“ওটা দেখেই আমার ভীষণ খারাপ লেগেছিল, যেখানে সারারাত জেগে প্র্যাকটিস করেছিলাম…” নন্দিনীর সঙ্গে অশান্তি বা কারোর সঙ্গে মনোমালিন্য নয়, তবে কোন ঘটনা দাগ কেটেছিল মনে? বিগ বস বাংলার ঘরে কীসের জন্য সবচেয়ে বেশি কষ্ট পেয়েছিলেন সোহিনী পাল? অবশেষে সবটা জানালেন!

বিগ বস বাংলার ঘর থেকে বেরিয়ে প্রায় দু’সপ্তাহেরও বেশি সময় কেটে গিয়েছে সোহিনী পালের। ঘর থেকে বেরোনোর পর নিজের পরিচিত মানুষ এবং পরিবারের সঙ্গেই সময় কাটাচ্ছেন অভিনেত্রী। বিগ বসের সহপ্রতিযোগী সায়ক ও আলেকজান্দ্রার সঙ্গেও দেখা করেছেন তিনি। পুজোর সময় ঝিলমের সঙ্গেও সময় কাটিয়েছেন সোহিনী। এ ছাড়া বেশ কয়েকটা দিন নিজের পরিবারের সঙ্গেই ছিলেন তিনি। দুর্গাপুজোয় মায়ের সঙ্গে সিনেমা দেখতেও গিয়েছেন অভিনেত্রী। সব মিলিয়ে এখন অনেকটাই স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন সোহিনী। তবে বিগ বসের বাড়িতে কাটানো দিনগুলির কিছু অভিজ্ঞতা এখনও তাঁর মনে রয়েছে। সম্প্রতি সেই সময়েরই এমন একটি ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছেন তিনি।

বিগ বস বাংলার ঘরে থাকাকালীন একাধিক প্রতিযোগীর সঙ্গে সোহিনীর মনোমালিন্য হয়েছিল। বিশেষ করে নন্দিনী দত্তের সঙ্গে তাঁর অশান্তি নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা হয়েছিল এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোহিনীর মা-ও সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের বক্তব্য জানিয়েছিলেন। তবে নন্দিনীর সঙ্গে সেই ঝামেলাকেই সবচেয়ে খারাপ অভিজ্ঞতা বলে মনে করছেন না সোহিনী। বরং সম্পূর্ণ অন্য একটি ঘটনা তাঁকে এখনও কষ্ট দেয় বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী। দুর্গাপুজোর পর সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এই বিষয়ে কথা বলেন তিনি। সিটি সিনেমাকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে নিজের সেই অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করেন সোহিনী। তিনি জানান, বিগ বসের বাড়িতে এমন একটি ঘটনা ঘটেছিল, যা তাঁর মনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। সেই ঘটনা এখনও তাঁর কাছে অস্বস্তিকর স্মৃতি হয়ে রয়েছে।

সোহিনীর কথায়, বিগ বসের বাড়িতে একটি বিশেষ অনুষ্ঠান হয়েছিল, যার নাম ছিল বিবি নাইট। সেই অনুষ্ঠানের জন্য বিগ বস তাঁকে একটি চরিত্রে অভিনয় করার দায়িত্ব দিয়েছিল। দায়িত্ব পাওয়ার পর চরিত্রটি ভালো ভাবে ফুটিয়ে তোলার জন্য যথেষ্ট পরিশ্রম করেছিলেন তিনি। এমনকী, সারারাত জেগে সেই চরিত্রের জন্য অনুশীলন করেছিলেন সোহিনী। শুধু রাতেই নয়, পরদিন সকালেও তিনি প্র্যাকটিস চালিয়ে গিয়েছিলেন। তাই অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিয়ে যথেষ্ট আগ্রহী এবং উৎসাহী ছিলেন অভিনেত্রী। কিন্তু সকালে উঠে একটি পোস্টার দেখার পর তাঁর সেই উৎসাহ একেবারে নষ্ট হয়ে যায়। কারণ পোস্টারে তাঁর ছবি ছিল না। সোহিনী জানিয়েছেন, বিষয়টি দেখে তাঁর ভীষণ খারাপ লেগেছিল এবং ঘটনাটি এখনও তিনি ভুলতে পারেননি।

অভিনেত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই ঘটনায় তিনি যে পরিমাণ সময় এবং পরিশ্রম দিয়েছিলেন, তার পরেও পোস্টারে নিজের ছবি না দেখে কষ্ট পেয়েছিলেন। বিগ বসের ঘরে একাধিক মানুষের সঙ্গে মতের অমিল হলেও সেই ঘটনাটিই তাঁর মনে বেশি দাগ কেটেছে। নন্দিনীর সঙ্গে হওয়া অশান্তি নিয়ে বাইরে যত আলোচনা হয়েছে, সেটি তাঁর কাছে সবচেয়ে কষ্টের স্মৃতি নয়। বরং বিবি নাইটের পোস্টারে নিজের ছবি না থাকার বিষয়টিই তাঁকে বেশি আঘাত করেছিল। সোহিনী নিজের অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে জানান, বিষয়টি তাঁর কাছে খুবই খারাপ লেগেছিল। সেই সময়ের অনুভূতি বোঝাতে তিনি বলেন, ‘এটা দেখে আমার ভীষণ খারাপ লেগেছিল।’ অভিনেত্রীর এই মন্তব্য থেকেই বোঝা যায়, ঘটনাটি তাঁর মনে কতটা প্রভাব ফেলেছিল। বিগ বসের বাড়িতে থাকার সময়ের সেই ছোট্ট ঘটনাই তাই এখন তাঁর মনে থাকা অন্যতম খারাপ স্মৃতি। অন্যদিকে, নন্দিনীর সঙ্গে অশান্তি নিয়ে তিনি একই ভাবে আক্ষেপ প্রকাশ করেননি।

আরও পড়ুনঃ “যে রুদ্রাক্ষের মালা জপ করেন এবং দু’ঘণ্টা ধ্যান বা মেডিটেশন করেন, তাঁর মাথায় এমন নোংরামো ও রাগ থাকে নাকি?” “কখন সাধু, কখন ভণ্ড বুঝতে পারছি না!” ভাই-বোন বলে ডেকে পরক্ষণেই আবার নোংরা কথা? জিতু কমলকে নিশানা নন্দিনীর বাবার, রাজনন্দিনীকে সৌরভের বকুনি নিয়েও করলেন বড় দাবি?

বিগ বস বাংলার ঘর থেকে বেরিয়ে আসার পর এখন আর আগের মতো নিয়ম করে অনুষ্ঠানটি দেখছেন না সোহিনী। অভিনেত্রী জানিয়েছেন, বর্তমানে তাঁর বেশিরভাগ সময় পরিবারের সঙ্গেই কাটছে। তাই বিগ বস বাংলার প্রতিটি পর্ব নিয়ম করে দেখার মতো সময় বা আগ্রহ তাঁর এখন নেই। তবে মোবাইলে অনুষ্ঠানের কোনও ভিডিও চোখে পড়লে অবশ্যই তা দেখছেন তিনি। অর্থাৎ বিগ বসের সঙ্গে যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি তাঁর। কিন্তু ঘরে থাকার সময় যেভাবে প্রতিটি ঘটনা নিয়ে নজর রাখতেন, এখন আর সেভাবে অনুষ্ঠানটি অনুসরণ করছেন না। নিজের জীবনের পরবর্তী সময়টা পরিবার এবং কাছের মানুষদের সঙ্গেই কাটাতে চাইছেন সোহিনী। বিগ বসের অভিজ্ঞতার মধ্যে অশান্তির পাশাপাশি এই পোস্টারের ঘটনাটিও তাঁর মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। আর সেই কারণেই নন্দিনীর সঙ্গে ঝগড়া নয়, এই ঘটনাকেই সবচেয়ে খারাপ লাগার অভিজ্ঞতা হিসেবে মনে রেখেছেন তিনি।

You cannot copy content of this page