“সেই একই লাইন আর কতবার?” “দেশের সেবা করতে চাই, কথাটা বড্ড বস্তাপচা হয়ে গিয়েছে…নতুন কিছু ভাবুন, তাড়াতাড়ি স্ক্রিপ্ট রাইটার বদলান!” তৃণমূলের হয়ে যা বলেছিলেন, পাল্টি মে’রে বিজেপিতে যোগদান দিতেই সেই একই কথা কোয়েল মল্লিকের মুখে! রঞ্জিত-কন্যার নতুন রাজনৈতিক ইনিংসের শুরুতেই একাধিক প্রশ্নে বিঁধলেন শ্রীলেখা মিত্র?

অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিকের রাজনৈতিক জীবনে ফের বড়সড় পরিবর্তন এসেছে। তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন তিনি। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলে যোগ দিয়ে রাজ্যসভার সাংসদ হয়েছিলেন কোয়েল। তবে সেই রাজনৈতিক অধ্যায় বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের নির্বাচনী ফলাফল খারাপ হওয়ার পরই দলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের ছেদ ঘটে। মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দেন অভিনেত্রী। এরপর থেকেই তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে জল্পনা চলছিল। রবিবার জানা যায়, বিজেপি তাঁকে রাজ্যসভা উপনির্বাচনে প্রার্থী করছে। আর সোমবারই আনুষ্ঠানিকভাবে পদ্ম শিবিরে যোগ দিলেন তিনি।

কোয়েলের এই দলবদলের পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। সোমবার বিজেপির রাজ্য দফতরে দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক শশী অগ্নিহোত্রীর হাত থেকে উত্তরীয় গ্রহণ করে বিজেপির পতাকা হাতে তুলে নেন তিনি। এরপর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বক্তব্য রাখেন কোয়েল। তিনি জানান, তিনি সবার জন্য কাজ করতে চান এবং সবার মঙ্গল কামনা করেন। তাঁর কথায়, বাংলার উন্নয়নে কাজ করার লক্ষ্যেই রাজনীতিতে এসেছেন তিনি। পাশাপাশি নতুন সরকারের কাজেরও প্রশংসা করেন অভিনেত্রী। তাঁর দাবি, গত কয়েক মাস ধরে পশ্চিমবঙ্গে উন্নয়নের কাজ চলছে এবং তিনি এমন একটি দলের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে খুশি, যারা এই সময়ে উন্নয়নের কাজ ভালোভাবে করছে।

কোয়েলের এই বক্তব্যই এবার শ্রীলেখা মিত্রের নিশানায় এসেছে। বামমনস্ক হিসেবে পরিচিত অভিনেত্রী শ্রীলেখা এর আগেও একাধিক রাজনৈতিক বিষয়ে নিজের মত প্রকাশ করেছেন। এবার কোয়েলের ‘দেশের সেবা’ এবং মানুষের জন্য কাজ করার বক্তব্য নিয়ে ফেসবুকে সরাসরি কটাক্ষ করলেন তিনি। শ্রীলেখা লিখেছেন, “দেশের সেবা করতে চাই, etc etc… লাইনগুলো বড্ড বস্তাপচা হয়ে গিয়েছে। অন্য কিছু ভাবুন বা স্ক্রিপ্ট রাইটার বদলান।” অর্থাৎ কোয়েলের বক্তব্যকে নতুন কিছু না বলে পুরনো রাজনৈতিক কথাবার্তার মতোই মনে হয়েছে তাঁর। কোয়েলের তৃণমূলে যোগ দেওয়ার সময়ও তাঁর বক্তব্যে মানুষের জন্য কাজ করার একই ধরনের সুর ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই পুরনো বক্তব্যের সঙ্গে মিল খুঁজেই এবার কোয়েলকে বিঁধেছেন শ্রীলেখা।

শুধু শ্রীলেখা নন, কোয়েলের বিজেপিতে যোগদান নিয়ে কটাক্ষ করেছেন বং গাই ওরফে কিরণ দত্তও। তিনি কোয়েলের পদবির সঙ্গে মিল রেখে লিখেছেন, “কোয়েল পাখি কখনোই নিজের বাসায় ডিম পাড়ে না, এতে অবাক হওয়ার কি আছে!” ফলে অভিনেত্রীর দলবদল নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজনৈতিক বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। উল্লেখ্য, কোয়েল এর আগে তৃণমূলের হয়ে রাজ্যসভার সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং ৬ এপ্রিল সাংসদ হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। কিন্তু ১৬ জুলাই সেই পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি। এরপর সোমবার বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি নিজের ছেড়ে যাওয়া রাজ্যসভার আসনের উপনির্বাচনের জন্য মনোনয়নও জমা দিয়েছেন। ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান বদল এখন চর্চার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুনঃ ‘বিগ বস বাংলার কিং’ রাজবীরের জন্মদিনে নন্দিনীর মায়ের বিশেষ শুভেচ্ছা বার্তা ভাইরাল! আগেই করিয়েছেন হাতে ‘রাজনন্দিনী’ ট্যাটু, এবার দিলেন কোন চমক? উস্কে দিলেন মেয়ের বিয়ের জল্পনা?

এদিকে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর কোয়েলকে নিয়ে শুধু বিরোধীদের নয়, রাজনৈতিক মহলের নানা অংশের মধ্যেও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে বিজেপিতে যোগ দেওয়াকে কেন্দ্র করেই তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। এর আগে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার সময় কোয়েল এবং তাঁর বাবা অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিককে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা করতে দেখা গিয়েছিল। এবার বিজেপিতে যোগ দিয়ে নতুন সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের প্রশংসা করেছেন কোয়েল। অন্যদিকে শ্রীলেখার কটাক্ষ এবং কিরণ দত্তের মন্তব্য সেই দলবদল বিতর্ককে আরও সামনে নিয়ে এসেছে। ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তৃণমূল ঘনিষ্ঠদের বিজেপি বা বিজেপির শরিক হিসেবে চিহ্নিত দলগুলিতে যোগ দেওয়া নিয়েও ক্ষোভ দেখা যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

You cannot copy content of this page