বাংলার বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ অভিনেতা শুভাশিস মুখোপাধ্যায়। দীর্ঘদিন ধরে বাংলা সিনেমা ও ছোট পর্দায় নিজের অভিনয়ের ছাপ রেখেছেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি বাঙালির পুজো, মহালয়া এবং পুরনো কলকাতার স্মৃতির সঙ্গেও জড়িয়ে রয়েছে তাঁর আবেগ। বর্তমানে ধারাবাহিক ‘সংকীর্তন’-এর শুটিং নিয়ে ব্যস্ত অভিনেতা। পুজোর আবহে এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে নিজের কাজ, দুর্গাপুজোর পুরনো দিনের স্মৃতি, বাংলা ছবির মুক্তি ঘিরে প্রতিযোগিতা এবং মহালয়ার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা নস্টালজিয়া নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি। সেই কথার মধ্যেই উঠে এসেছে বাংলা চলচ্চিত্র জগতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর কিছু গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ।
পুজোয় একসঙ্গে একাধিক বাংলা ছবি মুক্তি পাওয়ার প্রসঙ্গে শুভাশিসের বক্তব্য, আগে ছবি মুক্তি ঘিরে যে উন্মাদনা ছিল, বর্তমানে তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অপ্রয়োজনীয় প্রতিযোগিতা। তাঁর কথায়, “পুজো নিয়ে সেই সময় যে উন্মাদনাটা ছিল, এখন বড় উন্মাদনার থেকে বেশি কাদা ছোড়াছুড়িটা বেশি।” কোন ছবি কতগুলি প্রেক্ষাগৃহ পেল, কার ছবি আগে মুক্তি পাবে, তা নিয়ে বিবাদ হওয়ায় হতাশ অভিনেতা। তিনি মনে করেন, একটি ছবির ব্যবসা ভালো হওয়া যেমন আনন্দের, তেমনই অন্যের ছবি খারাপ ব্যবসা করলে তা নিয়ে উল্লাস করার কোনও অর্থ নেই। বরং অন্যের ছবি ভালো না চললে গোটা বাংলা চলচ্চিত্র জগতের কথা ভেবে চিন্তিত হওয়া উচিত। তাঁর মতে, একটি ছবি সফল হওয়া মানে গোটা শিল্পেরই এগিয়ে যাওয়া। তাই একে অপরের পাশে দাঁড়ানো জরুরি।
দুর্গাপুজোর সাবেকি রূপ নিয়েও নিজের মতামত জানিয়েছেন শুভাশিস। থিমের পুজোয় শিল্পের প্রকাশকে অস্বীকার না করলেও দেবী দুর্গার চিরাচরিত রূপ বদলে দেওয়া তাঁর পছন্দ নয়। অভিনেতার কথায়, “থিম পুজোটাও যে খারাপ, আমি তা বলব না। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি লাগে। মায়ের মূর্তি, মায়ের রূপটা কিন্তু সেই আগে যা ছিল, আমি বরাবর সেটা দেখতেই পছন্দ করি।” দেবীর সাজসজ্জায় পরিবর্তন নিয়ে আপত্তি না থাকলেও মায়ের মূল রূপের পরিবর্তন তাঁকে কষ্ট দেয়। অন্যদিকে, উত্তর কলকাতায় বেড়ে ওঠা অভিনেতার কাছে দুর্গাপুজো মানেই মামার বাড়ির স্মৃতি। বর্তমানে ‘সংকীর্তন’ ধারাবাহিকের পুজোর পর্বের শুটিং করতে গিয়ে নিজের পুরনো দিনগুলোর কথা মনে পড়ছে তাঁর। ধারাবাহিকের বনেদি বাড়ির পরিবেশ তাঁকে নিজের পরিবারের পুজোর স্মৃতির কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
তবে শুভাশিসের সাক্ষাৎকারের অন্যতম আকর্ষণ মহালয়া ও উত্তম কুমারকে নিয়ে তাঁর বক্তব্য। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে মহিষাসুরমর্দিনী শোনার আবেগ যে আজও বাঙালির কাছে অমলিন, তা মনে করিয়ে দিয়েছেন অভিনেতা। তাঁর মতে, এই অনুষ্ঠান বাঙালির সংস্কৃতির সঙ্গে এমনভাবে জড়িয়ে রয়েছে যে এর সুর ও স্তোত্রপাঠ শুনলেই পুজোর গন্ধ পাওয়া যায়। নতুন প্রজন্মও এই ঐতিহ্যের প্রতি আকৃষ্ট বলে মনে করেন তিনি। এই প্রসঙ্গেই উত্তম কুমারের একটি অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন শুভাশিস। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, একবার উত্তম কুমার বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের মতো মহালয়া পাঠ করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু সেই প্রয়াস সফল হয়নি। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “সারাজীবন উত্তম কুমার খুব একটা পরাজিত হননি তাঁর কেরিয়ারে। কিন্তু একবার একজন মানুষের কাছে তিনি পরাজয় স্বীকার করেছিলেন, এই বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কাছে।” অভিনেতার কথায়, অনুষ্ঠান শেষে উত্তম কুমারকে প্রশংসা করা হলে তিনি নাকি বলেছিলেন, সবই বুঝলেন, কিন্তু পুজো এল কি না! এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে মহালয়ার সঙ্গে বাঙালির গভীর আবেগের কথাই বোঝাতে চেয়েছেন শুভাশিস।
আরও পড়ুনঃ “আমি এই সপ্তাহে বেঁচে গেলে কপালে দুঃখ আছে” নমিনেশনের পর হুঙ্কার সৃজলার! ভরতের বিদায়ে নন্দিনীর সঙ্গে ঘুচেছে দূরত্ব, বিগ বসের ঘরে এবার কাদের বিরুদ্ধে ‘খেলা ঘোরানোর’ প্রস্তুতি নায়িকার?
রাজনীতির পালাবদল তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে বিশেষ প্রভাব ফেলেনি বলেও জানিয়েছেন অভিনেতা। প্রত্যক্ষভাবে কাউকে আঘাত করা বা কটু কথা বলার পক্ষপাতী নন তিনি। অন্যদিকে, এবারের পুজোয় কাজের ব্যস্ততার কারণে শান্তিনিকেতনে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও কলকাতাতেই সময় কাটানোর সম্ভাবনা রয়েছে তাঁর। স্ত্রী ইশিতার সঙ্গে বাড়িতে আনন্দ করে সময় কাটাতে চান তিনি। সব মিলিয়ে, শুভাশিসের কথায় উঠে এসেছে বাংলা চলচ্চিত্রের পারস্পরিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা, দুর্গাপুজোর ঐতিহ্য রক্ষার ভাবনা এবং মহালয়াকে ঘিরে বাঙালির চিরন্তন আবেগ।






“আমি তো সিঙ্গেল, আমার তো বর নেই!” অবিবাহিত হয়েও সিঁথিভরা সিঁদুর, হাতে মোটা শাঁখা-পলা! লক্ষ্মীপুজোয় প্রসেনজিতের বোন পল্লবী চট্টোপাধ্যায়ের এমন সাজ ঘিরে তুমুল চর্চা, স্বামী না থাকলেও কেন বিবাহিত নারীর মতো সেজে থাকেন অভিনেত্রী? নিজেই করলেন ফাঁস, এই বিশেষ পছন্দের নেপথ্যে রয়েছে কোন কারণ?