি অফিসার। কয়েকদিন আগে অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁকে যাদবপুরের কেপিসি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পেশাগত কারণে সরকারি হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসার সুযোগ থাকলেও, সঙ্ঘশ্রী ও তাঁর স্বামী দুজনেই কাজের চাপে সারাদিন ব্যস্ত থাকেন। তাই যাতায়াতের সুবিধার কথা ভেবেই তাঁরা এই হাসপাতালটি বেছে নেন। ভর্তি হওয়ার পরপরই তাঁদের হাতে একটি বড় তালিকা ধরিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে ৩০০ মিলিলিটার এডি অয়েল, মাউথওয়াশ, বড় বোতলের স্যানিটাইজার, অ্যাডাল্ট ডায়াপার, ওয়েট টিস্যু, একাধিক ইনজেকশনের সিরিঞ্জ, বড় তুলোর প্যাকেট, স্যালাইন এবং বিভিন্ন ওষুধ কেনার কথা লেখা ছিল।
প্রথম দিন সবকিছু কিনে দেওয়ার পরও পরদিন আবার একই জিনিস আনতে বলা হয়। এভাবে টানা কয়েকদিন একই ঘটনা ঘটতেই তাঁদের মনে প্রশ্ন জাগতে শুরু করে। অভিনেত্রীর কথায়, একজন ৯০ বছরের মানুষের প্রতিদিন এত পরিমাণ এডি অয়েল, মাউথওয়াশ বা স্যানিটাইজার কেন লাগবে, তা জানতে চাইলে হাসপাতাল থেকে বলা হয় চিকিৎসার জন্যই এগুলোর প্রয়োজন। বিস্তারিত জানার জন্য নার্সদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তাঁরা ডাক্তারদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু মেডিক্যাল কলেজ যুক্ত হাসপাতাল হওয়ায় চিকিৎসকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। পরে ওষুধের দোকানেও বিষয়টি জানতে চাইলে সেখান থেকেও কোনও স্পষ্ট উত্তর মেলেনি।
বরং অভিনেত্রীর দাবি, সেই সময় ওষুধ কিনতে আসা আরও কয়েকজন রোগীর আত্মীয়ও একই ধরনের সমস্যার কথা তাঁকে জানান। এরপর শ্বশুরমশাইয়ের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রথমে চিকিৎসকেরা বলেন, তাঁর “কার্সিনোমা” হয়েছে। এই কথা শুনে গোটা পরিবার ভেঙে পড়লেও পরে যখন অভিনেত্রী তাঁকে ক্যানসার বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য ছাড়পত্রের কথা বলেন, তখন আবার জানানো হয়, এখনও নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না, “কার্সিনোমা” হতে পারে, আবার টিবি বা নিউমোনিয়াও হতে পারে। এরই মধ্যে একদিন গভীর রাতে হাসপাতাল থেকে ফোন করে জানানো হয়, রোগীর অবস্থা ভালো নয় এবং তাঁকে আইসিইউতে রাখতে হবে।
অভিনেত্রী ও তাঁর স্বামী দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে গেলে তাঁদের বলা হয়, শ্বশুরমশাই কোনও রকম সাড়া দিচ্ছেন না। সেই কথা শুনে তাঁরা প্রায় ধরে নিয়েছিলেন, হয়তো সবচেয়ে খারাপ খবরের জন্যই প্রস্তুত হতে হবে। কিন্তু পরে যখন তাঁরা নিজে গিয়ে দেখেন, তখন তাঁদের দাবি, শ্বশুরমশাই মোটামুটি স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছেন এবং তিনিও বুঝতে পারছেন না কেন তাঁকে এত ইনজেকশন বা ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। পরে আবার চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আইসিইউ থেকে তাঁকে সাধারণ বেডে ফিরিয়ে আনা হবে। এই ঘটনার পর অভিনেত্রী ছাড়পত্র নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে তাঁদের হাতে প্রায় চার লক্ষ টাকার বিল তুলে দেওয়া হয়। সঙ্ঘশ্রীর অভিযোগ, এর মধ্যে অধিকাংশ খরচই তাঁদের বাইরে থেকে কিনে দেওয়া ওষুধ ও অন্যান্য সামগ্রীর।
আরও পড়ুনঃ ‘তুই আমার প্রথম বউ, আজীবনের জন্য…’ প্রিয়াঙ্কাকে বিয়ের পরেই প্রাক্তনকে ‘প্রথমা’ আখ্যা! এবার সেই বি’স্ফোরক অডিও চ্যাট ফাঁস হতেই চরম বিতর্কে নেটপ্রভাবী গৌরব তপাদার!
তাঁর দাবি, ওষুধের প্রকৃত মূল্য খুব বেশি হলে দশ হাজার টাকার মতো হতে পারে, কিন্তু বাকি বিপুল অঙ্কের খরচের কোনও যৌক্তিক ব্যাখ্যা তাঁরা পাননি। লাইভে আরও একটি ঘটনার উল্লেখ করেন অভিনেত্রী। তাঁর দাবি, হাসপাতালেই তিনি দেখেছেন এক ব্যক্তি তাঁর অসুস্থ মাকে নিয়ে এসেছেন। সেই সময় মাত্র আধঘণ্টার মধ্যে দু’বোতল স্যালাইন দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। এই অভিজ্ঞতার পরই হাসপাতালের পরিষেবা নিয়ে তাঁর সন্দেহ আরও বেড়ে যায়। সঙ্ঘশ্রী বলেন, পুরোপুরি সরকারি হাসপাতাল না হলেও সরকারি অনুদানে পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠানে রোগী ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে এমন আচরণ হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁর অভিযোগ, চিকিৎসার পরিবর্তে অপ্রয়োজনীয় জিনিস বারবার কিনতে বলা হচ্ছে, অথচ যেগুলো হাসপাতালের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে, সেগুলোরও বোঝা রোগীর পরিবারের উপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ভিডিওর শেষে তিনি সকলকে অনুরোধ করেন, এই অভিজ্ঞতা যেন যত বেশি সম্ভব মানুষের কাছে পৌঁছায়।






“প্রকৃত অসভ্য ও অভদ্র মেয়ের লক্ষণ কথা না শোনা… বিগ বসে এসে তুমি কুইন নয়, ‘ডা*র্টি ক্যুইন’ নামে পরিচিত হচ্ছ বাংলার ঘরে ঘরে!” “সৌরভ হতভাগা যে টাকার জন্য এই মেয়েটার সঙ্গে মুখ লাগতে হচ্ছে!” বিগ বস বাংলার ঘরে এন্ট্রি নিতেই মিথ্যে সাজিয়ে সবার দুর্বল জায়গায় করছেন আ’ঘাত, অনুষ্কা ঘোষকে চাঁচাছোলা ভাষায় আয়না দেখালেন নৃত্যশিল্পী চাঁদনী গঙ্গোপাধ্যায়!